ময়মনসিংহ ব্যুরো।।
ইউনাইটেড বাই ইউনিক’ এই প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রেডিওথেরাপি বিভাগের সামনে এসে শেষ হয়।
পরে রেডিওথেরাপি বিভাগের উদ্যোগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কেটে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খান।
রেডিওথেরাপি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. উম্মে জান্নাতুল আরা জিনিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ডা. মাইনুদ্দীন খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্যান্সার ও রেডিওথেরাপি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খান বলেন, প্রতিবছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হয়। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ক্যান্সার রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায় মানুষকে উৎসাহিত করা।
তিনি আরও বলেন, ক্যান্সার একটি বৈশ্বিক সমস্যা। উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল—কোনো দেশই এই রোগের বাইরে নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বিশ্বে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ক্যান্সার। প্রতিবছর প্রায় এক কোটি মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। তবে সচেতনতা ও সুষ্ঠু জীবনযাপনের মাধ্যমে এই রোগের একটি বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অধ্যাপক নাজমুল আলম খান বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। বর্তমানে দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১০৬ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৫৩ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মোট মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশ ক্যান্সারের কারণে ঘটছে।
তিনি জানান, দেশে বিদ্যমান ৩৮ ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে স্তন, মুখগহ্বর, পাকস্থলী, শ্বাসনালি ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি। ধূমপান, পান-জর্দা ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন, শাকসবজি ও ফলমূল কম খাওয়া, শারীরিক ব্যায়ামের অভাব, স্থূলতা, অতিবেগুনি রশ্মি, এক্স-রে রেডিয়েশন, কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং কিছু ভাইরাস ও জীবাণু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনুষ্ঠানে প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন, রেডিওথেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পাঠান, রেজিস্ট্রার ডা. বিউটি সাহা, মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদ জাবির, রেডিওথেরাপিস্ট ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম মাসুদসহ রেডিওথেরাপি বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply