অপরিকল্পিত নগরায়ণে হু-মকিতে কুমিল্লা সচেতনতা থেকে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

তরিকুল ইসলাম, তরুণ
“অপরিকল্পিত নগরায়ণ; হুমকিতে কুমিল্লা—সচেতনতা থেকে সমন্বিত উদ্যোগ” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অ্যালায়েন্স ফর কেয়ার এন্ড ইকুইটি (এইস)-এর আয়োজনে নগরীর চকবাজারের একটি কনফারেন্স হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কুমিল্লার নগর সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর নীতি বাস্তবায়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ কেবল অবকাঠামোগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই সংকট মোকাবিলায় একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নগর পরিকল্পনাবিদ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বাপা’র কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কুমিল্লায় যত্রতত্র ভবন নির্মাণ, খাল ও জলাধার ভরাট, জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট, সবুজ উন্মুক্ত স্থান হ্রাস এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর অস্তিত্ব মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। এসব সমস্যা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং নগর ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতারই প্রতিফলন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্টজনেরা কুমিল্লার জন্য একটি হালনাগাদ ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, খাল ও জলাধার সংরক্ষণে জিরো টলারেন্স নীতি, আধুনিক ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।
এইস-এর প্রধান নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী বলেন, “এই গোলটেবিল বৈঠকের উদ্দেশ্য কেবল সমস্যা চিহ্নিত করা নয়; বরং বাস্তবসম্মত সমাধান ও নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করা। আলোচনায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।”
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফুল করীম, বার্ড-এর পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা, শিশু বিশেষজ্ঞ ও বিএমএ (কুমিল্লা)-এর সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার, বাপা (কুমিল্লা জেলা)-এর সভাপতি বদরুল হুদা জেনু ও সাধারণ সম্পাদক এবং কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ূন কবীর মাসউদ, সান মেডিকেল সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল লতিফ, সুজন (কুমিল্লা জেলা)-এর সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান টিটু, কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহমেদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য ও এখন টিভির ব্যুরো চিফ খালেদ সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রভাষক শামীম আহমেদ, ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক জিয়া উদ্দিন, বাসস-এর বিশেষ প্রতিনিধি হাসান কামরুল, সোহানুর রহমান সোহাগ, আব্দুর রহিম, হাসান মাহমুদ তারেক, সাইফুল ইসলাম সাইফ, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লাকে একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *