কেএম শহীদুল সুনামগঞ্জ।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ ৫টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষনা করলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।সারাদেশের ন্যায় ১২ ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
যার মধ্যে
সুনামগঞ্জ=১ (তাহিরপুর,মধ্যনগর,ধর্মপাশাও জামালগঞ্জ)-আসনে বেসরকারী ভাবে বিজয় হয়েছেন ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল।তিনি ১লক্ষ ৬১হাজার ৭৭৪ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রীতিকে তোফায়েল আহমদ ৯২হাজার ৯৬৬ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।এখানে ১৭৮টি ভোট কেন্দ্রে শান্তি পূর্ণ ভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ঐ আসনে হ্যা ভোটের পক্ষে ১,৪২,৮১৩ ভোট এবং না ভোটের পক্ষে ৬৯,৬৯৩ভোট ভোটাররা প্রদান করেন।
সুনামগঞ্জ=২ (দিরাই, শাল্লা)-আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ নাছির চৌধুরী তিনি ৯৯হাজার ৫২২ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিেদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোঃ শিশির মনির ৬৩ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ঐ আসনে ১১১টি ভোট কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এখানে হ্যা ভোটের পক্ষে ছিল ৬৭,৪১০ভোট এবং না ভোটের পক্ষে ৭০,৮২৩ ভোট।
সুনামগঞ্জ=৩ ( জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ)-আসনে ১৪৮টি ভোট কেন্দ্রে শান্তি পূর্ণ ভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এবং এই আসনে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন ধানের শীষের প্রার্থী কয়ছর আহমদ, তিনি ৯৭হাজার ৩১৩ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র তালা প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ৪২হাজার ২২৬ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ঐ আসনে হ্যা ভোটের পক্ষে ৯৩,২৭৪ভোট এবং না ভোটের পক্ষে ৪৫,৪১৯ভোট।
সুনামগঞ্জ=৪ ( সদর ও বিশ্বম্ভর)-আসনে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এড.নুরুল ইসলাম নুরুল, তিনি পেয়েছেন ৯৮হাজার ৯২ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মোঃ সামছ উদ্দিন ৭৫হাজার ৭৩৫ভোট পেয়ে পরাজিত হন।এই আসনে ১১৬টি ভোট কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও এই আসনে গণভোটের হ্যা ভোটের সংখ্যা ছিল ১,২৩,৮২৯ ভোট এবং না ভোটের সংখ্যা ছিল ৫৩,৯১৮ভোট।
সুনামগঞ্জ=৫(ছাতক, দোয়ারা)-আসনে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। তিনি ১লক্ষ ৫২হাজার ৯৯৭ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আবদুস সালাম আল মাদানী তিনি ৯৯হাজার ৯২৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ঐ আসনে ১৭১টি ভোট কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হ্যা ভোটের সংখ্যাছিল ১,৪৭,৯২৪ ভোট এবং না ভোটের সংখ্যা ছিল ৭৬,৫৩০ ভোট।।
১২ই ফেব্রুয়ারী গভীর রাত ২ঘটিকায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বেসরকারী ভাবে সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষনা করেন। প্রথমে তিনি সারা জেলার প্রত্যেকটি কেন্দ্রের ফলাফল একএক করে ঘোষণা করেন পরবর্তীতে রাত ২ঘটিকায় সমগ্র জেলার ৫টি আসনে নির্বাচিত বিজয়ী প্রার্থী ও ধানের শীষের ফলাফল চুড়ান্ত ভাবে ঘোষনা করেন। ##
Blog
-

সুনামগঞ্জ ৫টি সংসদীয় আসনেই বিএনপির জয়
-

রাজধানী ঢাকা-৮সহ সাভার- আশুলিয়ায় ভোটকেন্দ্র দ-খলের চেষ্টায় ধাও-য়া-পা-ল্টা ধাওয়া
হেলাল শেখঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-৮ আসনে এমপি পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাস ও নাসিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একই সময়ে ঢাকা-১৯ আসনের সাভার ও আশুলিয়ার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রেও দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে এবং অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেন। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
-

অ-বৈধ অনুপ্রবেশ করে ভোট কেন্দ্র দ-খলের চেষ্টায় জামায়াতের দুই এজেন্টকে ২বছর স-শ্রম কা-রাদণ্ড
হেলাল শেখঃ ঢাকার মিরপুর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টার দায়ে জামায়াতের দাড়িপাল্লা মার্কার দুইজন এজেন্টকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক তাদের কারাদণ্ড এ দেন। তারা হলেন- মেহেদি হাসান খাদেম (৩২), রাইহান হোসেন (২৩)। তাদের দুজনের কাছ থেকে ২টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই এজেন্ট কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলামের (সহকারী শিক্ষিকা) সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩(২)(বি) অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর ৬নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী বলে জানান ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র।
-

আশুলিয়ায় ভোট কেন্দ্র দ-খল চেষ্টার অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীকে আ-টক
হেলাল শেখঃ ঢাকা-১৯ আসনের আশুলিয়ায় দুইটি ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাদের আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর টহল দল ধামসোনা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নতুননগর নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৯জনকে আটক করে।
আটকৃতরা হলেন-ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন মধুপুর এলাকার শামসুল হকের ছেলে আব্দুর রহমান (৪২), বশির উদ্দিন বেপারীর ছেলে মো. শাহজাহান বেপারী (৬৪), ইয়াকুব আলীর ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার (৫২), শাহজাহান বেপারীর ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (২৪), মো. বাবুল হোসেনের ছেলে মো. সুমন (২৩), আহমদ আলীর ছেলে মো. সুজন (২০), মো. তাইজুল ইসলামের ছেলে মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০), আখতার হোসেনের ছেলে মো. সুমন (৩৬) এবং গোপিপাড়া এলাকার দানেজ আলী শেখের ছেলে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (৩৫)। তারা সবাই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা: দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সমর্থক বলে জানান স্থানীয়রা।
এছাড়াও একই সময়ে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নলাম ভোটকেন্দ্রে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ৪জনকে আটক করা হয়।
আটকৃতরা হলেন-আশুলিয়া থানাধীন নলাম বাগবাড়ি এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে মো. মন্টু মিয়া (৩৫),পানপাড়া এলাকার মো. আলী হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (৩৬), একই এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে কবির হোসেন (৩৭) এবং মজিদ বেপারীর ছেলে রাকিব হোসেন (৩৯)। তারাও একই প্রার্থীর সমর্থক বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই সায়মন শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, সেনাবাহিনী রাতেই ১৩ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
-

বৈ-ষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এনসিপি নেতা এড,মাহবুব এর আহবান
আরিফ রাব্বানী,ময়মনসিংহ :
বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন মুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে হ্যা ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছে ময়মনসিংহে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম নেতা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ময়মনসিংহ-৭ আসনে মনোনীত অ্যাম্বেসেডর ও এন পি এস গনমাধ্যম মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম।রাত পোহালেই ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এইদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দিবেন সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কী-না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিবেন ভোটাররা।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের শুরুই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ময়মনসিংহ-৭ আসনে মনোনীত অ্যাম্বেসেডর ও এন পি এস গনমাধ্যম মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম এর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ জেলায় গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা করা হয়। প্রথম থেকে নির্বাচন প্রচারণার শেষ সময় পর্যন্ত এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম এর পক্ষ থেকে শুধুমাত্র গণভোট নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।
যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম বলেন, “হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে”।
সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট, দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও জানিয়েছে সরকার।
এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম তার প্রচারণায় ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নাগরিক অধিকার, ভোটের গোপনীয়তা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেন।
লিফলেটে বলা হয়, প্রত্যেক ভোটারের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং কোনো ভয়-ভীতি বা বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ভোটার কাউকে বাধ্য নন তিনি কাকে ভোট দিয়েছেন তা জানাতে। ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে গণভোটের প্রশ্ন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর চার দফা প্রসঙ্গে লিফলেটে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক কয়েকটি প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি (হ্যাঁ/না) প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কাঠামো, ভবিষ্যতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ কাঠামো, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো প্রস্তাবগুলোর কথাও রয়েছে।
লিফলেটে আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে হয়রানি বা অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে অভিযোগ জানাতে হবে। এতে আরও নলা হয়েছে-এক ব্যালটে হবে প্রার্থীর ভোট-গোলাপী ব্যালটে দিবো হ্যা ভোট।
এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম এর প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশে ভুয়া তথ্য ও গুজব নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দেয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই করা জরুরি। নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, লিফলেটের মাধ্যমে ভোটাধিকার, নাগরিক দায়িত্ব এবং গণভোটের বিষয়টি সম্পর্কে সহজ ভাষায় ধারণা পাওয়া গেছে।
প্রচারকারীরা বলছেন, গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচনের বাইরে কমিউনিটি উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ পর্যবেক্ষণ করাও নাগরিক দায়িত্বের অংশ।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম বলেন, ভোটারদের সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য ছিলো। আশা করছে সকলকে সচেতন করতে পেরেছি। রাত পোহালেই ভোট সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার উদ্যোগে সমর্থন জানায়- ময়মনসিংহবাসীর কাছে আমরা এটাই প্রত্যাশা করছি
-

রাজশাহী ১ আসনে তিন প্রর্থীর বাড়ি গোদাগাড়ী, জ/য় নির্ধারণ তানোরের ভোটে
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন চারজন প্রার্থী এর মধ্যে তিনজন প্রার্থী হচ্ছে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অন্যজন রাজশাহী সিটির বোয়ালিয়া থানার। তিনজন নিজ এলাকার কমবেশি সবাই ভোট টানবেন। ফলে সবার নজর এখন তানোর উপজেলার দিকে। এখান থেকে যে প্রার্থী যত বেশি ভোট টানতে পারবেন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন সম্প্রদায়ের ভোট পাবেন, তাঁর জয়ের সম্ভাবনা তত বেশি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৯টি। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার প্রায় ৮০ হাজার ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারগণ আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
তবে এ আসনে ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এই আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে ভোটের মাঠে আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে মূলত বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ঘিরে।
মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক সামরিক উপদেষ্টা। অন্যদিকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর। তিনি ১৯৮৬ সালে একবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন শরীফ উদ্দীনের বড় ভাই প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। অপর দুই প্রার্থী হলেন এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের আব্দুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মীর ম. শাহজাহান।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আব্দুর রহমান ও গণধিকার পরিষদের মীর মোঃ শাহজাহান মাঠে নেই বললে চলে। দু’জনেই জামানত ঝুঁকিতে আছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রচারণাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো ছিল। বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা ও কর্মী সমাবেশে এলাকা সরগরম থাকলেও এবি পার্টি ও গণধিকার পরিষদের তেমন কোনো গণ-সংযোগ ছিলনা বললেই চলে । ফলে ভোটের লড়াই কার্যত দ্বিমুখী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা যেকোনো প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এছাড়াও
এ আসনে সনাতন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার রয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। ফলে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নানাভাবে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থিত ভোটার টানার চেষ্টা করছেন। ভোট টানতে নিয়মিত পথসভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ শেষ করেছেন প্রার্থীরা।
এছাড়াও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এবার সনাতন-ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী
আওয়ামী লীগ, নারী ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের অংশগ্রহণই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও আওয়াামী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলার মাধাইপুর, হাজিপাড়া, বেজড়া ও কেশবপরে অনেকের সঙ্গে কথা বল জানা গেছে, ভোটের আলাপ তুলতেই তাঁরা ভোটের হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণের চিত্র তুলে ধরছেন। বেজড়া গ্রামের আব্দুল আওয়াল বলেন, লোকজনের কথা তো শুনতে পাই। সাধারণ মুসলিম ভোটার এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা অর্ধেক অর্ধেক হয়ে গেছে। হিন্দু ভোটাররা ভাগ হয়েছে। ভোটাররা দম ধরে আছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, রাস্তাঘাট সংস্কার, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ নিজের পক্ষে ভোট টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে। সমাবেশগুলোতে এত মানুষ আসছেন, দেখে অবাক হচ্ছি। যিনি বিগত দিনে এমপি ছিলেন, তিনি সততার কাজ করেননি। ফলে মানুষ আমাদের পক্ষে রায় দেবেন ইনশাআল্লাহ। আদিবাসী হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বী গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররাও আমাদের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন।’
এদিকে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বলেন, আমার ভাই ব্যারিস্টার আমিনুল হক কয়েকবার মন্ত্রী ছিলেন এলাকায় স্কুল-কলেজ, রাস্তঘাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আরেক ভাই ড. এম আসাদুজ্জামান পানি সংকট নিরসনে কাজ করেছেন এবং বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। শরিফ উদ্দিন আরো বলেন, ‘এই আসন অতীতে একাধিকবার বিএনপির এমপি মন্ত্রী ছিল। জনগণ পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয় নিশ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে আছি।’ -

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ৬ প্রার্থী এগিয়ে দাঁ-ড়িপাল্লা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে।
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব। দু’জনই এবারের জাতীয় নির্বাচনে নতুন মুখ। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এরা ২০০৯ সালে লড়াই করেছিলেন। সেবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন ডা. ইকরামুল বারী টিপু। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে এলাকায় তাঁরা পরিচিত।
এছাড়া কাস্তে প্রতীকে ডা. ফজলুর রহমান (সিপিবি), লাঙল প্রতীকে আলতাফ হোসেন (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা প্রতীকে সোহবার হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরফানা বেগম ফেন্সি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির মতবিরোধ ও অন্তঃকলহ বিএনপির প্রার্থীর জন্য অনেকটা অস্তিত্বে রয়েছেন।বিশেষ করে বিএনপির সভাপতি ও হেভিওয়েট নেতৃত্ব আব্দুল মতিন মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তৃনমুলের নেতাকর্মীরা অনেকটা ক্ষুব্ধ। তারা এখানো জোরেশোরে টিপুর পক্ষে মাঠে নামেনি। তারা মতিনের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ঘটনা সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি।স্থানীয়রা বলছে, আগামিতে মতিনের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তারা গোপণে টিপুর বিপক্ষে কাজ করতে পারেন।যদি এমনটা হয় তাহলে টিপুর পক্ষে বিজয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে সেই অবস্থা বিরাজমান রয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মান্দা আসনটিকে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তারা সবদিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপিও আসনটিতে খুব শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দুই দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন ডা. ইকরামুল বারী টিপু, যিনি এ আসনে বিএনপির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে দলের ভিতরে মতবিরোধ ও কোন্দল তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিগত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আসনটিতে বরাবরই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির দাবি, এখানে তাদের ভোটার সমর্থন অনেক বেশি। অন্যদিকে জামায়াতও নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা বলছে। চলতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এই সমীকরণ আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিগত নির্বাচনী সমীক্ষায় জানাযায়, ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এ আসনে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন এবং ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত সামসুল আলম প্রামাণিক ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কফিল উদ্দিন সোনার লাঙল প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিককে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রহানি সুলতান মাহমুদ গামা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডা. ইকরামুল বারী টিপু রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বর্তমানে হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিবও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে পরিচিত। তাকে বিজয়ী করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে সিপিবি, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে এ আসনে ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে, আর শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে বিজয় সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভোটাররা।# -

তেঁতুলিয়ায় ৩৭ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁ-কিপূর্ণ ১৫টি, নি-চ্ছিদ্র নিরা-পত্তায় উপজেলা প্রশাসন
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৩৭টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু।
জানা গেছে, এ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন (আটোয়ারী-পঞ্চগড় সদর-তেঁতুলিয়া) মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৭ জন। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলায় ১ লাখ ৯ হাজার ৮০৭ জন ভোটার। এ ভোট গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিস ৭টি ইউনিয়নে ৩৭টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। ৩৭টি ভোটকেন্দ্রে ২১৫টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপুর্ণ। এ ঝুঁকিপুর্র্ণ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের লক্ষে নির্বাচন অফিস ও উপজেলা প্রশাসন ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে র্যাব ২০ জন, পুলিশ প্রত্যেক কেন্দ্রে ২জন, বিজিবি ১১২ জন, আনসার ব্যাটালিয়ন ১৬ জন ও প্রত্যেক কেন্দ্রে আনসার ভিডিপি ১৩ জন তারমধ্যে ২জন অস্ত্রধারী এবং সাতটি ইউনিয়নে ৬৫জন গ্রামপুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার জন্য ২০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ২৫টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। ৩৭ কেন্দ্রেই থাকছে ৩৩১টি সিসি ক্যামেরার আওতায়।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধপরিকর। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন। উপজেলার যথেষ্ট নিরাপত্তা থাকবে তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে আলাদা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ নির্বাচনে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।
-

