ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
পাইকগাছায় কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। তবে মাঝখানে শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে বোরোর বীজতলা ও রোপনকৃত চারা টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের হিমশীম খেতে হয়েছে। এখন শীত একটু কমে যাওয়ায় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় কৃষকরা পুরদমে বোরো ধানের চারা রোপন শুরু করেছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৬ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরোর বীজতলা তৈরী হয়েছে ২৯৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরোর চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরাদমে বোরোর আবাদ করছে কৃষকরা।জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে উপকূল অঞ্চলের কৃষি কাজ অন্য এলাকা থেকে এক থেকে দেড়মাস পরে শুরু হয়। এর ফলে অন্য এলাকার সাথে উপকূলীয় এলাকার চাষাবাদ ব্যবধান তৈরী হচ্ছে। সব মৌসুমেই চাষাবাদ দেরিতে শুরু হচ্ছে। এখনো আমন ধান কর্তন চলছে। ধান কাটার পর এসব ক্ষেত বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হবে। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার সাথে মোকাবেলা করে ফসল লাগাতে হয়।উপজেলার হিতামপুর ব্লাকের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, মাঝখানের তীব্র শীত ও কুয়াশায় ধানের চারা কিছুটা লাল হয়েছিলো। পলিথিন দিয়ে ঢেকে,পানি বদলসহ নানারকম পরিচর্যা করে বীজতলা ও রোপনকৃত চারা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে শ্রমিকের উচ্চ মূল্যের পরও চাহিদামত বোরো আবাদ করার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বোরো আবাদ সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, মাঝখানে তীব্র শীত ও কুয়াশা পড়লেও বীজতলা কোন ক্ষতি হয়নি। তাছাড়া প্রতিদিন পানি বদল করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া বোরো আবাদের জন্য পুরাপুরি অনুকুলে রয়েছে। এসময় চারা রোপন করলে বোরোর আবাদ ভালো হবে।
পাইকগাছায় তী-ব্র শীত উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত চাষিরা

Leave a Reply