নিজস্ব প্রতববেদক, রাজশাহীঃ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এদেশের একজন উজ্জল নক্ষত্র। আকাশে অনেক তারা জ্বলে এবং নিভে যায়, কিন্তু বেগম জিয়া সবার মাঝে আজীবন উজ্জল নক্ষত্র হয়েই থাকবেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন আসলেন, জয় করলেন, আবার সবাইকে এক সাগর পানিতে ভাসিয়ে চলে গেলেন। তিনি চলে গেলেও আজীবন তিনি বিশ্ব বাসীসহ দেশের মানুষের মনের মনিকোঠায় বেঁচে আছেন। তেমনি বেগম জিয়াও সেভাবেই সবার মনিকোঠায় উজ্জল নক্ষত্র হয়েই বেঁচে থাকবেন বলে বেগম জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় রাজশাহী জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা, রাসিক সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য এবং রাজশাহী সদর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু এই কথাগুলো বলেন।
বেগম জিয়াকে মা বলে সংবোধন করে তিনি আরো বলেন, তিনি তাঁকে অনেক দিয়েছেন। তিনি ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পদে ছিলেন। সেইসাথে ঐ সময়ে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র ছিলেন। বেগম জিয়া তাঁকে কখনো মিজানুর রহমান মিনু বলে নয় শুধু মিজান বলে ডাকতেন। কাদামাটি দিয়ে যেভাবে পালরা মুর্তি বানিয়ে সবার সামনে উপস্থাপন করেন। ঠিক সেইভাবে তাঁকেও বেগম জিয়া তৈরী করেছিলেন। বেগম জিয়া হচ্ছে জনগণের মুর্ত প্রতিক। তিনি স্বৈরাচার খুনি হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আপোসহীন ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সারা বিশ্বের নিকট তাঁর সততা ও দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। এজন্য তিনি সবার নিকট গ্রহনযোগ্যতাও পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
মিনু আরো বলেন, তাঁর জীবিতকালে পৃথিবীর সব থেকে বড় লোকের পাশে তাঁর নাম লেখা হয়েছে। এদেশের মাটিকে ভালবেসে তিনি বলেছিলেন এদেশে এবং দেশের বাহিরে তাঁর কোন মাটি ও সম্পদ নাই। এদেশের জনগণই আমার সম্পদ। এই মাটিতেই জন্মেছি। মৃত্যু এই মাটিতেই হবে। তাঁর কথা বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে প্রানে গেঁথে গেছে। এদশের আঠারো কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে ৩০ ডিসেম্বর চলে গেছেন। সারা বিশ্বের মানুষ তাঁর জন্য কাঁদছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিনু তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
রাজশাহীর কর্মীরা সবাই স্থীর, সবাই একে অপরের পরিপুরক। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেভাবে বুকের বোতাম খুলে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে। আগামীতেও তাই হবে। বিগত দিনে যেভাবে রাজশাহী বিভাগে সকল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলো। এবারও ৩৯টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন বেগম জিয়া চলে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া সন্তান দলকে দেখে রাখবে এবং বিএনপির পতাকা মাথায় করে চলবে। আগামীতে তারেক রহমানকে সাথে নিয়ে পথ চলবেন। যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের জন্য বিএনপি রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম জিয়ার পথ অনুসরণ করছেন তারেক রহমান। বেগম জিয়া কখনো আমি এবং আমার বলতেন না। তিনি সর্বদা আমার এবং আমাদের বলতেন। তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করতেন বলে উল্লেখ করেন মিনু। শেষে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এদিকে উপস্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বেগম জিয়ার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোকপাত করেন। তারাও বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দলের হয়ে আজীবন কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বুধবার বেলা ১১টায় রাজশাহী সাহেব বাজার সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক, বাঘা চারঘাট আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা রাজশাহী-১ (তানোর গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয় সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং রাসিক সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজশাহী মহানগর মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি সদস্য দেবাশীষ রায় মধু।
জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ হায়দার আণী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Leave a Reply