গোদাগাড়ীর চরআষাড়িয়াদহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০০ শতাধিক শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহীর বিধিনিষেধ কারণে শ শ শিক্ষার্থী অকালে ঝরে পড়ছে । শুধুমাত্র চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১২৪ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকায় থাকা মাত্র দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আসনসংকটের কারণে তারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। শিক্ষাবোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শাখাবিহীন স্কুলে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর বেশী ভর্তি করার সুযোগ না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষাথী ও অভিভাবকগণ বিপদে পড়েছেন।

পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট আটটি। এসব বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীরা সাধারণত দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয় ও চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তবে চলতি বছর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করায় সংকট তৈরি হয়েছে।

দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি এবং চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি শাখা থাকায় সর্বোচ্চ ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া সম্ভব। অথচ দুটি বিদ্যালয়ে মোট আবেদন জমা পড়ে ২৮৯টি। ফলে ১২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গোদাগাড়ী পৌরসভা ঘনবসতি হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী। প্রতিটি

হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ রতন আহমেদ জানান, আমার হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে প্রায় দুই শত শিক্ষার্থী। আমরা ৫৫জন ভর্তি করেছি। আর বাদবাকী শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রতিদিনই ফেরত যাচ্ছে। দূরের প্রতিষ্ঠানে তার ছেলে মেয়েকে ভর্তি করাতে চাচ্ছে না।

গোগ্রাম আদর্শ বহুমূখি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শহিদুল ইসলাম বলেন,
আমার স্কুলে ৫৫ জন ভর্তি করার পর আর নিতে পারছিনা। এলাকার একটি স্কুল গোদাগাড়ী পৌরসভার কথিত নতুন স্কুলের ছাত্র ছাত্রী তার স্কুলে ভর্তি দেখিয়ে রেজিষ্টেশন করেন। এতে দারুন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলি বন্ধ হওয়া জরুরী।

রাজবাড়ি হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান আমাদের স্কুলে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল কিন্তু পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৫ জনকে ভর্তি করেছি দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জন্য প্রতিদিন স্কুলে এসে ঝামেলা করছেন।

দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান একই অবস্থার কথা বলছেন। প্রথম শ্রেণীর গোদাগাড়ী পৌরসভা ঘনবসতী হওয়ায় প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীগন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির চাপ বেশী আছে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষাবোর্ডে কতৃপক্ষ সাথে আলোচনা করে শাখার পরামার্শ দেয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *