হেলাল শেখঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই হওয়া ঢাকা-১৯ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ও ১ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসকের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-১৯ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১০ জন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মোঃ রেজাউল করিম। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হারুনূর রশীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, তার এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ১০ জন ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই পাওয়া যায়নি এবং হলফনামা দাখিল করা হয়নি।
ঢাকা-১৯ আসনে বৈধ মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আফজাল হোসাইন, জাতীয় পার্টির মোঃ বাহাদুর ইসলাম, এনসিপির দিলশান আরা পারুল, গণঅধিকারের শেখ শওকত হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল ইসলাম সাভারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ ফারুখ খান, খেলাফত মজলিশের একেএম এনামুল হক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মোঃ কামরুল এবং এনডিপির চৌধুরী হাসান সোরোয়ার্দী।
অপরদিকে ঢাকা-২০ আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। ঢাকা-২০ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মোঃ তমিজ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আহসান খান, এনসিপির নাবিলা তাসনিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আব্দুর রউফ, খেলাফত মজলিশের আশরাফ আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মোঃ আরজু মিয়া।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ রেজাউল করিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক জানান, ঢাকা-১৯ আসনে ১১ জন এবং ঢাকা-২০ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। পরে ১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Reply