আমরা দুর্নী-তি করব না, কোনো দুর্নী-তিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না, জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুর

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না। সকলের জন্য ন্যয় বিচার হবে, এখানে কেউ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওয়াদা করতে হবে। এই তিন শর্তে যারা একমত হয়েছে তারা আমরা ১১ দলে একত্রিত হয়েছি। আমাদের ১১ দলে কোনো প্রার্থীর মাঝে কোনো ব্যাংক ডাকাত নাই। চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি, মামলাবাজ, নারী নির্যাতনকারী, মানুষের অধিকার হরণকারী নাই। আমরা বেছে বেছে গুণে গুণে চেষ্টা করেছি। আমরা আগামীতে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ (মহিষালবাড়ি) মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি হ্যাক করে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামায়াতের আমির ডা শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত কয়েক দিনে আমার ওপর ‘মিসাইল’ (রাজনৈতিক আক্রমণ) নিক্ষেপ করা হয়েছে, তার জবাবে ‘এন্টি-মিসাইল’ ছুঁড়ব না। বরং আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে গোলাম করে রাখতে চায় তারাই এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে জামায়াতের সাইবার টিম শনাক্ত করেছে এবং জড়িতদের আটকও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির বাক পরিবর্তন এবং জাতিকে সঠিক পথে উঠানোর নির্বাচন। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে চব্বিশ এনে দিয়েছিল আমাদেরকে, তাদের অনেকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাই আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচার চাই। এই বাংলাদেশ হবে নতুন বাংলাদেশ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘তাহলে কি এই সীমানা বড় হয়ে যাবে নাকি এখন ? না, সীমানা ঠিক থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশকে বাংলাদেশের মতো করে সাজানো হবে। অনেকে বলে, এটা সিঙ্গাপুর হবে, কানাডা হবে। আমরা বলি না, এটা উত্তম বাংলাদেশ হবে। যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ বলবে- আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন বাংলাদেশী। আরও সহজভাবে বলবে আমিই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা সে বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে শিশু, বৃদ্ধ, আবাল বনিতা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে আমার মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে, সমাজ তাদের মর্যাদা দেবে সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি। আমরা সেই শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেই শিক্ষাব্যবস্থা লড়াকু একজন সৈনিক তৈরি করবে যে দেশটাকে গড়ে দেবে। আমাদের যুবকেরা কারও কাছে বেকার ভাতা চায় না।আমরা ওয়াদাবদ্ধ। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দেব।’
অপরাধ করলে সবার সমান সাজা হবে, এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন বিচারব্যবস্থা আমরা চাই, যে বিচারে একজন সাধারণ মানুষের কোনো অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে; দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি একই অপরাধ করে; বিচার তাকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। একই শাস্তির আওতায় তাকে আনা হবে। আনতে বাধ্য করা হবে। ন্যয়বিচার যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণ সকল ক্ষেত্রে তাদের অধিকার পেয়ে যাবে। এই বাংলাদেশে কোনো অভদ্র, কোনো দুষ্টু, কোনো বেয়াদব আমার মায়েদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস পাবে না। ওই বাংলাদেশ যেখানে ধর্মবর্ণ, জাত-পাতে ভেদাভেদ করে বাংলাদেশটাকে আর টুকরো টুকরো করতে দেব না। এই বাংলাদেশ হবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘কর্মস্থলে যে সমস্ত মায়েরা বোনেরা কাজ করেন; তাদের জন্য বেবি কেয়ার, ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জায়গায় জায়গায়। শিল্প এবং ঘন এলাকায় তাদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। রাষ্ট্রকে তারা দিয়েই যাবে, আর তাদের মূল্যায়ন রাষ্ট্র করবে না এটা হতে পারে না। এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি করবে না। শ্রমিক না চাইতেই তার দাবি পৌঁছে দিতে হবে। এই নীতিমালার ভিত্তিতে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।’
জনসভায় হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ। দ্বিতীয় ভোট দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা।’
জনসভায় তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক। এতে গোদাগাড়ী-তানোরের নেতা ও কর্মীসমর্থকগন অংশ নেন। এই জনসভায় নারী কর্মীদের জন্যও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।#

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *