তারাগঞ্জে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্তদের ২০০ টাকা কর্তনের বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক

খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
রংপুর-২ আসনের তারাগঞ্জ উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট-২০২৬-এ দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানি থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, এটি বিধিবহির্ভূত কিন্তু ইউএনও মোনাব্বর হোসেনের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে বলা হচ্ছে যে কর্তনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সরকারি আর্থিক বিধান অনুসারে সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক।

জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৩টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪৮৮ জন পোলিং অফিসারের সম্মানি বিতরণের সময় এই কর্তন হয়েছে যার পরিমাণ মোট প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য এবং কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের যাতায়াত ভাতা পরিশোধের মাস্টার রোলে স্পষ্টভাবে ২০০ টাকা কর্তনের পরিমাণ উল্লেখ করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারের সম্মানী ভাতা বরাদ্দের ৮০০০ টাকার মধ্যে ১০ শতাংশ উৎস কর কর্তন করে ৭২০০ টাকা, একই হারে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬০০০ টাকা, কর্তনের পর ৫৪০০ টাকা, পোলিং অফিসারদের ৪০০০ টাকার মধ্যে ৩৬০০ টাকা দেওয়া হয়েছে । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাগণের সম্মানী ভাতা পরিশোধের মাস্টার রোলেও সেই পরিমাণই উল্লেখ করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে কর্তন করে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণই উল্লেখ করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, যা নিয়মমাফিক।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এবং ভ্যাট অ্যাক্ট ২০২৩-এর যাচাই করে দেখা গেছে, সম্মানি বা ভাতায় আয়কর, পরিবহন ব্যয়ে ভ্যাট কর্তনের নিয়ম রয়েছে, যা সারাদেশে প্রযোজ্য।

যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন জানান, “এটি সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক বিধানে সম্মানি ভাতায় ১০ শতাংশ আয়কর, অন্যান্য মনিহারি খাতে ৫ শতাংশ আয়কর এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আইটি কর্তনের নিয়ম রয়েছে। এনবিআরের ২৭ মে প্রজ্ঞাপনে পণ্য ও সেবা কোডের আওতায় পরিবহন ব্যয়সহ এটি স্পষ্ট।”

তিনি যোগ করেন, “সাংবাদিক ভাইয়েরা না বুঝে বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি লিখেছেন । পূর্ণ বরাদ্দ লিখে কম টাকা দিলে অনিয়ম হতো।”

দেরিতে টাকা জমা দেওয়ার সময় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “সার্বিক হিসাব নিকাশ শেষে একসঙ্গে অবশিষ্ট অর্থ জমা দেওয়া হয়, এতে তাড়াহুড়োর কোনো প্রশ্ন নেই। সাংবাদিক ভাইয়েরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলোচনা করলেও, টাকা সকালেই জমা দেওয়া হয়েছে।”

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *