আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। এ খবরে তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম এই প্রতিনিধিকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগের রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় এক শতাংশ ভোটে স্বাক্ষর গরমিলের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। অবশেষে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমি ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম। বিগত সময়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৭৫ হাজার ভোট পেয়েছি। আশা করছি সংসদ নির্বাচনেও জনগণের রায় আমার পক্ষে থাকবে।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু। তার সঙ্গে দলীয় মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এক পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার খবর ভালুকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আরেকটি গ্রুপের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। মোর্শেদ আলমের মনোনয়ন বৈধতার খরবে নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নেন।
স্থানীয় নেতাদের মতে, উপজেলার জামির দিয়া গ্রামের সন্তান মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম গত ২০১১-২০১৬ পর্যন্ত হবিরবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থাকা বস্থায় তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় উন্নয়নের ছোঁয়া পোঁছে দেয়াসহ অসহায় মানুষকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসাবে উপজেলা ব্যাপী সাধারণ মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকার ফলে মোর্শেদ আলম এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের বিপুল সমর্থনে তিনি এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।
এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন— ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু (বিএনপি), ছাইফ উল্যাহ পাঠান ফজলু (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), প্রভাষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম হোসেন বিদ্যুৎ (গণ অধিকার পরিষদ), ডা. জাহিদুল ইসলাম (এনসিপি) এবং মোস্তফা কামাল কাশেমী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।

Leave a Reply