সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বিদ্যুৎ সংযোগের একটি ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রেজাউল করিম (৩০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বে অবহেলা ও খাম খেয়ালিপনার কারণে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় সলঙ্গা পল্লী বিদ্যুত অফিস সংশ্লিষ্টদের এমন ঘটনা ধামাচাপা ও তাদের এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সলঙ্গা ইউনিয়নের চৌবিলা গ্রামের মাঠে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত রেজাউল করিম চড়িয়া উজির শাওপাড়া গ্রামের মৃত ওমর আলী শেখের ছেলে।তিনি দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দিন মজুর,বিদ্যুৎ লাইনে গাছ কাটা,অফিস ঝাড়ু ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও লেবারের কাজ করে আসছিল।
স্থানীয়রা জানায়,রোববার সকালে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান আতিকের সঙ্গে লেবার হিসেবে রেজাউল করিম চৌবিলা উত্তরপাড়া মাছিডাঙ্গা বিলের মধ্যে ইরিগেশনে একটি শ্যালো মোটরের
ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনের কাজে যায়। সেখানে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যান আতিক বিদ্যুতের খুঁটিতে না ওঠে সহযোগী দিমজুর রেজাউলকে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠিয়ে দেয়।
কাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে বলে আতিক জানায়।তবে দুর্ভাগ্যবশত: লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকায় রেজাউল করিম উক্ত পোলে উঠলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।এমন দুর্ঘটনার পর আতিক দ্রুত বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খুঁটি থেকে রেজাউল করিমের নিথর লাশ নামানো হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সলঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের (ভারপ্রাপ্ত) এজিএম জিলাল এর সাথে একাধীক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।বিকেলে সলঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস গিয়েও অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার,(ভারপ্রাপ্ত) এজিএম জিলাল হোসেনের মুঠোফোনে সন্ধ্যার পর আবারো যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো বলেই ফোন কেটে দেন।
সলঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মনোজিৎ নন্দী জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করেছেন।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন এজিএম জিলাল হোসেন।মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।একজন পরিচ্ছন্নকর্মী,গাছ কাটা শ্রমিক,দিনমজুরকে কীভাবে ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজে বিদ্যুতের পোলে উঠিয়ে দেয়া হলো?কে দিবে এই তাজা প্রাণের বিচার?সলঙ্গা পল্লী বিদ্যুতের রয়েছে এমন অনেক অনিয়ম,দুর্নীতি,কাজে ফাঁকি ও অবহেলার অভিযোগ।মৃত ব্যক্তির পরিবারকে পল্লী বিদ্যুত অফিসে চাকরির আশ্বাস ও অর্থের বিনিময়ে এমন ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
সলঙ্গায় ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে বি-দ্যুৎস্পর্শে দিনমজুরের মৃ-ত্যু

Leave a Reply