ময়মনসিংহে জাপা থেকে প-দত্যাগ করে জামায়াতে যোগ দিলেন রওশন পন্থী নেতা সেলিম

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টি রওশন এরশাদ গ্রুপের ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল সেলিম। জাপা থেকে জনপ্রিয় ও জনাবান্ধব এই নেতার জামায়াতে ইসলামীতে তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে যোগদান করায় পাল্টে যাচ্ছে ১২ফেব্রুয়ারী ভোটের হিসাব নিকাশ। জামায়াতের ভোট ব্যাংকে যোগ হচ্ছে জাপা রওশন সমর্থিত নেতাকর্মীদের ভোট। এতে জামায়াতের প্রার্থীর ভোট বিপ্লবের আলোচনা চলছে সর্বমহলে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী ) দুপুরে মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা ও বেগম রওশন এরশাদের মুখপাত্র আব্দুল আউয়াল সেলিম জামায়াতের সহযোগী সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির শুরা সদস্য, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ও ময়মনসিংহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ সদরের সাবেক এমপি বিরোধী নেতার মুখপাত্র আব্দুল আউয়াল সেলিম
জামায়াতের সদস্য ফরম জমা দিয়েছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়াসহ দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে জাপার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে গত ৫আগস্টে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর রাজনীতির পালাবদলে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে জুলাই যোদ্ধা সাগর হত্যা মামলা হওয়ায় তিনি কিছুদিন জেল হাজতে ছিলেন। আগে তিনি জাতীয় পার্টি করলেও জামায়াতে ইসলামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।

জামায়াতে যোগদানের পর জাতীয় পার্টির থেকে পদত্যাগী নেতা আব্দুল আউয়াল সেলিম বলেন- আলহামদুলিল্লাহ, আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলে যোগদান করে নিজেকে গর্বিত করলাম। দোয়া করবেন সকলে,আমি যেন জামায়াতের আদর্শকে বুকে ধারণা আগামীতে পথ চলতে পারি এবং জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে এগিয়ে নিতে পারি।

এ বিষয়ে আব্দুল আউয়াল সেলিম বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এখন স্বাধীনভাবে চলতে পারছে না। আমরা পল্লী বন্ধুর আদর্শের অনুসরণ করে যে জাতীয় পার্টি করতাম সেই জাতীয় পার্টি আর মেই , বর্তমান জাপা আগের জাপা নয়। তিনি বলেন-জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আমাদের ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান, ময়মনসিংহবাসীর গর্ব ও অহংকার বেগম রওশন এমপির স্নেহ মমতায় জাতীয় পার্টিতে শ্রম দিয়েছি কারণ তিনি আমাদের অনেক স্নেহ করতেন, আমাদের এই জেলার সন্তান, তিনি আমাকে আদর স্নেহে তিলে তিলে গড়ে তুলে ময়মনসিংহের জাপার রাজনীতিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এজন্য উনার প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন আমি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ছিলাম,
ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে জাপার রাজনীতিতে এসেছিলাম। বেগম রওশন এরশাদ মহোদয় আমাকে আদর করে- স্নেহ করে-বিশ্বাস করে দীর্ঘদিন তিনি আমাকে তার মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্বে রেখেছেন এজন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। জাতীয় পার্টিতে থাকাবস্থায় জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছি তবুও দল ত্যাগ করিনি আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ ও আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ ও সততা ও কর্মীবান্ধবতায় মুগ্ধ হয়ে। আর বর্তমানে জাতীয় পার্টি আগের সেই অবস্থানে নেই বলেই আব্দুল আওয়াল সেলিম জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন-জামায়াতের কার্যক্রম ও সংগঠন ভালো লেগেছে। আমি কোনো পদ-পদবি চাইনি, শুধু সহযোগী সদস্য হিসেবে আছি। বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের প্রতি আগে থেকেই অনীহা ছিল। তাদের রাজনীতি আমার পছন্দ নয়। গত ৫ আগস্টের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিহত সাগর হত্যা কান্ডের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা না থাকা সত্বেও একটি দলের রাজনৈতিক চক্রান্তে আমি আসামী হয়ে দীর্ঘ দিন জেল খেটেছি। আমি অসুস্থ মানুষ, এরপরেও আমাকে মিথ্যা বানোয়াট একটি মামলায় আসামী করায় আমি হত্যা মামলায় জেল হাজতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে আরও বেশী অসুস্থ পড়েছি। তাই সবদিক চিন্তাভাবনা করে আমি আমার প্রিয় মানুষ জামায়াত নেতা কামরুল আহসান এমরুলের মাধ্যমে দলে যোগ দিয়েছি।

জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আমির ও ময়মনসিংহ-৪,আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, আব্দুল আউয়াল সেলিম সদস্য হয়েছেন,বৃহস্পতিবার দুপুরে আমি তার কেওয়াট খালীস্থ বাসায় গিয়ে জাপার পদ থেকে পদত্যাগ পত্র পেয়েই যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।

আব্দুল আউয়াল সেলিম দীর্ঘদিন সদরের সাবেক এমপি ও বিরোধী দলীয় নেতা নেগম রওশন এরশাদ এমপির বিশ্বাস্ত আস্থাভাজন হিসাবে তার মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্বে থেকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে প্রতিটি ও সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে তার ব্যাপক যোগ্যতা রয়েছে। ময়মনসিংহ সদরে রওশন এরশাদ এমপি থাকলেও তিনি ময়মনসিংহে আসতে পারেননি,ফলে আব্দুল আউয়াল সেলিম দীর্ঘদিন এমপির প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজ,জনসেবা, গরীব অসহায় মানুষকে সহযোগীতা দেওয়ায় তার রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। জামায়াতে ইসলামীতে তার যোগদানে সেই ভোট গুলোকে জামায়াতের কব্জায় আনতে পারবেন এবং এতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সেলিমের কারিশমায় জামায়াতে ইসলামীর ভোট বিপ্লব ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন ময়মনসিংহের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াত ইসলামীতে যোগ দিয়ে আব্দুল আউয়াল সেলিম যুগ উপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন মন্তব্য করছেন বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা। তার যোগদানে জামায়াতে ইসলামী একজন জনবান্ধব ও জনতার নেতাকে হাতে পেলেন বলেও আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। তার যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার আরো অন্যান্য সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীরাও জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও আরেকটি সুত্র জানিয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *