সাভারে ভবঘুরের ছ-দ্মবেশে নৃ/শংস ৫ খু/ন-সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লো ‘সাইকো সম্রাট’

হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক মানুষের পোড়ানো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে থমকে গেছে, ঠিক তখন অভিযানে রহস্যের জট খুলে দিলো থানা পুলিশ। জানা যায়, ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক নীরব ঘাতক- মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬ইং) বিকেল সাড়ে ৩ টায় এই ঘাতক খুনিকে গ্রেফতার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২ টায় কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে নতুন করে পোড়ানো দুই লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভিতে প্রথম দেখা যায় যে খুনি, দেখে কেউই সন্দেহ করবে না-সেই ভবঘুরে বেশে ঘুরে বেড়ানো সম্রাটই যে, এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনের মূল হোতা, তা ছিলো কল্পনারও বাইরে। স্থানীয় এক সাংবাদিকের আগের দিনের করা একটি ভিডিও ও হত্যাকাণ্ডের দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজই বদলে দেয় সবকিছু।

পুলিশ জানায়, একটি ভিডিও ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনক ভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরার সময় ও অবস্থান মিলিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই ভবঘুরে ব্যক্তির দিকেই। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একই জায়গায় রবিবারের দুইটি হত্যাকাণ্ড, পূর্বের পৃথক তিনটিসহ মোট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে খুনি। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোমবার তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ।

একটি দায়িত্বশীল পুলিশ সূত্র জানায়, “লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয় এবং দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতাট করা সম্ভব হয়।”

এলাকাবাসী জানায়, সম্রাটকে সবাই ভবঘুরে হিসেবেই চিনতো। কখনো রাস্তায়, কখনো কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতো। তার মধ্যে যে এমন ভয়ংকর নৃশংসতা লুকিয়ে আছে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন যাকে দেখি রাস্তায় হাটাহাটি করতে, চুপচাপ বসে থাকতে, কখনো বিড়বিড় করে কথা বলতে, সেই লোক যে একের পর এক মানুষ হত্যা করেছে-এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

পরপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাভারজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা চরমে, তখন পুলিশের দ্রুত ও সাহসী অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন-এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সাভার মডেল থানার তদন্ত (ওসি) নুর মোহাম্মদ জানান, ৫ খুন ও ভিকটিমদের হত্যার পর লাশ পোড়িয়ে ফেলে হত্যাকারী। তবে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এইসব ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি একসময় ছিল আনন্দ ও মিলনের ঠিকানা, সেই জায়গাই এখন সাক্ষী রইলো একের পর এক ৫টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *