August 29, 2025, 6:03 pm
মোঃ বাবু হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে অন্যত্র পাচারের অভিযোগে এক ডিলারকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) রাতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে অন্যত্র পাচারের অভিযোগে উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বালিয়া লক্ষ্মীত্থান বাজারের ‘মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্স’ এর স্বত্বাধিকারী ডিলার গিয়াস উদ্দিনের জামাই নজরুল ইসলামকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুজ্জামান। এসময় উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোস্তাক আহমেদ, আটোয়ারী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ফারুক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ‘মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্স’ এর স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিনের জামাই নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার শ্বশুরের সারের ডিলারি ব্যবসা দেখাশোনা করেছিলেন। বিভিন্ন সময় কৃষকদের সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সার দিতেন না । এছাড়াও নামে-বেনামে উচ্চ মূল্যে বিভিন্ন জায়গায় সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার নামে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কৌশলে তার গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজানের উদ্দেশ্যে ২০ বস্তা পটাশ সার পাচারের লক্ষ্যে একটি চার্জার ভ্যানে লোড করেন। এসময় ওই ভ্যানটি বালিয়া লক্ষ্মীত্থান বাজার পাড় হওয়ার সময় স্থানীয় এরশাদ সহ বেশ কয়েকজন ভ্যানটিকে আটক করেন। পরে ওই ভ্যান চালক জানান, সে সার গুলো নিয়ে নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ভেলাজানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে।
পরে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মুঠোফোনে সার পাচারের বিষয়টি অবগত করলে তৎক্ষনাৎ উপজেলা কৃষি অফিসার সহ পুলিশ প্রশাসনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় ডিলারের জামাই নজরুল ইসলামের কাছে সার পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হয় উপজেলা প্রশাসন।
এসময় সার পাচারকারীর বিচারের দাবিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের চরম উত্তেজনার কারণে ‘মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্স’ এর স্বত্বাধিকারী ডিলার গিয়াস উদ্দিনের জামাই নজরুল ইসলামকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ধরে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সার পাচারের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আরো ৫০ হাজার টাকা সহ মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।
এবিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে তৎক্ষনাৎ উপস্থিত হই। অভিযুক্ত ব্যাক্তি সার পাচারের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করেন৷ তাই আমরা তাকে ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আরেকটি ধারায় ৫০ হাজার টাকা সহ মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছি। তিনি আরো জানান, যেহেতু ওই ডিলার সরকারি বিধি ভঙ্গ করেছেন সেহেতু তার ডিলারির লাইসেন্স বাতিল করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।