হাইকোর্টের নি-র্দেশ অ-মান্য করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অ-বৈধ ইটভাটা চালু-পরিবেশ দূ-ষণে বি-পর্যস্ত জনজীবন

হেলাল শেখঃ হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার মাধ্যমে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে আশপাশের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমি চরম হুমকির মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, ডেমরা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটা বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, নেই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। কাঠ, পুরনো টায়ার ও নিম্নমানের কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়ায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক ক্ষতিকর কণিকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখে জ্বালা ও ত্বকজনিত রোগ দিন দিন বাড়ছে। অনেক এলাকায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গাছপালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, “ইটভাটার ছাই জমিতে পড়ে ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে।” উল্লেখ্য, দেশের পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্ট একাধিকবার অবৈধ ও পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির আশপাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, প্রশাসনের নিরবতা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকরা আইন অমান্য করে চলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বরত সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *