অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি জীবনের , প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়? মিরপুরে ক্ষো-ভ

সুমন খান:

ঢাকার মিরপুর এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টার থেকে বেঁচে যাওয়া বা অব্যবহৃত খাবারগুলো পুনরায় গরম করে, রঙ,মসলার ছলে ফুটপাতের সামনে বিক্রি করা হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। মালিক এই জীবনের ক্যানভাসের মাধ্যমে মাইক দিয়ে সোশ্যাল মিলিয়ে ইউটিউবে দিয়ে নিয়ে প্রচারণে লিপ্ত থাকেন এই জীবন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,অনুষ্ঠান শেষে বেঁচে যাওয়া ভাত, মাংস ও অন্যান্য খাবারগুলোকে সংগ্রহ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এটি জ্বালাই হিট/জাল আগুনে গরম করছে।গরম করার পর রঙ, মসলা ও খাদ্য সাজানোর উপকরণ ব্যবহার করে ফুটপাতেই খাবার পরিবেশন করছেন।সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এসব খাবার বিক্রির জন্য ফুটপাত, ফুটপাথের সামনে বা রাস্তাঘাটে অবস্থান দেখা যায়।এমন পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা খাদ্য পচা বা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকে, যা ফুড পয়জনিং বা পেটের সংক্রমণসহ গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং প্রস্তুতকারকদের দায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন যে অপরিষ্কার পরিবেশে খাবার তৈরি বা সংরক্ষণ করা ফুড পয়জনিং, হজমজনিত সমস্যা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ভাইরাল সংক্রমণ ও অন্যান্য খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বিশেষ করে বাসি খাবার গরম করার পরও ব্যাকটেরিয়ার টক্সিন সহজে নষ্ট হয় না, যা শরীরে প্রবেশ করলে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকা শহরের অন্যান্য অঞ্চলে যেমন ফুটপাতের অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে আইনি নোটিশ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন দপ্তর এগিয়ে এসেছে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে। ২০২৩ সালে রাজধানীর ফুটপাতের খাবার বিক্রি বন্ধে আইনি নোটিশ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে। সিটি করপোরেশন অভিযান ও বাস্তব পরিস্থিতি
গত বছর ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাত, বিশেষত রূপনগর, মিরপুর-১ ও দুই ও ১০ এই ছয়,প্রত্যেকটি কমিটির সেন্টার এলাকা থেকে , এলাকায় সিটি করপোরেশন কর্তৃক দেওয়াল ভাঙচুর ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। এতে ফুটপাত ও ফুটপথে থাকা কিছু অস্থায়ী ব্যবসায়ী সরানো হলেও এই ধরনের ব্যবসায়ের মৌলিক সমস্যা সম্পূর্ণভাবে তলানিতে যায়নি।সরকারি মোবাইল কোর্ট ও খাবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অভিযানও ভাবে চালানো হয়, কিন্তু নিয়মিততা বা দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি নেই, বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। পূর্বে মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত–বিক্রির জন্য রেস্টুরেন্ট বা দোকানও জরিমানার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু ফুটপাতে চলমান অবৈধ ব্যবসা এখনো ব্যাপকভাবে বিরাজমান এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,সন্ধ্যা নামলেই ফুটপাতের সামনে জীবন নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা খাবার সাজিয়ে বিক্রি করেন। আমাদের শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও জ্বরের মতো সমস্যা বেড়েছে। বর্তমানে নিরাপদ খাদ্যের যথাযথ কোনো নজরদারি নেই।ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা কমিউনিটি সেন্টারের খাবার যে পুনরায় বিক্রি করা হয় তা শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয়; জীবন–মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি করছে।স্থানীয়রা নিম্নোক্ত ব্যবস্থা দাবি করছেন এলাকাবাসী ,নিয়মিত সিটি করপোরেশন ও খাদ্য নিরাপত্তা দায়িত্বরত দলগুলোর অভিযান।
কমিউনিটি সেন্টার,অনুষ্ঠান শেষে খাবার সংরক্ষণ ও অপচয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা।আইনি পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ। মিরপুরের এই ফুটপাত ‘বাসি অস্বাস্থ্যকর খাবার’ বিক্রির ঘটনা শুধু বাজারের অব্যবস্থাপনা নয় , এটি জনস্বাস্থ্যের একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। যথাযথ নজরদারি, প্রশাসনিক সহায়তা ও জনসচেতনতার অভাবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এটি ব্যবসায়ী ভোক্তা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর অভিযান ও স্থায়ী সমাধান আশা করা হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *