পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসায় জা-ল জালিয়াতি কাগজপত্রে চাকরি করার অভি-যোগ উঠেছে

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় একাডেমিক সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জাল-জালিয়াতি করে এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার লিখিত অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়নের কালদাসপাড়া গ্রামের জহির উদ্দীন আহমদ এর ছেলে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করেন, একই গ্রামের মেনাজুল হকের ছেলে মো. তাহিরুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান নিয়োগের সময় ভুয়া কাগজপত্র জাল জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসছেন। তার এই ভুয়া কাগজপত্রের বিষয়টি ওই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বদরুজ্জামান অবহিত। অভিযোগে আরও জানা যায়, মাহফুজার রহমান বেতন ও ভাতা বাবদ সরকারি অংশ উত্তোলনের বিরবরণীতে যে জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন সেটি প্রকৃতপক্ষে ভুয়া। শুধু এনআইডি কার্ড নয় তিনি একাডেমিক সকল সার্টিফিকেট জাল জালিয়াতি করেছেন। জাল জালিয়াতির বিষয়ে গুরুত্বের সহিত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের প্রার্থনা জানানো হয়েছে তৎসঙ্গে সরেজমিনে উভয়পক্ষকে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানান অভিযোগকারী।

অভিযোগকারী তাহিরুল জানায়, শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্র্সাার এবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বাদী হয়ে তাদের কয়েকজনের নামে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত তেঁতুলিয়া পঞ্চগড়ে অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন। মামলা চলার সময় তিনি আদালতে মাহফুজারের এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসায় দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ এবং বেতন ও ভাতা বাবদ সরকারি অংশ উত্তোলনের বিবরণী শীট আদালতে দাখিল করেন। জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বেতন ও ভাতার শীটে মাহফুজার রহমানের জন্ম তারিখ দেওয়া আছে ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি। আদালত মামলা পর্যালোচনা শেষে একটি আদেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে মাহফুজার রহমানের কাগজপত্র পর্যালোচনা অন্তে প্রতিয়মান হয় যে, ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর মাহফুজার রহমান জন্ম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার মাদ্রাসায় নিয়োগ বিধিমালায় জন্ম তারিখ রয়েছে ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি। আদেশে আরো উল্লেখ আছে, মাহফুজার রহমানের ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম তারিখটি সঠিক নয়। যেহেতু উক্ত জন্ম তারিখ সঠিক নয়, সেহেতু উক্ত জন্ম পরিচয় তারিখের উপর ভিত্তি করে যে সমস্ত কাগজাদী সৃষ্টি বা অর্জিত হয়েছে তা সঠিক নয়। মাহফুজার রহমান ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি তারিখ দিয়ে এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে অবৈধভাবে চাকরি করে আসছে সেটা প্রকৃতভাবে অবৈধ। এজন্যই তিনি তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আশাবাদী সুষ্ঠ বিচার পাবেন। যদি তিনি সুষ্ঠ বিচার না পায়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনের শরানাপন্ন হবেন।

মাহফুজার রহমান বলেন, তার জন্ম তারিখ যেটা এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনে রয়েছে সেটাই সঠিক। তখন নাবালক হিসেবে জমি বেচাকেনা হয়েছে। সেই সময় জমি ক্রয় করতে তেমন জন্ম তারিখ প্রয়োজন হয়নি। আদালতে অভিযোগকারী না পেরে এখন চাকরিতে কোনো ব্যঘাত ঘটানো যায় কিনা সুযোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বদরুল আলম সরকার বলেন, জন্ম তারিখ আগপিছের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। মাহফুজার রহমান মাদ্রাসায় প্রদর্শিত সার্টিফিকেট দিয়েই চাকরি করে আসছেন। কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো শিক্ষককেই তিনি কোনোদিন জিজ্ঞাসা করেননি।

গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তদন্তে আসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শওকত আলীর কাছে কিছু জানার আগ্রহ প্রকাশ করার আগেই তিনি দেখেও না দেখার ভান করেন এবং তুই-তুকারি ভাষায় বলেন, তুই আমার বিরুদ্ধে লিখতে থাক। তবে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, ওই মাদ্রাসায় উভয়পক্ষকে নিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তে আদালতের আদেশে দেখেন ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর জন্ম গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় এবতেদায়ী শাখায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ বিধিমালায় জন্ম তারিখ রয়েছে ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, জাল জালিয়াতি কাগজপত্রে চাকরি একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা শেষ হলে তিনি নিজেও তদন্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন জানিয়েছেন।

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *