সুন্দরবনে দ-স্যু তৎপরতা বঙ্গোপসাগর থেকে ২০ জেলে অ-পহরণ

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন–এর উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগর–এ পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অন্তত চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সংলগ্ন সাগর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের বেপরোয়া তৎপরতায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নারিকেলবাড়ীয়া চরে ৮ জেলে অপহরণ

পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোবাইল ফোনে জানান, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।

অপহৃতরা হলেন— হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। তাঁদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।

আমবাড়ীয়ার খাড়িতে আরও ১২ জেলে অপহরণ

এছাড়া একই রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলে বহরে বনদস্যু সুমন-জাহাঙ্গীর বাহিনী হানা দেয়। দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদের দাবি, অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোল এলাকার ১২ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন— কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রুপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাঁদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দ্রুত দমন করা না গেলে অনেক জেলে পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।”

টহল জোরদারের নির্দেশ

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ–এর শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপকূলজুড়ে বনদস্যুদের এমন দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনকেন্দ্রিক জীবিকানির্ভর হাজারো জেলে পরিবার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত অপহৃতদের উদ্ধারে কার্যকর অভিযান ও দস্যু দমনের জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।#

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *