এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির. বিশেষ প্রতিনিধি:
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল ইট–সুরকির কাঠামো নয়, বরং তা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। সেই দর্শনকে বুকে ধারণ করে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলায় যুগের পর যুগ ধরে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এবারের মূল্যায়নে আবারও সেই আলোর স্বীকৃতি মিলেছে—উপজেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব।
এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত প্রয়াস, নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
ঐতিহ্য ও অগ্রগতির সম্মিলন
মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সমন্বিত শিক্ষাধারাই প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সেই ধারাবাহিক মানোন্নয়নেরই স্বীকৃতি।
নেতৃত্বে শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য উদাহরণ
এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের পেছনে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, তিনি হলেন মাদ্রাসার সুযোগ্য অধ্যক্ষ ড. মো: রুহুল আমীন খান। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়া পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বিরল সম্মান।
ড. মো: রুহুল আমীন খান একজন দূরদর্শী শিক্ষানেতা। তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাসাটিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠেছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্রে রূপ দিয়েছেন।
তাঁর নেতৃত্বে সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশ, পরীক্ষার ফলাফলের উন্নয়ন এবং অভিভাবক সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাঠদানে নিষ্ঠার স্বীকৃতি
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মাদ্রাসার সম্মান বৃদ্ধি করেছেন এস. এম. আব্দুল গণি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন।
শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং একজন অভিভাবকসুলভ পথপ্রদর্শক। জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন, শিক্ষার্থীদের মেধা অনুযায়ী পাঠদান এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি শ্রেণিকক্ষে একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি মাদ্রাসার শিক্ষাদানের সার্বিক মানেরই প্রতিফলন।
মেধা ও শৃঙ্খলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও এসেছে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সানজিদা বিনতে জাকির। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মাদ্রাসার শিক্ষার মান ও পরিচর্যার প্রমাণ।
নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নৈতিক মূল্যবোধে দৃঢ়তা তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। তার সাফল্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
আনন্দ, গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎসব
এই একাধিক অর্জনে মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।
ভবিষ্যতের পথে দৃঢ় প্রত্যয়
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে অর্জিত এই সাফল্য মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসার জন্য এক নতুন দায়িত্বও বয়ে এনেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলবে এবং জাতীয় পর্যায়েও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
এক কথায়, মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা আজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি একটি আদর্শ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি, একটি আলোকিত ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা শিক্ষা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বে ধারাবাহিক সাফল্যের দীপ্ত প্রতীক

Leave a Reply