গোপালগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অ/নিয়ম ও দুর্নী/তির অভিযোগ, ত/দন্তের দাবি

কে এম সাইফুর রহমান,
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের গোবরা রুস্তম আলী চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করে, বিধি বহির্ভূতভাবে এক শিক্ষককে দীর্ঘমেয়াদি ছুটি প্রদান এবং এর বিনিময়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নাহিদা আক্তার ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর যোগদানের মাত্র তিন মাসের মাথায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ছুটিতে যান। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, কমপক্ষে দুই বছর চাকুরির বয়স না হলে এ ধরনের ছুটি পাওয়ার বিধান নেই। অভিযোগ রয়েছে, এই ছুটির অনুমতির বিনিময়ে নাহিদা আক্তারের বেতন-ভাতার একটা অংশ প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন কর্মচারী ভাগ করে নিচ্ছেন। এছাড়া আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, এই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষকের মেয়েকে নাহিদা আক্তারের স্বামীর মাধ্যমে ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে চাকুরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে চলে যান। ইংরেজি শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে লাইব্রেরিয়ান ও অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের ‘প্রক্সি শিক্ষক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত। লাইব্রেরিয়ান অমিত বেপারী প্রক্সি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন। অন্য এক শিক্ষক প্রক্সি দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক নাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে ছুটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের মেয়ের চাকুরির বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি আমাদের পরিচালিত স্কুলে সাময়িকভাবে কাজ করেছেন। তিনি প্রক্সি শিক্ষকদের টাকা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
প্রধান শিক্ষক তাহমিনা আক্তার সাংবাদিকদের নিকট প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগের কথা স্বীকার করলেও, এটি বিধি সম্মত কি না— এমন প্রশ্নে এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, প্রক্সি শিক্ষক থাকায় এটি পূর্ণাঙ্গ ছুটির আওতায় পড়ে না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ছুটি কাটানোর কোনো বিধান নেই। এছাড়া দুই বছর পূর্ণ না হলে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ছুটি দেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। অনিয়মের এই খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবক ও এলাকাবাসী অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *