নেছারাবাদ সংবাদদাতা, পিরোজপুর।
বিভিন্ন নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেয়েছেন পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রিটের শুনানি শেষে বাংলাদেশ হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাহমুদ হোসেন বলেন, আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে তার প্রার্থিতা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান হয়েছে। তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, এই রায়ে তার সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
মাহমুদ হোসেন ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি পিরোজপুর জেলার প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার ভাতিজা।
২০২৩ সালে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন মাহমুদ হোসেন। দলটিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে আসছিলেন। নেতা কর্মিদের মামলা হামলার সময় পাশে দাড়িয়ে কর্মিদের আস্থা অর্জন করেছেন। নির্বাচনী এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দান-অনুদান এবং নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় তার নেতৃত্বে একটি শক্ত সমর্থন বলয় গড়ে ওঠে। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমনকে।
এরপর মাহমুদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। রিটার্নিং অফিসারের যাচাই-বাছাইয়ে প্রথমে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে এক শতাংশ ভোটার সমর্থনসংক্রান্ত গরমিলের কারণে সেখান থেকেও তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। সর্বশেষ উচ্চ আদালতে রিট করলে হাইকোর্ট তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
রায় প্রসঙ্গে মাহমুদ হোসেন বলেন,
“মহামান্য আদালত সত্যের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ রায় শুধু আমার একার নয়, পিরোজপুর-২ আসনের তৃণমূল পর্যায়ের লক্ষ লক্ষ মানুষের। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে এই সমর্থনই বিপুল ভোটে বিজয়ে রূপ নেবে।
আনোয়ার হোসেন
নেছারাবাদ সংবাদদাতা।।

Leave a Reply