ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে অসহায় বিধবা আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বাড়িতে অ-গ্নি সংযোগ করেছে দু-ষ্কৃতীরা

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।
স্টাফ রিপোর্টার।।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে অসহায় বিধবা আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করেছে দুষ্কৃতীরা ৩ (ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি বিধবা মহিলার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা।তবে ঘটনাটি ঘটেছে রানীশংকৈল উপজেলার ৩ নং হোসেন গ্রামের জেব্রা পুকুর আদিবাসী গ্রাম এলাকায়।
৪ (ফেব্রুয়ারি) বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এলাকার মানুষদের সাথে আগুন কিভাবে লাগলো কারা আগুন দিয়েছে এই বিষয়ে জানাতে চাওয়া হলো তারা বলেন, আমরা তো সবাই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম আমরা এই বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ভুল্লী মুরমুর বাড়িটা আগুন পুড়ে কয়লার মতো ছাই হয়ে গেছে। দেখে আমার সবাই ভয় পেয়েছে কারা আমাদের মতো দিনমজুর অসহায় মানুষদের এত বড় ক্ষতি করে দিলো। আমরা তো কোন দিন কারো কোন ক্ষতি করিনি। তাহলে কেনো আমাদের উপর এই হামলা হলো আমরা এটার বিচার চাই। আজকে ভুল্লী মতো বিধবা মহিলার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কালকে যে আমাদের বাড়িঘরে এবং আমাদের মা বোনদের উপর হামলা হবে না তার কি গ্যারন্টি আছে বলেন। আপনারা তো সাংবাদিক! আপনারা তো লেখালেখি করেন খবরের কাগজে আপনারা আজকে এটা লিখবেন ঠিক আছে এটা দেখে ইউএনও, ডিসি, স্যার আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কিছু শুকনা খাবার আর বাড়িতে মেরামত করার জন্য টাকা পয়সা দিতে পারে আর কিছু না। আমরা এই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু উপজাতিরা নিরাপত্তা চাইতেছি সরকারের কাছে। না হলে একদিন এই বাংলাদেশে উপজাতি শূন্য হয়ে যেতে পারে বলে আমরা সবাই মনে করি।
এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী ভুল্লী মুরমুর কাছে জানাতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি রাতে খাওয়া দাওয়া করে বাড়িতে ঘুমিয়ে গেছিলাম ছেল মেয়ে নিয়ে। আমার ঘরের পাসের ঘরটা আমার ভাইয়ের মধ্যে রাতে হঠাৎ আমার ভাইয়ের চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ শুনতে পেলাম আগুন লেগেছে। উঠে দেখে আমার ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে কেহবা কাহারা চলে গেছে। আমি কোনরকম বেড়া কেটে আমার গরুগুলাকে বের করতে পেরেছি। কিন্তু আমার বাড়িতে থাকা রান্না করা সামগ্রী এবং কাপড়গুলা সব আগুনে পড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ নাই। আমার স্বামী ১০-১২ বছর আগে আমার ছেলে মেয়েরা ছোট থাকতে মারা গেছে। এখন আমার এত বড় ক্ষতি হয়ে গেলে কে দিবে আমার এই ক্ষতি পূরণ। উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসক ডিসি স্যারের কাছে আমার ক্ষতিপূরণ এবং সহযোগিতা চাইতেছি। আমি ছাড়া আমার পরিবারের ইনকাম করার মতো কেউ নেই আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন। না হলে আমার বাড়ি মেরামত করার মতো কোন টাকা পয়সা নেই। আমি দিন আনি দিন খাই।এবং তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *