সং/স্কার ছাড়া প্র/হসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সাংবাদিকদের কঠোর কর্মসূচি,প্রেসক্লাবে তালা

স্টাফ রিপোর্টারঃ
সংস্কার ছাড়া ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবীতে প্রেসক্লাবের মুল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির সাংবাদিকরা। প্রেসক্লাব সংস্কার ও তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচন বাতিলসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮জানুয়ারী) রাত সারে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হয়ে সংস্কার কমিটির নেতৃত্ব বঞ্চিত সাংবাদিকরা তালা ঝুলিয়ে দেন।

সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব শিবলী সাদিক খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব একটি মহলের নিয়ন্ত্রণে থেকে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। সদস্য তালিকা হালনাগাদ না করেই নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সাংবাদিক সমাজের বৃহত্তর অংশের মতামত ও স্বার্থকে উপেক্ষা করে করা হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক একাধারে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেও প্রেসক্লাবের সভাপতির পদে থেকে প্রভাব বিস্তার করছেন, যা স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) তৈরি করছে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসককে প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার দাবি জানান তারা। তারা জানান-ময়মনসিংহ ছাড়া দেশের কোথাও জেলা প্রশাসক প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে নেই, তাহলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে কেন থাকবে এমনটাও প্রশ্ন উঠেছে।

সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবকে ‘‘প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান’’ করার প্রয়োজনে কর্মরত সাংবাদিকদের নামের তালিকা নির্ধারন, গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়ন, সাধারণ সভায় অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ, চুড়ান্ত ভোটার তালিকা নির্ণয় করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের দাবী করা হয়। এতে বলা হয় পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠন/ক্লাবে শুধুমাত্র সাংবাদিকরাই থাকবে।
অপরদিকে অসাংবাদিক, আমলা, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ীরা প্রেসক্লাবের সদস্য থাকতে পারবে না বলেও দাবী জানান তারা। অবিলম্বে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের আসন্ন প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করে এর সুষ্ঠ সমাধান করার জন্য (সভাপতি) জেলা প্রশাসকের নিকট দাবী করেন সংস্কার কমিটি।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হবে। এ সময় তারা প্রেসক্লাবকে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানান।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংস্কারপন্থী কমিটির সাংবাদিক নেতা সুমন ভট্টাচার্যকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলে এই ঘটনায় শহর জুরে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র নিন্দার ঝর উঠে।

বিশ্লেষকদের মতে- প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সংগঠন, এতে সাংবাদিকরা থাকবে এটা তাদের অধিকার, এখানে জেলা প্রশাসক প্রশাসক কোন ক্ষমতাবলে সভাপতি হন,এখানে আমলা,শিক্ষক, আইনজীবীরা কিভাবে সদস্য হন, তাদেরতো সংগঠন আছে। তাদের প্রশ্ন তাহলে আমলা,আইনজীবী ও শিক্ষকদের যে কমিটি রয়েছে সেখানে কি সাংবাদিকদের সদস্য করবে তারা?

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে-প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তির নয়, এটি সাংবাদিক সমাজের একটি সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। মতবিরোধ বা অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার পথ খোলা ছিল। সেখানে হঠাৎ করে একজন পরিচিত মুখ, একজন সাংবাদিককে আটক করায় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ, ভয় দেখানো বা একতরফা ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিক সমাজের স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত করে বলেও তাদের অভিমত।

সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব শিবলী সাদিক খান আরও জানান- অতীতের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন ভুলে দ্রুততম সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বিকল্প নেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সংগঠক জহর লাল দে, মো. আরিফ রেওগীর, আলমগীর কবির উজ্জ্বল, গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সজিব রাজভর বিপিন, সুমন ভট্টাচার্য্য, এ.জি. জাফর গিফারী, সাদেকুর রহমান, রোকসানা আক্তার, তাসলিমা রত্না, এসকে মিজান, জামাল উদ্দিন, শিউলি রেখা, মোমেনা আক্তার, সেলিম সাজ্জাদ, মাখছুদুল হুদা, মো. আবু হান্নান সরকারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *