রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং সং-কটে কৃষক

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে সুস্ক মৌসুমের আগেই হঠাৎ বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিনরাত সমান তালে চলছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। এ লোডশেডিং চলে ঘন্টা থেকে শুরু করে দুই ঘন্টা পর্যন্ত। গ্রামঞ্চলে এর সংখ্যা আরো বেশি। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে সেচ কাজ ব্যবহত হচ্ছে। এতে কৃষকেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও জনজীবনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার জাতীয় নির্বাচনের কাজেও ব্যাঘাত হচ্ছে।
এছাড়াও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের লোডশেডিং- হচ্ছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ব্যবহত হচ্ছে চাষাবাদ। রবি শস্যর ভরা মৌসুম চলছে। মাঠে হাজার হাজার হেক্টর আলু চাষ হচ্ছে। শুরু হয়েছে বোরো রোপণ।এমন অবস্থায় বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং সময় মত সেচ দিতে না পেরে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা। এমন পর্যায়ে থাকলে ফসলের ফলন কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকেরা।
গত সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত্রি ৯টার মধ্যে কয়েক দফা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে বইসহ অন্যন্য জিনিসপত্র ফটোকপির করতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্নশ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়াও কম্পিউটার কেন্দ্রিক বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে পড়তে হয় অনেক বিড়ম্বনায়। অনেক অফিসে জেনারেটর বা আইপিএস না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে রবি ও সোমবার সকাল থেকে রাত ১০টার মধ্যে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন তানোর, গোদাগাড়ী,মোহনপুর বাগমারা, দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে কম পক্ষে ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং হয়েছে বলে অনেকে জানিয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র মতে, চাহিদার তুলনাই বিদ্যুৎ কম পাওয়াই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় এক লাখ ৭৯ হাজার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সেচ গ্রাহকের প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ মেগাওয়াট পর্যন্ত। জেলায় প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় গ্রামঞ্চলে লোডশেডিং থাকছে। তবে পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন লাইম্যান বলেন,রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদ কেন্দ্রে একটি ইউনিট পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া কয়লা সংকটে বিদ্যুত উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে উত্তরঞ্চলে লোডশেডিং সমস্যা তৈরি হয়েছে।
রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া মহল্লার জয়নাল নামের এক আলু চাষী জানান, সোমবার সকাল হতে তিনজন শ্রমিক দিয়ে ৩০ বিঘা আলুর জমিতে সেচ দিতে গিয়ে পুরো শ্রমিকের টাকায় লোকসান হয়েছে। কারণ দুইটি গভীর নলকূপে সেচ নিয়ে গিয়ে বিদ্যুতে লোডশেডিং কারণে সারাদিনে চার ঘন্টাও বিদ্যুৎ মিলেনি। মুন্ডুমালা বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও কাপড় ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান তুহিন বলেন, সারাদিনে অসংখ্যার বার লোডশেডিং হচ্ছে যার কারণে ব্যবসা কমে যাচ্ছে বাজারে।দ্রত বিদ্যুতের সমাধান চান ব্যবসায়ীরা। এমন বিদ্যুতের সম্যসা শুধু তানোরের কৃষক জয়নাল ও মুন্ডুমালা বাজারে নয়,জেলার হাজার হাজার কৃষকগণ ঘন লোডশেডিং এর জন্য সময় মত সেচ দিতে না পারাই বিপাকে পড়েছেন। আলু পেয়াজ ভুট্টা রসুন ও বোরো চাষে সময় মত সেচ দিতে পারছেন না।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (টেকনিক্যাল) সপ্তম সিপার বলেন,গ্রামঞ্চলে সামান্য কিচু লোডশেডিং হচ্ছে। সোমবার রাজশাহী পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতে চাহিদা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৫০ তাতে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতে ঘাটতি ছিল।#

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *