Category: কৃষি

  • মাধবপুরে সরিষার বাম্পার ফলন,কৃষকের মুখে হাসি

    মাধবপুরে সরিষার বাম্পার ফলন,কৃষকের মুখে হাসি

    শেখ ইমন আহমেদ মাধবপুর(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাধবপুর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠে এখন হলুদের ঢেউ। সরিষার এই ফলনে কৃষকের চোখেমুখে আনন্দের আভা ফুটে উঠেছে।  

    উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়- ফসলের মাঠগুলো সরিষা ফুলের হলুদ রঙে অপরূপ শোভা ধারণ করেছে। মাঠে পরিচর্চার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
    বীজ বপনের দুই মাসের মধ্যেই সরিষা ঘরে উঠে আসে। সরিষা উঠিয়ে ধান চাষ করতে কোনো সমস্যা হয় না এবং ধানের ফলনেও কোনো প্রভাব পড়ে না। তার মতে সরিষার আবাদ করা মানেই অতিরিক্ত লাভের মুখ দেখা। একইভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন অসংখ্য কৃষক। আশার আলো দেখে তাঁরা উল্লসিত। 

    মাধবপুর উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের সরিষা চাষি মনির হোসেন বলেন, দেশে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েই চলছে, তাই তেলের চাহিদা মেটাতে আমি সরিষার চাষ করছি। প্রতি বছর বাড়ির জন্য ৩০শতক সরিষা চাষ করতাম। কিন্তু মানুষের চাহিদা পূরন করতে আরও ৪বিঘা বেশি সরিষার চাষ করেছি।

    উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের বুল্লা গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন, প্রতি বছর আমি জমিতে সরিষা চাষ করি। এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তেলের চাহিদা মেটাতে আমি বেশি করে সরিষার চাষ করছি।তিনি আরও বলেন,আমরা যেন সরিষা ন্যায্য দামের বিক্রয় করতে পারি কৃষি অফিসার কাছে অনুরোধ জানান।

    মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সজীব সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। আমরা মোট সরকারি প্রণোদনা ৮১০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার প্রদান করেছি।বাকিটুকু কৃষকরা নিজে সরিষা বীজ রোপণ করেছে।

  • চারঘাটে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল 

    চারঘাটে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল 

    মোজাম্মেল হক, চারঘাট (রাজশাহী):

    রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে উঁকি দিতে শুরু করেছে দৃষ্টিনন্দন আমের মুকুল। গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হবে এক নতুন ছন্দের।

    রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে উপজেলার আম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আম গাছে আসতে শুরু করেছে আগাম মুকুল। আগাম মুকুলে আম চাষিদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠেছে। মাঘের হিমেল হাওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খাচ্ছে মুকুল। গাছের কচি শাখা-প্রশাখায় ফোটা ফুলগুলোর উপরে সূর্যের আলো পড়তেই চিকচিক করে উঠছে। এবার মধ্য জানুয়ারিতেই কিছু কিছু গাছে আমের মুকুল চলে এসেছে। এখন ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া না হলেই ভালো হয় বলে জানান আম চাষিরা।

    আম ব্যবসায়ী রবিউল বলেন, এর মধ্যে অনেক গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, ফাল্গুন মাসের মধ্যে উপজেলার আম গাছগুলোতে পর্যাপ্ত মুকুল আসবে। তবে এ সময় মাঝে-মধ্যেই আকাশে মেঘ জমে উঠে। শিলাবৃষ্টি হলে আমের মুকুলের ক্ষতি হবে। তাই আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনূকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান তিনি।

    বাগান মালিকরা বলেন, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগবালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, উপজেলায় বর্তমানে ৪ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে। তবে এখন আম গাছে, সাইপার মেথ্রিন অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন, স্প্রে করতে হবে। এবং ম্যানকোজেব /মনুবর বোরন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী। 

  • মাঠে মাঠে হলদে ফুলের চাদরে ঢাকা,  বরেন্ত্র অঞ্চলে সরিষার  কম আবাদ  হলেও  বাস্পার ফলন আশা করছেন কৃষক

    মাঠে মাঠে হলদে ফুলের চাদরে ঢাকা, বরেন্ত্র অঞ্চলে সরিষার কম আবাদ হলেও বাস্পার ফলন আশা করছেন কৃষক

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ফসলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেঁয়ে গেছে। অগ্রহায়ণের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকেরা । এক সাথে ফোটা ফল গুলো রোদ ঝলমল আলোয় প্রকৃতির মাঝে অপরুপ সৌন্দর্যর শোভা ছড়াচ্ছে। আর তা দেখতে ভীড় করছেন প্রকৃতি প্রেমীরা ।

    কৃষকরা আগে এসব জমিতে শুধু ইরি-বোরো এক ফসলী আবাদ করে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত রাখত। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এ অঞ্চলের কৃষকদেরও কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটেছে।

    তারা বিগত দু, যুগ ধরে ইরি-বোরো, আমন, টমেটো করোলা. লাউ, পটল, শীম, ভূট্টা, তরমুজ আবাদের পাশাপাশি সরিষার আবাদেও ঝুঁকেছে। তাই এখন সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ঢাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠ।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলানসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে সরিষা আবাদ কম হয়েছে। । এবছর ৭৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে আবাদ করা হচ্ছে ৬৫ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে। গেল বছর তেলবীজ জাতীয় ফসলটি আবাদ হয়েছিল ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, চাষের জমি কমলেও উৎপাদনে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। এখন পর্যন্ত ছত্রাক বা রোগবালাই না থাকায় এবার উচ্চ ফলন পাওয়া যাবে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৬০ টন। এ বছর ফলন ৬০ হাজার টন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সরিষা চাষে জমির উর্বরতা বাড়ে। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড়ে ছয়-সাত মণ সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বীজ বপন থেকে ৭০-৭৫ দিনে ফসলটিতে তেমন সেচ দিতে হয় না। বপনের সময় মাটির নিচে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার দিলেই চলে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে কম খরচ, কম শ্রম ও দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে চাষিরা লাভ বেশি পান। ভোজ্যতেল হিসেবে সরিষার চাহিদা থাকলেও চলতি বছর চাষের জমি কমেছে।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ ৯টি উপজেলায় সরিষার চাষ করা হচ্ছে। আমন ধান কাটার পর উপজেলার কৃষকরা বোরো মৌসুমের আগেই সরিষা চাষ করেছেন। চলতি বছর বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বিনা-৯, বিনা-৪, টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ করেছেন তারা।

    সরেজমিন গোদাগাড়ী উপজেলার কমলাপুর, ভাজনপুর, রেলগেট বিল, বিলপাতিকলা, দুর্গাদহ বিল, রেলগেট বিল, সুশাডাং, বোগদামারী, কালিদীঘিসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে পুরো মাঠ। ভোরের কুয়াশা, সকালের মিষ্টি রোদ কিংবা বিকেলের শীতের স্নিগ্ধতার মধ্যে দিগন্তজোড়া হলুদ সরিষা ফুল এক অন্য রকম সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছে মাঠে মাঠে। কোথাও কোথাও সরিষাখেতে মৌ-বক্স বসিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কাজ চলছে।

    গোদাগাড়ীর বালিয়াঘাট্টা গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই তিনি চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেন। এবার কৃষি কর্মকর্তারা আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরামর্শ দেন। গত বছর ভালো লাভ হওয়ায় তিনি রাজি হয়ে যান। এবার চাষ করেছেন সাত বিঘা জমিতে। এই জমি থেকে ইতোমধ্যে দুই হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন তিনি।

    চব্বিশনগর গ্রামের আব্দুল লতিফ মাষ্টার জানান, এবার তিনি নয় বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। গত বছর তিনি প্রতি বিঘায় সাত-নয় মণ ফলন পেয়েছিলেন। প্রতি মণ সরিষা শুরুতে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি করেছিলেন। এবারো তেমনটিই আশা করছেন।

    চাষী আব্দুল মাতিন জানান, সরিষা চাষে বিঘাপ্রতি খরচ ৫-৬ হাজার টাকা। চাষের ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। গত বছর সরিষা বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। বাজারে এখনো ভালো মানের সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

    রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার উচ্চ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবার চাষের জমি কমেছে। প্রতি হেক্টরে ফলন ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৬ টন। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৫ হাজার টন সরিষা উৎপাদন হতে পারে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • বরিশালে চার হাজার একর জমির সেচ প্রকল্প বন্ধের হুমকিতে, বিপাকে স্থানীয়  কৃষকরা

    বরিশালে চার হাজার একর জমির সেচ প্রকল্প বন্ধের হুমকিতে, বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা

    কে এম সোয়েব জুয়েল,
    বরিশালের গৌরনদীতে ৪০০০ চার হাজার একর জমির সেচ প্রকল্প বন্ধ করে দেয়ার হুমকিতে হতাশায় দিন পাড় করছে স্থানীয় কৃষকরা। গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের সাতটি ও বাটাজোর ইউনিয়নের পাঁচটি বোরো প্রকল্পের সেচ বন্ধ করে দেওয়ার অব্যাহত হুমকির মুখে দুই ইউনিয়নে ১২টি বোরো প্রকল্পের তিন হাজার কৃষকের চার হাজার একর জমিতে বোরোর আবাদ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় হিমসিম খাচ্ছে সেচ প্রকল্পের মালিক মোঃ ছানাউল হক মৃধা

    ছানাউল হক জানায়, দীর্ঘ ১২ বছর যাবত তার (ছানাউল) বাবার ফুপাতো ভাইর ছেলে নলচিড়া ইউনিয়নের স্হানীয় মোঃ মাসুদ মীর বিএডিসি থেকে সেজ প্রকল্প বরাদ্দ নেন কিন্তুু বর্তমান সময় আর্থিক সমস্যার কারনে তার (মাসুদ) আত্বিয় বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেব পাড়ার ছানাউলকে সেচ প্রকল্প চালানোর জন্য প্রয়োজনিয় কাগজ পত্র হস্তান্তর করেন প্রকল্পের মালিক মাসুদ। প্রকল্পের ২৭ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ছাড়া ছানাউল প্রকল্প চালু করতে প্রয়োজনীয় বৈদ্যতিক সামগ্রিক বাবদ আরো দের লক্ষাধিক টাকা খরচ করে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের হোসনাবাদ উত্তর সীমানায় আড়িয়াল খাঁর শাখা নদী পালরদী নদীর স্টিমারঘাট এলাকায় সেচপাম্প বসিয়ে প্রাইমারি প্রকল্পের মাধ্যমে নলচিড়া খাল ও বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া খালে সেচ প্রকল্প গত ১৩ জানুয়ারি সোমবার চালু করেন বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেবপারা গ্রামের কাঞ্চন আলী মৃধার পুত্র ছানাউল হক মৃধা। অপরদিকে বাছার গ্রামের আব্দুল হামিদ সরদারের পুত্র মোঃ জাকির সরদার বিএডিসি থেকে সদ্য প্রকল্পটি বরাদ্দ নিলেও সেখানে সেজ প্রকল্প চালনোর মত সরকারের বেঁধে দেয়া নিতিমালার কোন ব্যাবস্হা লক্ষ করা যায়নি । ফলে জাকিরের ভাই আনোয়ার সরদারের বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগ সম্পুন্ন ভিত্তিহীন বলে প্রতিয়মান হওয়ার দৃশ্য লক্ষ করা গেছে।

    প্রকল্পটি তদারকি করেন তার বড় ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন। আনোয়ারের অভিযোগ, গত ২ জানুয়ারি তিনি সেচপাম্প বসিয়ে প্রাইমারি প্রকল্প থেকে সেকেন্ডারি ১২টি প্রকল্পে সেচ দিয়ে পানি সরবারহ শুরু করেন। এ সময় উপজেলার বাসুদেবপাড়া গ্রামের কাঞ্চন মৃধার ছেলে মোঃ সানাউল মৃধা ও শংকরপাশা গ্রামের কালাম খানের ছেলে মামুন খানের নেতৃত্বে সাত-আটজন সন্ত্রাসী এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সেচপাম্প বন্ধসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়।

    সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে গত ৫ জানুয়ারি পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করলে বাকি টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। এরপর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাকি টাকা না দেওয়ায় পাম্প বন্ধ করে দেয় এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। সন্ত্রাসী সানাউল চলে যাওয়ার সময় তাদের নির্দেশ ছাড়া সেচযন্ত্র চালু করলে হত্যার হুমকি দেন।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের একাধিক ব্যবস্থাপক বলেন, বোরোর চলতি মৌসুমে জমিতে পানি সরবারহ শুরু হলে আমরা জমি প্রস্তুত করি। কিন্তু হঠাৎ পানি সরবারহ বন্ধ হওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

    মোঃ রুস্তুম সরদার, সান্টু খলিফা, নজরুল খলিফাসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, গুটিকয়েক চাঁদাবাজদের জন্য কয়েক হাজার কৃষক জমিতে সেচ দিতে পারছে না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সানাউল মৃধা বলেন, ‘আগের সেচ প্রকল্পের মালিকের কাছ থেকে আমি লিখিতভাবে প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। সেই প্রকল্প জাকির হোসেন দখল করতে চান বলে আমি তাতে বাধা দিয়েছি।

    চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়।’ তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সরকারি নদীর পানি তুলে যে কেউ সেচ দিতে পারে। সেখানে কেউ প্রকল্প ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রকল্প চালু করেছি।

    গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেকেন্দার শেখ এ প্রসঙ্গে বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

    গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন, এ ঘটনায় প্রাইমারি সেচ প্রকল্পের তদারককারী মোঃ আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গত শুক্রবার ১০ জনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় মামলা দাখিল করেছে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াইলে টমেটো চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

    নড়াইলে টমেটো চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে টমেটো চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক। নড়াইলের কালিয়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় টমেটো চাষ করেছেন কৃষক রমজান খান। আগাম টমেটো চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় চারা রোপণের পর থেকে টমেটো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, কালিয়া উপজেলার পৌরসভা ব্লকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষনাওরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আগাম টমেটো চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে রাত দিন খেতের পরিচর্যায় সময় পার করছেন রমজান। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে পানি নিষ্কাশনের জন্য পলিমালসের মাধ্যমে চাষাবাদ করেছেন। টমেটো চাষি রমজান খান বলেন, চলতি মৌসুমে ২৫ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন বাহুবলী জাতের ১ হাজার টমেটো চারা রোপণ করেছি। ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগাম চাষ করেছি। আমার ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চারার বয়স ৯৫ দিনের পরের থেকে টমেটো বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। আশা করছি ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লাভ করতে পারব। কৃষক রমজান শেখের টমেটো চাষ দেখে আগামী বছর এ জাতের টমেটো চাষ করবেন বলে জানান একই গ্রামের কয়েকজন কৃষক। তবে এমন উন্নত জাতের বিষয়ে কৃষকের সঙ্গে কৃষি অফিসকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে দাবি আগ্রহী কৃষকদের। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, বলেন, মাঠ পর্যায়ে টমেটো চাষে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে জৈব বালাই নাশক ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করার পাশাপাশি আগাম জাতের সবজি চাষের পরামর্শ প্রদান করে থাকি। কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলায় ২৫ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন বাহুবলী জাতের টমেটো চাষ করেছেন রমজান খান। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ নানা কৃষি উপকরণ ও প্রদর্শনী দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টমেটো চাষের জন্য সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চাষিদের আগাম টমেটো ও বিভিন্ন সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • যশোরের বাগআঁচড়া বেলতলা কুল বাজার বেশ জমজমাট, ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা

    যশোরের বাগআঁচড়া বেলতলা কুল বাজার বেশ জমজমাট, ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা

    আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বেলতলা কুল বাজার এখন জমজমাট। মৌসুমী ফল কুলে ভরে উঠেছে এখানকার কুল বাজার। কুলের মৌসুমে আড়তে কুল বেচাকেনার হিড়িক পড়ে যায। পৌষ,মাঘ ও ফাল্গুন মাস ব্যাপি বাজারে কুলের বেচাকেনা চলে।

    বেলতলা কুল বাজার থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ ট্রাক কুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে রপ্তানি হয়। বর্তমানে কুল এই অঞ্চলের অর্থকারী ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে । দেশের কোথাও কোথাও এই ফলটি বরই নামে পরিচিত।

    যশোর ও সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী শার্শা ও কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের কুলের চাষ করছেন। কুল চাষ এলাকার কৃষকদের কাছে খবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    কৃষকরা টক কুলের পাশাপাশি থাই, আপেল ও নারকেল কুলের চাষ করছেন। এছাড়াও বল কুল, বেরি কুল, গাজি পুরি ও বল সুন্দরী কুলেরও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। কৃষকরা এমৌসুমে থাই ও আপেল কুল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১৫০ টাকা,বল কুল-৭০ থেকে ১২০ টাকা, টক লাল সাদা ৪৫ থেকে ৯০টাকা,গাজীপুরী টক কুল,৪০ থেকে ৭০ টাকা,বেবি কুল ৬০ থেকে ৮০ টাকা,বল সুন্দরী ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করছেন।

    কুল চাষি হাসানুজ্জামান ও তরিকুল ইসলাম জানান,তারা গত পাঁচ বছর ধরে কুলচাষ করছেন। এ বছর তিনি সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে থাই আপেল কুল চাষ করেছেন। গত বছরও ৩ বিঘা কুল চাষ করেছিলেন। গত বছরের থেকে এ বছর গাছে অনেক কুল ধরেছে এবং অনেক বেশী দামে কুল বিক্রি করছেন। এভাবে যদি শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন তাহলে এ বছর অনেক লাভবান হতে পারবেন বলে জানান।

    সিলেট থেকে আসা কুল ব্যাবসায়ী রায়হানুজ্জান ও আকরাম আলী জানান, তারা ১৫ বছর যাবত আম,কুল, তরমুজ,আনারস সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সেই কারণে প্রতিবছরই বেলতলার মোকামে আসেন। এ বছর এ এলাকায় কুলের ফলন অনেক বেশি। তারপরও কুলের দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশি। তারা যেমন বেশি দামে কিনছেন ঠিক তেমন বেশি দামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রিও করছেন। চাহিদা বেশি থাকায় তারা কুল কিনে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন।

    শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা জানান,এ বছর শার্শা উপজেলায় মোট ১৩৫ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। তিনি বেলতলা বাজার পরিদর্শন করেছেন। এ বছর বল সুন্দরী, থাই আপেল, চায়না ও বিভিন্ন জাতের টক কুলগুলোই চাষিরা বেশি চাষ করেছেন এবং তারা গত বছরের চেয়ে বেশী দাম পাচ্ছেন লাভবানও হচ্ছেন।নিয়মিত উপজেলা কৃষি অফিস বেলতলা বাজার মনিটরিং করছে বলে তিনি জানান।

  • পঞ্চগড়ের বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ

    পঞ্চগড়ের বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ করছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজির বাগান করে সর্ব মহলের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। এই উদ্যোগের ফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সদস্যসহ আশপাশের গরিব অসহায় ব্যক্তিদের খাবারের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত জায়গায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) এর নির্দেশনায় ইউনিয়ন ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, অফিস সহায়ক আব্দুল লতিফ ও ইসরাইল আলী এই সবজি বাগান গড়ে তুলেছেন। এদিকে বড় পরিসরে না হলেও সীমিত পরিসরে গড়ে তোলা এই সবজি বাগানে রয়েছে লাউ, শালগম, স্কোয়াশ, নাপা শাক, শিম, পুইশাক, গাজর, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, আলুসহ নানা জাতের সবজি রয়েছে এই বাগানে। ভূমি অফিসের এই উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট।

    ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কালদাসপাড়া গ্রামের মকলেছার রহমান ও চৌধুরীপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি দেখে খুব ভালো লাগলো। এই সবজির বাগানে ভূমি অফিসটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে এই জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

    ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের সকলের একটু উদ্যোগী হওয়া উচিত। অন্যান্য অফিসের আশপাশের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা প্রয়োজন। এতে করে অফিসের সকল সদস্যদের চাহিদা মিটিয়ে গরিব অসহায় ব্যক্তিদের সহযোগিতা করা যাবে।

    এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, জায়গাটা অনেকটা পরিত্যক্ত ও গর্ত ছিল। আমরা এখানে মাটি দিয়ে সমান করে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। আগামীতেও আমরা এভাবে সবজি চাষ করবো যেন আমাদের নিজের খাওয়ার চাহিদা পূরণসহ আশপাশের যারা গরিব লোক আছে তাদেরকে এই শাক সবজি দিতে পারি তারা যেন উপকৃত হয় এজন্যই মূলত এখানে চাষ করা।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • নড়াইলে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়

    নড়াইলে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়। আমাদের গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাহন ছিল গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা। বিশেষ করে নড়াইলের জনপদে কৃষি ফসল বহন ও মানুষ বহনের প্রিয় বাহন ছিল দু-চাকার গরুর গাড়ি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে হার মেনে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা বিলুপ্তপ্রায়। আর গরুর গাড়ির সাথে সংপৃক্ততায় হারিয়ে যেতে বসেছে গাড়িয়াল পেশা। গ্রামগঞ্জের একা বেকা মেঠো পথে এখন আর তেমন চোঁখে পড়ে না পূর্বেও সময়কালের অতি প্রয়োজনীয় গরুর গাড়ি। দেশের গ্রামীন জনপদের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল এবং ছিল সর্বত্র এই গরুর গাড়ির কদর। বর্তমানে দেশে ডিজিটাল পদ্ধতির ছোঁয়া লাগাতেই গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা বিলুপ্তপ্রায়। গরুর গাড়ি নিয়ে কবি লেখকরা লিখেছেন তাদের কবিতার ভাষায় কতনা কবিতা, শিল্পীরা গেয়েছেন কতই না ভাওয়াইয়া গান। ভাওয়াইয়া গানের মধ্যে অন্যতম গান হল ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রবো আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে…….। বর্তমানে গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা এখন এসব বাহন করে শুধুমাত্র রূপকথার গল্পমাত্র এবং বিলুপ্ত হয়ে স্থান পেয়েছে সংবাদপত্র ও বইয়ের পাতায়। মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও গরুর গাড়ির শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়।
    আবার অনেক শহরে শিশু গরুর গাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে। যুগ যুগ ধরে কৃষকের কৃষি ফসল বপন ও বহনের গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে পরিচিত ছিল গরুর গাড়ি। গরু গাড়ি দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার বিশেষ যান। এ যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুটি মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। দুই যুগ আগে গরুর গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত। গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বিয়ে বাড়ি বা মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। বরপক্ষের লোকজন বরযাত্রী ও ডুলিবিবিরা বিয়ের জন্য ১০-১২টি গরুর গাড়ির ছাওনি (টাপর) সাজিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি আসা-যাওয়া করত। রাস্তাঘাটে গরুর গাড়ি থেকে পটকাও ফুটাত। বিয়ে এবং অন্য কোন উৎসবে গরুর গাড়ি ছাড়া পূর্ণতা পেতো না। হাতে গোনা দু’একটা গাড়ি দেখা যায় গ্রামের মেঠে পথে তাও জরাজীর্ন অবস্থায়। তাছাড়া যেন চোঁখেই পড়ে না এই গরুর গাড়িগুলো। কিন্তুশহরের ছেলে মেয়েরাতো দুরে থাক গ্রামের ছেলে মেয়েরাও গরুর গাড়ির এই বাহনের সাথে পরিচিত না খুব একটা। আগে অনেকেরি এই গাড়ি গুলো ছিল উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল কিন্তু এখন গরুর গাড়ি চলে না। যে সব পরিবারে গরুগাড়ি ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়িতে কখনো জৈব সার তথা গোবরের সার, কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে। বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি। ফলে গ্রামাঞ্চলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন। রিকশা বা ঠেলাগাড়ির মতো গরুর গাড়িও একটি পরিবেশবান্ধব যান। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুরগাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
    গ্রামের বয়স্ক গাড়িয়াল জাহাঙ্গীর আলম ও এমামুল হক জুয়েল বলেন, আগে আমাদের বাপ-দাদারা গরুর গাড়ি চালিয়ে আমাদের সংসার চালাতো। কিন্তু এখন গরুর গাড়িতে আর কেউ চলতে চাইনা। তাই অটো ভ্যান ও ইজিবাইক চালিয়ে গাড়িয়ালরা তাদের জীবন জিবীকা নির্বাহ করছে। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে এখন গরুর গাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যগুলোকে আমাদের মাঝে ধরে রাখতে আবারও গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশাকে টিকেয়ে রাখতে সরকারের কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই উত্তম। বেতবাড়িয়া গ্রমের সুবোল মন্ডল বলেন, এখনো গ্রামবাংলার জনপদে কৃষি ফসল ও মানুষ পরিবহনের প্রিয় বাহন দুই-চাকার গরুর গাড়ি থাকলেও আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়া আর ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে হার মেনে বিলুপ্তপ্রায় এ পেশাটি। মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না, ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। গরুর গাড়ি একটি পরিবেশবান্ধব যানবহন। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
    অনিল লস্কর বলেন, গ্রামবাংলার এক সময়ের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গরুর গাড়ি। নতুন নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটছে, হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের এই ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, যা আজ বিলুপ্তির পথে। গরুর গাড়ি হলো দুই চাকাবিশিষ্ট যান বিশেষ, যা গরু বা বলদ টেনে নিয়ে যায়। একসময় কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল এই গরুর গাড়ি। মালপত্র পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন। দেশের উন্নয়নের ছোঁয়া পাওয়ার টিলার আসার পর গরুর গাড়ী ও গাড়িয়াল পেশা আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে। এটা পরিবেশ বান্ধব। তবে গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে এবং এই বিষয়ে আমাদের এলাকার ধনী কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে।

  • লাভজনক হওয়া সত্বেও শার্শায় খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহে আগ্রহ নেই গাছিদের

    লাভজনক হওয়া সত্বেও শার্শায় খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহে আগ্রহ নেই গাছিদের

    আজিজুল ইসলাম,যশোঃ যশোরের শার্শা উপজেলায় খেজুরের রস ও গুড়ের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্বেও রস ও খেজুর গুড় সংগ্রহে আগ্রহ নেই সাধারণ চাষীদের। যে কারনে বিলুপ্ত হতে চলেছে খেজুর গাছ। অথচ এককালে শার্শা উপজেলার উৎপাদিত খেজুর গুড় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো। প্রচুর চাহিদা ছিলো। বর্তমানে খেজুরের রস ও খেজুরের গুড় লাভজনক হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা সত্বেও চাষীরা খেজুর গুড় উৎপাদনে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। তারা খেজুর গাছ রক্ষনা বেক্ষনেও উদাসীন।

    সত্তুর আশির দশকেও উপজেলায় বাড়ি বাড়ি খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদন করা হতো। প্রতিটি বাড়িতে খেজুরের রস জালানো হাড়ি ও বড়ো বড়ো চুলা থাকতো গুড় তৈরির জন্য। এক সময় ইটভাটায় খেজুর গাছের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে সময় অনেকেই খেজুর গাছ বিক্রী করে দেয়। নতুন করে খেজুরের চারা না লাগানোর ফলে খেজুর গাছের সংকট দেখা দেয়। একারনে অনেকেই গাছির পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যায়।

    শার্শা উপজেলার ভারত সীমান্ত লাগোয়া রুদ্রপুর গ্রামের গাছি খলিলুর রহমান জানান, রুদ্রপুর গ্রামে আগে প্রত্যেক বাড়িতে খেজুরের গুড় বানানো হতো। তখন সকলেই গাছ কাটতো। এখন রুদ্রপুর গ্রামে মাত্র ৮ জন গাছি রয়েছেন। আগে প্রায় ৩শ’র মতো গাছি ছিলো। এখন গাছিরা অন্যের খেজুর গাছ ভাগে নিয়ে রস ও গুড় তৈরী করেন। আগেকার দিনে সকলেই নিজেদের গাছ নিজেরাই করতেন। এখনকার দিনে এক ভাড় রসের দাম ২৫০/ ৩০০ টাকা এবং এক কেজি নলেন গুড়ের পাটালির দাম ৫/৭ শ টাকা। তবুও তারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারেন না। তিনি আরো জানান, একটা খেজুর গাছ তোলা খরচ পড়ে ৭০ টাকা, এবং প্রতিটি গাছ কাটতে পারিশ্রমিক দিতে হয় ২০ টাকা। রস নিজেরা পেড়ে নিতে হয়। এসব কারনে অনেকের খেজুর গাছ থাকলেও তারা নিজেরা গাছ না করে প্রয়োজনে রস ও গুড় কিনে খান। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক বছর ধরে রসের উৎপাদন অনেক কম হচ্ছে। শীত বেশী পড়লে রসও বেশী হয় বলে তিনি জানান।

    অপর গাছি জুলফিকার আলি বলেন, খেজুর গাছে এখন অনেক লাভ। আগে ১০ টাকায় ১ভাড় রস বিক্রী হতো, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩শ টাকায়। ১ কেজি গুড়ের দাম ছিলো ৩০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫ /৭ শ টাকা। বর্তমানে একটা গাছে এক মৌসুমে ৩ হাজার টাকার রস ও গুড় পাওয়া যায়। একশ’টা খেজুর গাছ থাকলে ৩ লাখ টাকারও বেশী আয় হয় তা থেকে। খেজুর গাছে জমির অন্য ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না, জমিরও ক্ষতি হয় না । ফসলী জমির চারি পাশে খেজুর গাছ লাগিয়ে বাড়তি উপার্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, আগের মতো সবাই আগ্রহী হলে এলাকায় রস ও গুড়ের চাহিদা মিটিয়েও বাইরে রপ্তানি করা সহজ হবে। এবং জেলার ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

    এব্যাপারে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, গ্রাম-বাংলা তথা যশোরের ঐতিহ্য রক্ষা করতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও জমির আইলে খেজুর গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ পেশার সঙ্গে জড়িত গাছিদের নিয়ে সমাবেশ করে তাদের রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের পাশাপাশি বিপননের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

