নেছারাবাদ সংবাদদাতা, পিরোজপুর।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ইন্দুরহাট মিয়ার হাট বন্দরের ব্রিজের ওপর থেকে এক নারী পথচারীকে কথিত ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা শয়তানের নিঃশ্বাস প্রয়োগ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মাইন্ড কন্ট্রোলের কৌশল ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে অসহায় করে এই লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটের দিকে ইন্দুরহাট মিয়ার হাট ব্রিজের ওপর ওই নারী প্রতারক চক্রের কবলে পড়েন। প্রথমে এক ব্যক্তি তার পথ আগলে ধরে এবং অপর একজন কথা বলার অনুরোধ জানায়। তিনি রাজি না হলে কৌশলে সামনে গিয়ে পথ রোধ করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ঘটনার সময় তার স্বাভাবিক বোধশক্তি কাজ করছিল না। তিনি বলেন, “আমি সবকিছু দেখছিলাম ও শুনছিলাম, কিন্তু কথা বলতে বা কারও সাহায্য চাইতে পারছিলাম না। বোবার মতো হয়ে গিয়েছিলাম। ওরা যা বলেছে আমি তাই করেছি।”
একপর্যায়ে প্রতারকরা তাকে ব্রিজ থেকে নামিয়ে মিয়ার হাটের নতুন রোডে নিয়ে যায়। কথাবার্তার ফাঁকে কখন যে তিনি নিজের স্বর্ণালংকার খুলে তাদের হাতে তুলে দেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
ব্রিজের ওপর অনেক লোক উপস্থিত থাকলেও তিনি কাউকে সহযোগিতার জন্য ডাকতে পারেননি।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর পরিবার নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং দুটি আলাদা তদন্ত টিম গঠন করেন।
প্রথম টিমে ছিলেন এসআই জহির (প্রথম) ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন।দ্বিতীয় টিমে ছিলেন ডিউটি অফিসার এসআই জিয়া ও এসআই জহির (দ্বিতীয়)। তারা পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলছেন এবং পাশে মধ্যবয়সী আরেক ব্যক্তি অবস্থান করছিল। স্বর্ণালংকার নেওয়ার পর তারা বিএনপি অফিসের সামনে দিয়ে ফাগুন ফ্যাশন ও আদর ফ্যাশনের গলি হয়ে পুরনো রোডের মাছ বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি দুপুর ১২টা ১৪ মিনিট থেকে ১২টা ২৬ মিনিটের মধ্যে, মাত্র ১০–১২ মিনিটে সংঘটিত হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, “আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় কথা, মা সুস্থ আছেন। শহরে এমন ঘটনা শুনেছি, কিন্তু গ্রাম এলাকায় ঘটায় আমরা আতঙ্কিত। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।” তারা আরও বলেন, সিসিটিভিতে অপরাধীদের স্পষ্টভাবে দেখা গেছে—পুলিশ ও সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করলে তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ইন্দুরহাট ও মিয়ার হাট মহিলা কলেজ থেকে মিয়ার হাট ব্রিজ এবং দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট থেকে আধুনিক গার্মেন্টস হয়ে মাছ বাজার পর্যন্ত এলাকার দোকানগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ দোকানদার ভাইয়েরা সহ উদ্যোগে যাচাই করে পুলিশের পাওয়া সিসি ফুটেজের সাথে মিলিয়ে দেখলে অপরাধীদের ধরতে সুবিধা হবে।
এদিকে মিয়ার হাট বন্দরের এক দোকানদার বলেন, “বন্দর কমিটির উদ্যোগে বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যেত। এর আগেও এখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।”
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। দুটি পৃথক টিম তদন্তে কাজ করছে। সবার সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
আনোয়ার হোসেন
নেছারাবাদ সংবাদদাতা, পিরোজপুর।

Leave a Reply