ময়মনসিংহের ১১আসনে১৩৬৫টি ভোট কেন্দ্রের সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের প্র-স্তুতি নিয়েছে প্রশাসন

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান বলেন- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে গৃহীত সার্বিক প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়-ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে তার মাঝে ৫৮৩ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে ৭৮২টি। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রেই বিশেষ নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তায় রাখা প্রয়োজন। পুলিশ সুপার জানান-প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমনেরও হুঁশিয়ারির কথাও জানান।

জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন ও গণভোট জনগণের আস্থার বিষয়। এ আস্থা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে শান্তিপুর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচনী কাজে বিএনসিসির সদস্যরাও সহযোগিতা করবেন বলে তিনি জানান।

পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা নির্বাচনকালীন তথ্যপ্রবাহ, সংবাদ সংগ্রহে সহযোগিতা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সভায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান-নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোরভাবে কাজ করছে পুলিশ।পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহীনী, র্যাব,বিজিবি, গোয়েন্দা বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। আশা করছি কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না,শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান-নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন। কোনও কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোরভাবে দমন করবে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।

সুত্র মতে যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ত্রিশাল ও ভালুকায়। উভয় উপজেলায় ৭২টি করে কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সদরে ৬৫টি এবং ময়মনসিংহ-১০ আসনে গফরগাঁওয়ের পাগলা থানায় ৫৮টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অন্য উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়িয়ায় ৫০টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭টি, নান্দাইলে ৪৩টি এবং গৌরীপুরে ৪২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হালুয়াঘাটের ২০টি, ধোবাউড়ায় ২৫টি, ফুলপুরে ১৯টি, তারাকান্দায় ২৯টি, মুক্তাগাছায় ১৯টি এবং গফরগাঁওয়ে ২২টি কেন্দ্র।

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনে মোট ভোটার ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৪১ জন। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া) আসনে ৭ জন, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর- তারাকান্দা) আসনে ৭ জন, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে ৯ জন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ৬ জন, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ৪ জন, ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ৬ জন, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ৯ জন ও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ৫ জন প্রার্থী মিলে ৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটাররা জানান, এই জেলার আসনগুলোতে বিএনপি, ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হতে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটকেন্দ্র শান্তিপূর্ণ থাকলে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটররা। এজন্য সবার প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *