এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি :
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৮৯ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। রবি ২০২৫–২০২৬ মৌসুমকে সামনে রেখে এই সহায়তা কার্যক্রম মোরেলগঞ্জের কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশীপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মোরেলগঞ্জ অফিসার্স ক্লাব চত্বরে আয়োজিত এই বিতরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
হাতে চাষাবাদের ক্যালেন্ডার, চোখে নতুন মৌসুমের স্বপ্ন—দীর্ঘ অপেক্ষার পর নাম ডাকার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা একে একে বীজ–সার গ্রহণ করে ঘরে ফেরেন। মাঠে নামার প্রস্তুতিতে তাঁদের মুখে ছিল আত্মবিশ্বাস আর স্বস্তির ছাপ।
কী কী সহায়তা পেলেন কৃষকেরা
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের উফশী ও হাইব্রিড বোরোধান, সরিষা, গম ও পেঁয়াজের বীজ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রদান করা হয় ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জৈব সার, জিপসাম, জিংক, বোরণ, ম্যাগনেশিয়াম, বীজ শোধক, বালাইনাশক, ড্রাম, সাইনবোর্ড এবং রোপণের জন্য নগদ সহায়তা।
বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী—
▪ সরিষা বীজ পেয়েছেন ৪ জন
▪ গম বীজ পেয়েছেন ২ জন
▪ পেঁয়াজ বীজ পেয়েছেন ৮ জন
▪ বোরোধানের বীজ পেয়েছেন ৪৫ জন
সূর্য মূখী বীজ পেয়েছেন ১৬ জন
সব মিলিয়ে মোট ৮৯ জন কৃষক এই কৃষি সহায়তার আওতায় এসেছেন।
‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী নয়’—প্রধান অতিথি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে বীজ–সার তুলে দেন বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) অপূর্ব লাল সরকার।
তিনি বলেন,
“প্রান্তিক কৃষকদের শক্তিশালী করা ছাড়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সরকার চায়—এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। তাই কৃষকের কাছে সময়মতো উন্নতমানের বীজ ও সার পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তার বক্তব্যে কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
কৃষি কর্মকর্তার আশাবাদ
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন,
“মোরেলগঞ্জের কৃষকেরা বরাবরই পরিশ্রমী। সরকারি এই বিনামূল্যের বীজ–সার বিতরণ কর্মসূচি তাদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে এনে ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, সরকারি বীজ ও সার বাজারের তুলনায় অধিক মানসম্পন্ন হওয়ায় ফলন ২০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
কৃষকের কণ্ঠে স্বস্তির ভাষা
গোলবুনিয়া গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন,
“এখন বাজারে সার–বীজের দাম আকাশছোঁয়া। সরকারের এই সহায়তা না পেলে আবাদ শুরু করাই কঠিন হতো।”
আরেক কৃষক রফিকুল মল্লিক বলেন,
“হাইব্রিড বীজ পেয়ে আমরা খুব খুশি। ভালো ফলনের আশা করছি।”
উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন
কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক বছরে সরকারি কৃষি প্রণোদনার ফলে মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ধান উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কৃষক এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। বেড়েছে কৃষকের আয়, বদলেছে জীবনমান।
চলতি মৌসুমে এই বীজ–সার বিতরণের মধ্য দিয়ে মোরেলগঞ্জের মাঠে মাঠে আবারও জেগেছে সোনালি ধানের স্বপ্ন—আর সেই স্বপ্নেই কৃষকের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।
মোরেলগঞ্জে ৮৯ প্রান্তিক কৃষকের হাতে বিনামূল্যে বীজ–সার ও কৃষি উপকরণ সোনালি ধানের স্বপ্নে কৃষকের চোখে মুখে স্বস্তির হাসি

Leave a Reply