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাইকগাছায় প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তায় স্বচ্ছতার সাথে ভোটাধিকার নি-শ্চিত হবে
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সফল, অবাধ ও সুষ্ঠু আয়োজনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্রিফিং দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে উপজেলা পরিষদ থেকে নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতি এবং যৌথ বাহিনীর মহড়া ভোটারদের মাঝে আস্থা বাড়িয়েছে। প্রশাসন বলছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি নির্বাচনে নিয়োজিত পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্কতা, কঠোরতা এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ভোটারদের ন্যায়পরায়ণ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি দায়িত্বকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মরিউম আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালনে পূর্ণ মনোযোগী থাকার পাশাপাশি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ভোটারদের স্বচ্ছ ও নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলায় উপকূলে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ চাহিদার প্রেক্ষিতে নৌপথে কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোস্ট গার্ড সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও নৌরুটে টহল জোরদার করেছেন।
মোট ভোটারঃ
পাইকগাছায় মোট ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৮ জন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে পাইকগাছা উপজেলায় হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৪১ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৭ জন।
ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক ভোটার সংখ্যা নিম্নরূপ; পাইকগাছা পৌরসভায় মোট ভোটার ১৫ হাজার ৬৯৯ জন (পুরুষ ৭ হাজার ৫৯১, মহিলা ৮ হাজার ১০৮)। কপিলমুনি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৮৬৪ জন (পুরুষ ১৫ হাজার ৩২, মহিলা ১৫ হাজার ৪৩২)। গদাইপুর ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৭১৭ জন (পুরুষ ৯ হাজার ৭৩৩, মহিলা ৯ হাজার ৯৮৪)। গড়ইখালী ইউনিয়নে ২১ হাজার ৫০০ জন (পুরুষ ১০ হাজার ৮৩৫, মহিলা ১০ হাজার ৬৬৫)। চাঁদখালী ইউনিয়নে ৩৮ হাজার ৩২১ জন (পুরুষ ১৯ হাজার ৫০০, মহিলা ১৮ হাজার ৮২১)। দেলুটি ইউনিয়নে ১৪ হাজার ৩৩২ জন (পুরুষ ৭ হাজার ২১২, মহিলা ৭ হাজার ১২০)। রাড়ুলি ইউনিয়নে ২৭ হাজার ২৬৫ জন (পুরুষ ১৩ হাজার ৯৩১, মহিলা ১৩ হাজার ৩৩৪)। লতা ইউনিয়নে ১০ হাজার ৮১ জন (পুরুষ ৫ হাজার ১৫৬, মহিলা ৪ হাজার ৯২৫)। লস্কর ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৫৯৬ জন (পুরুষ ৯ হাজার ৩৭৬, মহিলা ৯ হাজার ২২০)। সোলাদানা ইউনিয়নে ২০ হাজার ৬৪১ জন (পুরুষ ১০ হাজার ৩৭৮, মহিলা ১০ হাজার ২৬৩)। হরিঢালী ইউনিয়নে ২২ হাজার ২২ জন (পুরুষ ১০ হাজার ৯৯৭, মহিলা ১১ হাজার ২৫)। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের মাধ্যমে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৮৮টি। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে ৪৮৮টি ভোটকক্ষ।প্রেরকঃ
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা খুলনা। -

রাজশাহী-১ আসনে লড়াই হবে দ্বি-মুখী: থাকছে তিনস্তরের নি-রাপত্তা
রাজশাহী মোঃ হায়দার আলীঃ রাত পোহালেই সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে, ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। এবার ৫২ রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনটিতে নির্বাচনে তরুণ ও বিভিন্ন বয়সের ভোটাররা অধীর আগ্রহ নিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন স্তরে নিরাপত্তা বলয় থাকবে। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এবারে এ আসনটিতে নির্বাচনে লড়ছেন ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন-
বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিন। তার প্রতিক ধানের শীষ। বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামে। পিতার নাম ফহীম উদ্দন বিশ্বাস। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গ্রামে। পিতার নাম সেরাজুল ইসলাম। এবি পার্টির আব্দুর রহমান। তার প্রতিক ঈগল পাখী। বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর রোডপাড়া শ্যামপুর গ্রামে। গণঅধিকার পরিষদের মির মো. শাহজাহান। তিনি ট্রাক প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তার বাড়ি রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া পদ্মা আবাসিক এলাকায়। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন মো. আল-সাআদ। এসব প্রার্থীর সবাই গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। এবারে তানোর থেকে কোন এমপি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেই। নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আসনটিতে লড়াই হবে দ্বিমুখী। প্রচারণাকালে মাঠ চষে বেড়ানোর চমকে এবং ভোটারদের আলোচনায় ও জনসমর্থনে বেশ এগিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দিনের প্রচারণাও কম নয়। এদিক থেকে মূলত আসনটিতে জামায়াত ও বিএনপি হাড্ডহাড্ডি লড়াই হবে। তবে, অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে দেখা গেলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আল-সাআদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কেউ নেই। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৯টি। এরমধ্যে তানোরে ৬১টি এবং গোদাগাড়ীতে ৯৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন। আর তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। গোদাগাড়ীতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন। তানোরে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন। আর নারী ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৩২৪ জন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮১টি। এরমধ্যে গোদাগাড়ীতে ৫০টি। তানোর ৩১টি। এ নিয়ে সহকারি পুলিশ সুপার গোদাগাড়ী সার্কেল মির্জা আব্দুস সালাম বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পুলিশ ও আনসারের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে করতে কেন্দ্র ভিত্তিক সমস্যা চিহিৃত করে প্রয়োনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।