গোপালগঞ্জে এক কাপড় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, লক্ষাধিক টাকার মালামাল লু-টের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের নকড়িরচরে এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্বের জেরে এক কাপড় ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ব্যবসায়িক মালামাল লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ করে টার দিকে হামলা ও লুটপাটের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসীদের হাতুড়ি পেটায় গুরুতর আহত ভুক্তভোগীর নাম নাজমুল আলম বিশ্বাস। সে একই এলাকার মৃত নুরুল হক বিশ্বাসের ছেলে। ভুক্তভোগী নাজমুলের বক্তব্যে জানা যায়, গোপালগঞ্জ মোকাম থেকে সে তার দোকানের জন্য মালামাল ক্রয় করে ফেরার পথে নকড়িরচর সরদার বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তার কাছে থাকা দোকানের বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিস, কাপড় সহ অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে ভুক্তভোগী নাজমুল সাংবাদিকদের আরো বলেন, ওই এলাকার খল্লুম মল্লিকের ছেলে পলু মল্লিকের নেতৃত্বে হান্নান মল্লিকের ছেলে জয়নাল মল্লিক, পলু মল্লিকের ছেলে বিজয় মল্লিক, আসিফ সরদারের ছেলে ফয়সাল সরদার, নাসির সরদারের ছেলে ওসমান, মেহেদি, সাহেব মল্লিকের ছেলে মোত্তাকিন মল্লিক, মিন্টু মল্লিকের ছেলে মুরছালিন মল্লিক সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা তাদের হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে আমার বুক ও পিঠ সহ সমস্ত শরীরে আঘাত করে আমার ক্রয়কৃত মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বর্নি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দুই গ্রামের কিছু কিশোরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরদিন থেকেই পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হতে থাকে। ঘটনার পর থেকে বর্নি গ্রামের কাউকে নকড়িরচর এলাকায় পাওয়া গেলে মারধর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ইজি বাইকে থাকা যাত্রীদেরও হামলার শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী প্রশাসনের নিকট লুটে নেওয়া ব্যবসায়ীর সমস্ত মালামাল উদ্ধার সহ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *