নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ, অনিয়ম ও তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচনের অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে চরম বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল, অস্বচ্ছ নির্বাচন এবং অ-পেশাদারদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রেসক্লাবকে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর আখড়ায় পরিণত করার অভিযোগ তুলেছেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও অধিকার বঞ্চিত সাংবাদিকরা।
সংস্কার কমিটির দাবি, বিগত ৪/৫ বছর ধরে অন্তত দেড় শতাধিক পেশাদার সাংবাদিক তাদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। ‘প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান’ এই মূলনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ, আন্দোলন-সংগ্রাম, মানববন্ধন, ঘেরাও কর্মসূচি পালন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি-দাওয়া উল্লেখ করে স্মারকলিপি প্রদান করলেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
সংস্কার কমিটির অভিযোগ, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের জেলা প্রশাসক দীর্ঘদিন ধরে সভাপতির পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন এবং পদ থেকে অব্যাহতি না নিয়ে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। মাঝে মধ্যে সমঝোতার আলোচনার প্রস্তাব তুলে পেশাদার সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করা হলেও বাস্তবে তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে প্রেসক্লাবের সদস্য তালিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন অনেক ব্যক্তিকে সদস্যভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন এবং সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য থেকে প্রেসক্লাব ক্রমশ বিচ্যুত হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটি বেশ কয়েকটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের পূর্বে উভয় পক্ষের সমন্বয়ে একটি এডহক কমিটি গঠন, যোগ্য ও পেশাদার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে হালনাগাদ সদস্য ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন, একটি খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন,
সম্মিলিতভাবে সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের মাধ্যমে গঠনতন্ত্র অনুমোদন এবং এসব প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির মুখ্য সংগঠক, গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, সংস্কার ছাড়া ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের যে কোনো নির্বাচন হবে প্রহসন। এ ধরনের নির্বাচন সাংবাদিক সমাজের ঐক্য বিনষ্ট করবে এবং পেশাদারিত্বকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তাই অবিলম্বে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম চলতে দেওয়া যায় না।
সংস্কার কমিটির নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সত্যিকার অর্থে পেশাদার সাংবাদিকদের একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সংগঠন হিসেবে পুনর্গঠিত হতে পারে।

Leave a Reply