মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন শেষে পঞ্চগড় ঢাকা মহাসড়কের করতোয়া সেতুর প্রবেশ মুখ দুইঘন্টা ধরে অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দুই কিলোমিটার যানজট লেগে তিনশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। পথচারীরাও দূর্ভোগে পড়েন।
একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বক্তব্য শেষে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় সেনাবাহিনী শিক্ষার্থীদের দ্রুত সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করলে শিক্ষার্থীদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে সেনাবাহিনী। এতে অন্তত শিক্ষার্থী সহ ২৩ জন আহত হন।
এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, সহ সমন্বয়ক আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ, মাহফুজুর রহমান সহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷
এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় আমাদের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তারা আমাদের সদস্যদের উপর উত্তেজিত হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরিয়ে দেয়ার সময় কারো কারো উপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে। তবে লাঠিচার্জ করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। আমাদের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণার পরেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাঠিচার্জ করে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর বলেন, ২৩ থেকে ২৫ জন রোগী এসেছে। তাদের বেশিরভাগের ব্লান্ড ইনজুরি রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।
পরবর্তীতে রাতের বেলা আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ এর প্রতিবাদে।
এ সময় সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মোঃ কাজী সায়েমুজ্জামান বিক্ষোভকারীদের সেনাবাহিনী কর্তৃক লাঠিচার্জ এর বিষয়টি ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন।

Leave a Reply