নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে।
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব। দু’জনই এবারের জাতীয় নির্বাচনে নতুন মুখ। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এরা ২০০৯ সালে লড়াই করেছিলেন। সেবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন ডা. ইকরামুল বারী টিপু। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে এলাকায় তাঁরা পরিচিত।
এছাড়া কাস্তে প্রতীকে ডা. ফজলুর রহমান (সিপিবি), লাঙল প্রতীকে আলতাফ হোসেন (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা প্রতীকে সোহবার হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরফানা বেগম ফেন্সি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির মতবিরোধ ও অন্তঃকলহ বিএনপির প্রার্থীর জন্য অনেকটা অস্তিত্বে রয়েছেন।বিশেষ করে বিএনপির সভাপতি ও হেভিওয়েট নেতৃত্ব আব্দুল মতিন মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তৃনমুলের নেতাকর্মীরা অনেকটা ক্ষুব্ধ। তারা এখানো জোরেশোরে টিপুর পক্ষে মাঠে নামেনি। তারা মতিনের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ঘটনা সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি।স্থানীয়রা বলছে, আগামিতে মতিনের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তারা গোপণে টিপুর বিপক্ষে কাজ করতে পারেন।যদি এমনটা হয় তাহলে টিপুর পক্ষে বিজয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে সেই অবস্থা বিরাজমান রয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মান্দা আসনটিকে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তারা সবদিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপিও আসনটিতে খুব শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দুই দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন ডা. ইকরামুল বারী টিপু, যিনি এ আসনে বিএনপির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে দলের ভিতরে মতবিরোধ ও কোন্দল তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিগত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আসনটিতে বরাবরই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির দাবি, এখানে তাদের ভোটার সমর্থন অনেক বেশি। অন্যদিকে জামায়াতও নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা বলছে। চলতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এই সমীকরণ আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিগত নির্বাচনী সমীক্ষায় জানাযায়, ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এ আসনে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন এবং ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত সামসুল আলম প্রামাণিক ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কফিল উদ্দিন সোনার লাঙল প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিককে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রহানি সুলতান মাহমুদ গামা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডা. ইকরামুল বারী টিপু রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বর্তমানে হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিবও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে পরিচিত। তাকে বিজয়ী করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে সিপিবি, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে এ আসনে ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে, আর শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে বিজয় সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভোটাররা।#
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ৬ প্রার্থী এগিয়ে দাঁ-ড়িপাল্লা

Leave a Reply