তানোরে কাঁ-টাতারের বেড়া দিয়ে স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ, ক্লাস না করে ফিরে গেলো শিক্ষার্থীরা

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) জুমারপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে কথিত চিকিৎসক রোকুনজ্জামান মোল্লা ওরফে মন্টু। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করে স্কুলে প্রবেশ করতে না পেরে ক্লাস না করেই ফেরত গেছেন প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, উপজেলার জুমারপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার পুত্র রোকুনউদ্দীন মোল্লা ওরফে মন্টু ডাক্তার। নির্বাচনের পরের দিন সকালে জোরপুর্বক কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্কুলে প্রবেশ করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান নেন।
বিষয়টি তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্ত্ত কোনো সমাধান করতে পারেন নি।এদিকে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরেই অবস্থা করছিলেন। কিন্ত্ত স্কুলে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে গেছেন।
অভিভাবকগণ বলেন, এর আগেও মন্টু ডাক্তার একবার স্কুলের প্রবেশ পথ ঘিরে দিয়েছিলেন।তৎকালীন ইউএনও লিয়াকত সালমান বেড়া ভেঙ্গে দিয়ে মন্টু ডাক্তারকে ভৎসনা করেছিলেন। তারা মন্টু ডাক্তারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে বলেন, তার জয়গা হলে স্কুল কিনে নিবেন। কিন্ত্ত স্কুলের প্রবেশ পথ বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে
কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে বাধাইড় ইউপির জুমারপাড়া গ্রামে স্থাপিত হয় ইউপির একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। মুন্ডমালা আমনুরা সড়কের পাকা রাস্তা থেকে ১১ফিট জমি রোকন উদ্দীন মোল্লা তার নিজের দাবি করে কাটা তারের বেড়া দিয়ে স্কুলের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেন।
এবিষয়ে জুমার পাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ইউরেকা খাতুন বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকা সড়কের ১১ ফিট জায়গা ছেড়ে বেড়া দিয়ে স্কুলের গেট করা হয়েছে। ওই ১১ ফিট জায়গায় দোকান ঘর করবে মর্মে রোকন উদ্দীন মোল্লা গেটে ঘিরে তার কাটার বেড়া দিয়ে স্কুলে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষকরা কেউ স্কুলে যেতে না পেরে গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বসে আছি। এসিল্যান্ড স্যার এসেও কোন ব্যবস্থা করতে পারলেন না।
এবিষয়ে তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব সংকর বসাক বলেন, ওই জায়গাটুকু রোকন উদ্দীন মোল্লার নিজস্ব সম্পত্তি সে স্কুলকে ব্যবহার করতে দিবে না মর্মে ঘিরে দিয়েছে। বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি গেট না খুলে দিয়ে চলে গেলেন। পরে, শিক্ষার্থীরা স্কুলের পেছনের একটি গলি দিয়ে স্কুলে গেলেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রোকুনদ্দিন মোল্লা ওরফে মন্টু ডাক্তার বলেন,তার জায়গা তিনি ঘিরে দিয়েছেন।#

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *