August 31, 2025, 5:35 pm
হেলাল শেখঃ বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বেশি নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে, এর কারণে মানুষের বাসা বাড়ি, ব্যবসা ও রাস্থা দখলের চেষ্টা করছে সন্ত্রাসীরা। এলাকায় বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা চেষ্টা ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র্যাব সেনাবাহিনীর অভিযানে কিছু কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ডাকাতসহ অপরাধীদের আটক করা হলেও তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আবারও সেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। মাদক সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামিদের খোঁজে পায় না বেশিরভাগ পুলিশ অফিসার।
রবিবার (৩১ আগষ্ট ২০২৫ইং) জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথক ব্যক্তির একাধিক লাশ উদ্ধার করেন আশুলিয়া থানা পুলিশ, কিন্তু বেশিরভাগ বড় ধরণের আসামীকে থানা পুলিশ খোঁজে পায় না। আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। স্থানীয়রা জানায়, কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাস বাহিনীর ১৫-২০ জনের পৃথক পৃথক দল পিস্তল ও চাকু ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও বাড়ি ঘর ও রাস্তা দখল করাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সাধারণ মানুষের উপর হামলা করে, অপহরণ করে মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজি করে। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত ভেবে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। অনেকেই জানান, ভিকটিমের উপর হামলা করে কুপানোর সময় তার ডাক চিৎকারে লোকজন ছুঁটে আসলে তাকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। এরপর প্রতিবেশীসহ লোকজন ভিকটিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয় এরপর আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
উক্ত আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠের আশপাশে ১৫-২০ জন করে পৃথক ১০-১২টি কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাস বাহিনী দেশীয় অস্ত্র চাকু ছুরি ও দা নিয়ে প্রায়ই মহড়া দিতে দেখা যায় বলে অনেকেই জানান, এই কিশোর গ্যাং আতঙ্ক পুরো এলাকাজুড়ে। সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো, জামগড়া দি-রোজ পোশাক কারখানার ঝুট নিয়ে চলছে বিরোদ। উক্ত এলাকায় প্রায় শতাধিক কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসী সক্রিয় ভাবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ফিটিংবাজি অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে বলে অভিযোগ। কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা ও মারপিট করা হয়।
উক্ত আশুলিয়ায় এখন কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে। তারা প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ করছে, এতে আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে কারো কোনো ছাড় দেওয়া যাবেনা, সাংবাদিক, পুলিশ প্রশাসন ও র্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬ ওয়ার্ডের বাসিন্দা শোভন মাহমুদ বলেন, মাদক সন্ত্রাসী আলফাজ, বাহিনীর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর হাজীপাড়া এলাকার মোঃ সাইফুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ আলফাজ (২৫), পিতা মৃত- রাজ্জাক মিয়া, মাতা-শান্তনা বেগম ভাড়া বাড়িতে বসেই দীর্ঘদিন ধরে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ করছে। শুধু তাই নয় এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। আমি বাদী হয়ে এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি, জিডি নং ৩১৯৬। তারিখঃ ২৮/০৮/২০২৫ইং।
পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী জানান, অপরাধী যেইহোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে, কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না। উক্ত ব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, আশুলিয়া থানা এলাকায় অপরাধ করে কেউ পালিয়ে থাকতে পারবে না। অপরাধী সে যেইহোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।