রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সাদা জিরার চাষ শুরু হয়েছে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ অঞ্চলে জিরার চাষে সফলতার মুখ দেখবে বলে দাবি করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগেরি কর্মকর্তারা।
চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩ বিঘা বা ১ একর জমিতে জিরার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিঘা প্রতি জিরার গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১১০ কেজি। সেই হিসেবে ১ একর জমি থেকে প্রায় ৩৩০ কেজি জিরা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় এই মসলা চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।
২০২৩ ইং সালে প্রথমবার গোদাগাড়ী উপজেলায় ৩ জন কৃষক ১ বিঘা জমিতে ৩ টি প্রদর্শনি প্লটে জিরার আবাদ করেছিলেন এবং ভাল ফলন পেয়েছিলেন। একজনের ১০ শতক জমিতে ৪০ কেজি জিরা হয়েছিল ১৫শ টাকা কেজি বিক্রি করেছিল বলে চাষীরা জানিয়েছেন। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়া, সেচ সুবিধা তেমন না লাগা, জমির সহজলভ্যতা, অনুকূল আবহাওয়া, চাষ উপযোগী মাটি ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগীতার থাকায় এবার ১০ বিঘা জমিতে জিরা চাষ করা হয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার জানান, জিরা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় কৃষকরা সঠিকভাবেই এর চাষাবাদ করছেন। এবছর এ উপজেলার গোলায়, রাজবাড়ী, বিজয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০ বিঘা জমিতে জিরার চাষ করা হয়েছে।
৪টি প্রদর্শনী প্লট ছাড়াও জিরার চাষ করা হয়েছে । গোদাগাড়ীতে জিরা চাষকারী কৃষকরা হলেন, , গ্রাম – , দেওপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর এলাকার মো: সাব্বির হোসেন একই ইউনিয়নের গোলাই গ্রামের মো: জিয়ারুল ইসলাম, মাটিকাটা ইউপির মাজহারুল ইসলাম, বাসুদেবপুর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, গোগ্রাম ইউনিয়নের মোস্তফা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ উপজেলায় বেনিপুর, কাকনহাট কাদিপুর, গোগ্রাম এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে জিরার চাষ হয়েছে। চাষীরা তাদের ক্ষেত পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জিরা চাষি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, আগে টবে জিলা চাষ করেছিলাম। তাতে সফল হয়েছি। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এবার জমিতে প্রথম জিরা চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ দিয়েছিল। আবাদে খরচের জন্য ৪ হাজার টাকা দিয়েছে কৃষি অফিস। ১০ শতক জমিতে জিরা চাষ করেছিলাম এবং ৪৫ কেজি জিরা পেয়েছিলাম ২৬ টাকা কেজি বিক্রি করেছিলাম। এবার ইনসাল্লাহ বাম্পার ফলন হবে। ২৫ শ থেকে ২৮শ টাকা কেজি দাম পাওয়া যেতে পারে। ১ লাখ টাকা পাওয়া যেতে পারে। যে কোন ফসলের চেয়ে জিরা চাষ লাভজনক।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) উদ্ভাবিত দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল জাত ‘বারি জিরা-১’ চাষ করেই এই সফলতা এসেছে। এই জাতটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
উপযুক্ত মাটি: বেলে-দোঁআশ ও সুনিষ্কাশিত উর্বর মাটিতে এটি ভালো জন্মে। মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ৬০০-৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
জিরা মূলত একটি রবি শস্য যা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বপন করা হয়। হেক্টরপ্রতি মাত্র ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে সেচ ও সারের খরচ তুলনামূলক কম। এছাড়া বাজারে জিরার আকাশচুম্বী দাম থাকায় কৃষকরা হেক্টরপ্রতি মোটা অংকের মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, গোদাগাড়ীর মাটি ও আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য উপযোগি। মশলা হিসেবে জিরা বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য একটা সম্ভাবনাময় ফসল। আগামীতে এই মশলা ফসলটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে কৃষকদের মাঝে। এতে মশলার আমদানি নির্ভরতা কমবে। কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে যেমন তেমনী দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে নতুনদিগন্তের সূচনা হবে।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।

Leave a Reply