  • রাজশাহীতে হিমাগার মালিকদের দৌরাত্ম্যে আলু চাষিরা অসহায়

    রাজশাহীতে হিমাগার মালিকদের দৌরাত্ম্যে আলু চাষিরা অসহায়

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী অঞ্চলে হিমাগার(কোল্ডস্টোর) মালিকদের দৌরাত্ম্যে আলু চাষিরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর আকর্ষিক সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন চাষিরা। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় আলু চাষিরা সমবেত হয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতি বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার না করলে হিমাগার ঘেরাও করা ছাড়াও বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন আলু চাষিরা। এবার আলু সংরক্ষণ নিয়ে চাষিরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আলু চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, লাভজনক হয়ে ওঠায় রাজশাহী জেলাজুড়ে ব্যাপকভাবে আলুর চাষ হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। আবাদ মৌসুমে উৎপন্ন আলুর বাজার চাহিদা ও দাম কম থাকায় সারা বছর হিমাগারে সংরক্ষণ করেন রাজশাহীর কয়েক হাজার বাণিজ্যিক চাষি ও মৌসুমি ব্যবসায়ী। হিমাগার থেকে বের করে এসব আলু বছরের বারো মাস বিক্রি ও বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়। আলু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকায় গত কয়েক বছরে রাজশাহীজুড়ে আলু চাষ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী চাষিদের অভিযোগ, গত বছর রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে মৌসুমে আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল প্রতি কেজিতে ৪ টাকা। তবে এবার আলুর আবাদ শুরুর পর হিমাগার মালিকরা সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একতরফাভাবে।
    ফলে আলু সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কারণ সংরক্ষণ খরচ বাড়ার ফলে তাদের মুনাফার পরিমাণ কমে যাবে। রাজশাহী জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে এক মৌসুমের জন্য আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল প্রতি কেজি ৪ টাকা। কিন্তু আবাদ শুরুর পর বাণিজ্যিক আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা অগ্রিম বুকিং দিতে গেলে তাদেরকে জানানো হয়েছে এবার প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ চাষিরাও হিমাগারে বুকিং দিতে গিয়ে সংরক্ষণ ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ার কথা জানতে পারেন। এরপর থেকেই আলু চাষিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভাড়া না কমালে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন চাষিরা।
    রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলু চাষি গোলাম রাব্বানী বলেন, চাষিরা কাছাকাছি থাকা হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ করেন। এতে পরিবহণ খরচ কিছুটা কম হয়। গত মৌসুমে আমরা ৫০ কেজির এক বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া দিয়েছি ২১০ টাকা। এটাকে পেইড বুকিং বলা হয়। অন্যদিকে খোলা আলু সংরক্ষণ ভাড়া কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। সাধারণভাবে ৬০ থেকে ৬৫ কেজি খোলা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া গত বছর ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। এটাকে লুজ বুকিং বলা হয়। গত বছর আমরা দুই ধরনের বুকিং ব্যবস্থায় কেজিপ্রতি আলু সংরক্ষণে গড়পড়তা ৫ টাকা করে ভাড়া দিয়েছি। এবার সেই ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। তানোর উপজেলার গাগরন্দ এলাকার আলু চাষি মসলেম উদ্দিন বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে বিদ্যুৎ খরচ ছাড়া অন্য কোনো বাড়তি খরচ নেই। বিদ্যুতের দাম বাড়েনি। হিমাগারের শ্রমিকরা চাষিদের ভাড়ায় আলু ওঠা-নামার কাজ করেন। ঠিক কী কারণে এবার সংরক্ষণ ভাড়া দ্বিগুণ হবে-সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। হিমাগার মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে চাষিদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করার দরকার মনে করেননি। তানোরের আলু চাষি আব্দুল মান্নান সমাবেশে বলেন, আমরা আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত হিমাগার মালিকদের সময় বেঁধে দিলাম। মালিকরা বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার না করলে আমরা চাষিরা হিমাগার ঘেরাও করব। প্রয়োজনে সব হিমাগারের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
    এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর তানোরের গোল্লাপাড়া বাজার ফুটবল মাঠে হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েক হাজার আলু চাষি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে আলু চাষিরা আন্দোলনের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, হিমাগার মালিকরা বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার না করলে হিমাগারগুলোর সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে হিমাগারে আলু যেতে না পারে। সমাবেশ শেষে আলু চাষিরা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চার দফা সংবলিত একটি দাবিনামা জমা দেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, আলু চাষিদের একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। আমরা হিমাগার মালিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আলু সংরক্ষণ করতে গিয়ে চাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতি বা কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার বলেন, জ্বালানি খরচসহ হিমাগারের ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়েছে। শ্রমিক ভাড়াও বেড়েছে। বর্ধিত সংরক্ষণ ভাড়া আদায় না করলে হিমাগার পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে যাবে। কোল্ড স্টোরেজ সমিতির সভাপতি আরও বলেন, প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি আলু রাখার কথা। কিন্তু চাষিদের সুবিধার্থে আমরা ৬০ থেকে ৬৫ কেজিও গ্রহণ করি। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি চাষিরা ৫০ কেজির কথা বলে বস্তায় ৭৫ থেকে ৮০ কেজিও আলু রাখেন। এতে আমরা হিমাগার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বস্তায় বেশি আলু থাকলে লোড- আনলোডের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বেশি ভাড়া দিতে হয়। অনেক সময় শ্রমিকরা অতিরিক্ত লোডের বস্তা ওঠানামা করতে চায় না। চাষিদেরও বিষয়গুলো বুঝতে হবে। আমরা চাই চাষিরাও আমাদের সমস্যাগুলো বুঝবে। উল্লেখ্য, রাজশাহীতে সর্বাধিক ৩৮টি হিমাগার রয়েছে যেগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ বস্তা। ওজনের পরিমাপে হয় সাড়ে ৫ লাখ টন। হিমাগারগুলোর অধিকাংশই জেলার পবা, তানোর, মোহনপুর, বাগমারা ও দুর্গাপুর এলাকায় অবস্থিত। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৩৭ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ১০ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।#