পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার আহবান সেনাপ্রধানের

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রবিবার (১ফেব্রুয়ারী) সকালে তিনি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সংক্রান্ত বিষয়ে ময়মনসিংহের উর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন।

মতবিনিময়কালে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও পরিদর্শনকালে তিনি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এসময় বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স বেইজ ময়মনসিংহের এয়ার অফিসার কমান্ডিং, সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব এবং সেনাসদর ও ময়মনসিংহ এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দের পাশাপাশি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী, এনডিসি, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ সাইফুর রহমানসহ বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে গৃহীত কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ সমূহের বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার
মোঃ সাইফুর রহমান।

এ সময় সেনাপ্রধান সেনাসদস্যদের চার দফা মূলনীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যএই চারটি নীতিই আমাদের দায়িত্ব পালনের মূল ভিত্তি। জনসাধারণের আস্থা অর্জনই সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় সাফল্য। তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সেনাসদস্যদের নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।

পরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে দেশের প্রথম ‘অলিম্পিক ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এসময় তিনি বলেন-এই প্রকল্পটি কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির একটি আঁতুড়ঘর। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখান থেকে গড়ে ওঠা খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে।

ত্রিশালে মতবিনিময় সভা শেষে সেনাপ্রধান ময়মনসিংহে মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কার্যক্রম সশরীরে পরিদর্শন করেন। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

উল্লেখ-বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় ১৭৩ একর জমির ওপর এই বিশাল ‘অলিম্পিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের জন্য আলাদা অনুশীলন সুবিধা এবং খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বমানের আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

প্রস্তাবিত এই অলিম্পিক ভিলেজটি বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেনা প্রধানের এই সফর দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকর মনে করেন ত্রিশালের অলিম্পিক ভিলেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *