র‍্যাবের যৌথ অভিযানে রুপলাল ও প্রদীপ হ-ত্যা মা-মলার প্রধান আ-সামি মেহেদী ঢাকা থেকে গ্রে-ফতার

খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান পলাতক আসামি মেহেদী হাসানকে (৩০) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে র‍্যাব-১৩ (রংপুর) ও র‍্যাব-১০ (কেরাণীগঞ্জ)-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে। র‍্যাব জানিয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট সংঘটিত আলোচিত অরূপ লাল ও প্রদীপ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ,দীর্ঘদিন ঢাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন ।

জানা যায় ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুপলাল রবিদাস (৪০) মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ছরান বালুয়া এলাকার বাসিন্দা ও তার ভাতিজিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৫)। তারা দুজন একটি ভ্যানযোগে রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে রুপলালের বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

পথে স্থানীয় কিছু লোক তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও প্রদীপ দাসের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে। ওই ব্যাগে দুর্গন্ধযুক্ত একটি পানীয় (সম্ভবত মদ বা অনুরূপ কোনো তরল) পাওয়া যায়। দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজিত জনতা তাদের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় রুপলাল ও প্রদীপ দাসকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত প্রদীপ দাস কে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তিনিও মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত রুপলালের স্ত্রী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং গণপিটুনির ভয়াবহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ ও র‍্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ফলেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *