Category: দেশজুড়ে

  • জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার ও দেশপ্রেমিক  শিব নারায়ণ দাস আর নেই

    জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার ও দেশপ্রেমিক শিব নারায়ণ দাস আর নেই

    কুমিল্লা থেকে, মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন,

    বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার দেশপ্রেমিক ও জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনারায়ণ দাস (৭৮) মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি রাজধানী একটি হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার দেশ প্রেম স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

    শিবনারায়ণ দাসের জন্ম কুমিল্লায়। তাঁর পিতা সতীশচন্দ্র দাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। শিবনারায়ণ দাসের স্ত্রীর নাম গীতশ্রী চৌধুরী এবং তাঁদের সন্তান অর্ণব আদিত্য দাস।

    শিবনারায়ণ দাস ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন। তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও নেতা ছিলেন। ১৯৭০ সালের ৭ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশ গ্রহণের কথা ছিল। এ লক্ষ্যে ছাত্রদের নিয়ে একটি বাহিনী মতান্তরে ‘ফেব্রুয়ারি-১৫ বাহিনী’ গঠন করা হয়। ছাত্রনেতারা এই বাহিনীর একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

    এ লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১০৮ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন।

    সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা শেষে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান তখন ঢাকা নিউমার্কেটের এক বিহারি দরজির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনেন।

    এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের ৩১২ নম্বর কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। শিবনারায়ণ দাস পরিশেষে নিপুণ হাতে মানচিত্রটি এঁকে দেন লাল বৃত্তের মাঝে। পরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পটুয়া কামরুল হাসান বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নতুন রূপ দেন।
    তার মৃত্যুর খবরে উপস্থিত হন
    জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক শোকবার্তায় শিবনারায়ণ দাসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।এদিকে কুমিল্লা বাসী শোক প্রকাশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

  • উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৩

    উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৩

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধি: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার সানুহার চায়না ক্যাম্প নামক স্থানে হানিফ পরিবহনের একটি বাস পিছন থেকে সিএনজিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে এক সিএনজি যাত্রী নিহত হন।

    এ সময় গুরুতর আহত হয় চালকসহ তিনজন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৯ এপ্রিল শুক্রবার সকাল দশটায় উপজেলার সানুহার চায়না ক্যাম্প নামক স্থানে গৌরনদী থেকে বরিশালগামী সিএনজিকে একই দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে বরিশাল সদরের গোরস্থান রোডের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে গোলাম কিবরিয়া রানা নিহত হন। এ সময় সিএনজি চালকসহ অপর দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়।

    আহতরা হলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের নুরুল হক পেদার ছেলে জাহিদুল ইসলাম পেদা (৪৫) ও বরিশাল সদর উপজেলার গোরস্তান রোডের সালমান হাওলাদারের ছেলে মোস্তফা (৩০)। তবে সিএনজি চালকের পরিচয় জানা যায়নি।

    উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে।

  • মধুপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসীকে মারপিট করে গুরুতর আহত

    মধুপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসীকে মারপিট করে গুরুতর আহত

    আব্দুল হামিদ,
    মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে,(১৫ এপ্রিল) সকাল অনুমান ১১ ঘটিকায় উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের আশ্রা গ্রামের মামা ভাগ্নে মোড় এলাকায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ ও আহত ব্যক্তি এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের হলদিয়া কৈয়াপাড়া এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামদের সাথে একই বংশের পাশাপাশি বাড়ীর শাহাদ আলীর ছেলে শাহীন (২৮) সোহেল (২৪) সাইফুল ইসলাম (৩৫) গংদের সাথে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উল্লেখ্য শফিকুল ইসলাম দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী। সে ঈদের ছুটি নিয়ে ১০ এপ্রিল বাড়ীতে আসে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বিবাদীগন প্রবাসী শফিকুলের বড় ভাই সিদ্দিক (৪৫) ভাতিজা হাসিবুলকে (২৪)কে মারপিট করিলে এ ব্যাপারে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয় মামলা নাম্বার ০৬ তারিখ ১১ এপ্রিল। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। মামলার পর বিবাদীপক্ষ আরও হিংস্র হয়ো উঠে বলে জানান ভুক্তভোগীর পরিবার। এদিকে বিবাদী গন প্রবাসী শফিকুল ইসলামকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ো আসছিল বলে জানান শফিকুল। ১৫ এপ্রিল আশ্রা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনৈক সজীব এর প্রাইভেটকার ভাড়া করে নিজ বাড়ী ফিরার পথে সকাল অনুমান ১১ ঘটিকার সময় হলদিয়া কৈয়াপাড়া গ্রামের শাহাদ আলীর ছেলে শাহীন (২৮) সোহেল(২৪) শাহীনের স্ত্রী পারভীন, শাহাদ আলীর স্ত্রী মেরী(৪৮) রশিদের ছেলে খোকন (৩৮) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন বিবাদী পুর্ব শত্রুতার জের ধরে মহিষমারা ইউনিয়নের আশ্রা মামা ভাগ্নে মোড়এলাকায় পাকা রাস্তায় শফিকুল ইসলামের ভাড়াকৃত প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে শফিকুলকে টেনে হেচড়ে রাস্তার উপর ফেলে এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট করে এবং মাথায় কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তার নিকট থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও জানান। শফিকুল ও ড্রাইভারের ডাক চিৎকার শুনে স্হানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত শফিকুলকে উদ্ধার করে প্রাইভেটকার যোগে তাকে চিকিৎসার জন্য মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। তার অবস্থা আশংকাজনক থাকায় হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্হা করেন। এব্যাপারে শফিকুলের স্ত্রী নাহার বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম।

  • কেশবপুরে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারেশগণের সংবাদ সম্মেলন

    কেশবপুরে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারেশগণের সংবাদ সম্মেলন

    মোঃ জাকির হোসেন,কেশবপুরঃ কেশবপুরে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত বিশ্বাসের ওয়ারেশগণ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগে ১৮এপ্রিল দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।
    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত বিশ্বাসের ভাইয়ের ছেলে উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের সিরাজুল ইসলাম রিপন বলেন, ১৯৪৪ সালে কেশবপুর মৌজার হাল ৬৪৫ ও ৬৪৬ দাগে ৩৫ শতক জমির মালিক তারা প্রসাদ ২০৩৪ নং রেজিঃকৃত পাট্টা দলিলমূলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ দৌলত বিশ্বাসের পিতা ইব্রাহিম বিশ্বাসের কাছে হ হস্তান্তর সহ দখল বুঝে দেন। ইব্রাহিম বিশ্বাস উক্ত দলিলমূলে নালিশী ২৭১ নং দাগের ৩৫ শতক জমি ৩ছেলে গহর আলী, অহর আলী, বাকের আলী ও গহর আলীর ছেলে রেজাউল হককে ওয়ারেশ রেখে মারা যান। তৎকালিন তহশীলদার ইব্রাহিম বিশ্বাসের ওয়ারেশগণকে নালিশী জমি থেকে বেদখল করার ষড়যন্ত্র চালালে তারা কালেক্টরের কাছে আপত্তি দাখিল করেন। ১৯৫৯ সালের ১১ডিসেম্বর আদেশে নালিশী জমি অধিগ্রহণযোগ্য নয় মর্মে সিদ্ধান্ত দেয়। উপরোক্ত বাকের আলী রায় বর্ণিত ৩০ থেকে ৪০ নং বাদীপক্ষকে এবং রেজাউল হক ১৭ থেকে ২২ নং বাদীপক্ষকে ওয়ারেশ রেখে মারা যান। রায়ে বর্ণিত ১ থেকে ১৭ ও ৩৪ নং বাদীপক্ষ নালিশী জমিতে খরিদা ও ওয়ারেশ সূত্রে স্বত্ত্ববান ও দখলকার হয়ে বসতবাড়ি হিসেবে বসবাস ও দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা বাণিজ্য ও ভাড়া প্রদান করে আসতে থাকে।
    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর তফশীল জমি আরএস চুড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হলে দেখা যায়, সরকারি এক নং খতিয়ানে উক্ত জমি রেকর্ড হয়েছে। এরপর ২০০২ সালে কেশবপুর পৌরসভার তৎকালিন মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়ায় আমাদের ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। এরপর আদালতে মামলা করা হয়। দীর্ঘদিন পর গত ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ যশোর সহকারি জজ আদালতের রায় ও ডিগ্রী মোতাবেক মৃত ইব্রাহিম বিশ^াসের ওয়ারিশগণই হাল- ৬৪৫, ৬৪৬ নং দাগের ৩৫ শতকের মধ্যে ১৮ শতক জমির প্রকৃত মালিক বলে বায় প্রদান করেন। এ নিয়ে আমরা দুটি রায় পেয়েছি। রায় পাবার পরই আমরা ওই নালিশী জমির নামপত্তন করার জন্যে সহকারী কমিশনার ভূমির কাছে আবেদন করেছি। বর্তমানে শহীদ পরিবারের ১৭ জন ওয়ারেশই ওই ১৮ শতক জমির প্রকৃত মালিক।
    সিরাজুল ইসলাম রিপন আরও বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়েও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানেরা এ হয়রানিমূলক মামলার খরচ যোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যাতে ওই জমির দখল বুঝে পেতে পারি তার জন্য প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ দৌলত বিশ্বাসের পরিবারের ওয়ারেশগণ উপস্থিত ছিলেন।

    বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভ^াবনা
    কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় ১১ হাজার মেট্রিকটন
    ধান উৎপাদন থেকে বি ত হচ্ছে কৃষক
    মোঃ জাকির হোসেন,কেশবপুরঃ কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। তবে মৎস্য ঘেরের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ৪শ‘৩০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ না হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার ৭শ‘২৫ মেট্রিকটন ধান কম উৎপাদন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। ফলন না হওয়া ধানের বাজার মূল্য ২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
    সারা দেশের মধ্যে ধান-চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য উৎপাদনের উদ্বৃত্ত উপজেলা হিসেবে কেশবপুর উপজেলার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। ধান খেতের মাঠগুলো এখন সোনালী রঙের আভায় এক অপরূপ সাজিয়েছে। বোরো ধানের সোনালী শীষ দোল খাচ্ছে বাতাসে। সেচ, আগাছা পরিষ্কারসহ সকল কাজ সম্পন্ন করে এখন ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর এ উপজেলার হাজারো কৃষক। পুরো উপজেলায় এবার হাইব্রিড ছাড়াও উফশী ব্রি-ধান- ২৮, ব্রি-ধান- ৫০, ব্রি-ধান- ৬৩, ব্রি-ধান- ৭৪, ব্রি-ধান- ৮৮ ও ব্রি-ধান- ১০০ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশী। কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১৪ হাজার ৫‘শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ধানের উৎপাদন ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩শ‘০৭ মেট্রিকটন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলেও মৎস্য ঘেরের সৃষ্ট জলাবদ্ধার কারণে বিলের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৪শ‘৩০ হেক্টর কম জমিতে ধানের চাষ হয়। এরমধ্যে হাইব্রিড- ৪ হাজার ১শ‘৭০ হেক্টর ও উফশী- ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি। ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় ্এবার ১০ হাজার ৭শ‘২৫ মেট্রিকটন ধান কম উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য ২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ঘেরের পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হওয়ায় উপজেলার বাগডাঙ্গা, পাঁজিয়া, কালিচরণপুর, বিলখুকশিয়া, কাটাখালি, মনোহরনগর, নারায়নপুর , হদ, তেঘরি,পর্চক্রা ও বাউশলা বিল এলাকার হাজারো কৃষক এবছর বোরো ধানের আবাদ করতে পারেনি। ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম, মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, তাদের গরালিয়া বিলের জমি ঘের মালিক সেলিমুজ্জামান আসাদের কাছে লিজ দেয়া হয়েছে। ঘের মালিক মাছ চাষের জন্যে প্রতি শুষ্ক মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে ঘের ভরাট করে। আবার ইরি বোরো মৌসুমে স্যালো মেশিন দিয়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন করলে কৃষকরা ধান আবাদ করে। জলাবদ্ধতার কারণে বিলের ১ হাজার বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদ হয়নি। তেঘরী গ্রামের মাওলানা মছিউর রহমান জানান তাদেও এলাকার বিলে ধান চাষ করতে নাপারার কারন মৎস্য ঘের মালিকরাই দায়ী।
    উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, পাউবো নদী খাল খনন করলেও শ্রীনদীর নাব্যতা না থাকায় তা আবারও পলীতে ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে ঘেরের পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৪শ‘৩০ হেক্টর কম জমিতে ধানের আবাদ হয়। কৃষকের চাহিদামত সার, বীজের কোনো ঘাটতি ছিল না, আবহাওয়াও ছিল অনুকুলে। ইতোমধ্যে উপজেলার অনেক এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন।

    মোঃ জাকির হোসেন
    কেশবপুর,যশোর

  • সুজানগরে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত

    সুজানগরে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত

    এম এ আলিম রিপন ঃ ‘প্রাণি সম্পদে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে পাবনার সুজানগরে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে একযোগে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে এদিন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প(এলডিডিপি) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বাস্তবায়নে সুজানগর পৌর গবাদি পশুর হাট মাঠ চত্বরে প্রাণিসম্পদ সেবা উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণি সম্পদ প্রদর্শনী মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম হোসেন শেখ,উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন,সুজানগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ আবু রেজা তালুকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সোলাইমান হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদার, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই,সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ অ লের মানুষ উন্নত প্রজাতির পশু ও পাখি লালন-পালনে উদ্বুদ্ধ হবে বলে জানিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বলেন, এ দেশ বিভিন্ন জাতের পশু পালন বিষয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। হাঁস-মুরগীর ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে। আর দেশের মানুষ যাতে উন্নত প্রজাতির পশু ও পাখি লালন-পালনে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এর সুফল জনগণের মাঝে পৌঁছে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হচ্ছে উপজেলার খামারীদের প্রাণিসম্পদ প্রতিপালনে উদ্বুদ্ধকরণসহ আধুনিক কলাকৌশল বিষয়গুলো জানানো। এছাড়া খামারিদের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ প্রতিপালন করে আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ আমিষের যোগান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ আবু রেজা তালুকদার জানান,প্রদর্শনীতে ৩৫টির অধিক স্টলে উন্নত জাতের গরু, ছাগল, ভেড়া, মুরগী, কবুতরসহ বিভিন্ন পশুপাখি প্রদর্শন করা হয়।পরে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে ১ম,২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী খামারীদের পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থের চেক ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারী ইউজার আইডি ভাড়া নিয়ে প্রধান শিক্ষকের রমরমা বানিজ্য

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারী ইউজার আইডি ভাড়া নিয়ে প্রধান শিক্ষকের রমরমা বানিজ্য

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    বিশ্বাস করুন আর নাই করুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আইডি এখন ভাড়া খাটছে। আইডি ভাড়া নিয়ে সদর উপজেলার পুর্ব তেঁতুল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান সাধারণ শিক্ষকদের ফাঁদে ফেলে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের ইউজার আইডিতে প্রবেশ করে তাদের গুরুত্বপুর্ন তথ্য নয়ছয় করছেন। আবার কোন কোন তথ্য মুছেও দিচ্ছেন। আর এই চক্রের তত্বাবধানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে বদলী নিয়ে ব্যপক জালিয়াতি করা হয়েছে। এ নিয়ে বদলিচ্ছু শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। পেশায় জুনিয়র জনৈক এক শিক্ষা কর্মকর্তার স্ত্রীকে বদলির সুযোগ করে দিতে অন্য শিক্ষকদের আইডি থেকে গুরুত্বপুর্ন তথ্য মুছে দিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ফলে জেলার অন্তত ১৩জন সিনিয়র শিক্ষকের বদলি আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। এদিকে অনলাইনে আবেদন বাতিল হওয়া বদলিচ্ছু শিক্ষকরা এ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অনলাইনে এই বদলি জালিয়াতির তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
    অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শিক্ষকদের বদলির সার্ভার খুলে দেওয়ার পর জেলার ৬৮৮টি শুন্য পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন শিক্ষক অনলাইনে আবেদন করেন। এরমধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট ও মাওলানাবাদ ক্লাস্টারে মহা জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়ে পড়ে। মাওলানাবাদ ক্লাস্টারে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এটিইও শাহজাহান রিজুর স্ত্রী সুরাইয়া পারভিন। তাকে ঝিনাইদহ শহরে বদলি করে আনার জন্য একাধিক সিনিয়র শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির আবেদন ঢালাও ভাবে বাতিল করা হয়েছে। ফলে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে জুনিয়র শিক্ষকদের বদলীর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
    অভিযোগ উঠেছে, অনলাইনে বদলীর সরকারী সার্ভার উন্মুক্ত হওয়ার ১৫ দিন আগে এটিইও রিজুর স্ত্রী সুরাইয়া পরভিনের আসল তথ্য তার আইডি থেকে ডিলিট করে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়, যাতে তার স্কোর বৃদ্ধি পায়। আর এই কাজটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খালেকুজ্জামানের পরামর্শে করেন পুর্ব তেঁতুল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান। তিনি নিজেও সুরাট ক্লাস্টার থেকে অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে বদলি হয়ে ঝিনাইদহ শহরে এসেছেন। একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, শিক্ষক তৌহিদুজ্জামানের কাছেই মুলত সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের আইডি থাকে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে তৌহিদুজ্জামান উপজেলা শিক্ষা অফিসেই পড়ে থাকেন। শিক্ষা অফিসারদের দাপ্রীক কাজ তিনিই করে থাকেন। এক্ষেত্রে তাকে স্কুলে যেতে হয়না বলেও অভিযোগ। এই তৌহিদুজ্জামান বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকের আইডিতে প্রবেশ করে গুরুত্বপুর্ন তথ্য ডিলিট করে দিয়ে টাকা দাবী করে থাকেন বলে কথিত আছে।
    অভিযোগ আছে শিক্ষা কর্মকর্তার স্ত্রী সুরাইয়ার আইডিতে স্কুলের দুরত্ব ছিল ১৩ কিলোমিটার। কিন্তু অনলাইনে বদলীর আবেদনের সময় সেখানে দেখানো হয় ২৭ কিলোমিটার। সেশন স্কোর বাড়ানোর জন্য প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়। সুরাইয়া পারভিনের আইডিতে পুর্ববর্তী কর্মস্থল ছিল বাকড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু স্কোর বৃদ্ধির জন্য পুর্বের কর্মস্থলের তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়। এতে তিনি ২৫ এর মধ্যে ২৫ পেয়ে নজীর সৃষ্টি করেন। সুরাট ক্লাস্টারের একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের ‘ভাড়’ হিসেবে পরিচিত পূর্ব তেঁতুল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান এসব অপকর্ম করে থাকেন বলে অভিযোগ। তার কাছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খালেকুজ্জামানের আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকার কারণে শিক্ষকদের হয়রানী করেন হরহামেশা। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের টিইও শাহাজান রিজু বলেন, তার স্ত্রীকে যথাযথ আইন মান্য করেই বদলীর পক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অনলাইন জালিয়াতির যে তথ্য অন্যান্য শিক্ষকরা করছেন তা সত্য নয় বলে তিনি জানান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা, জানান এ বিষয়ে তিনজন শিক্ষকের আবেদন পেয়েছি। আমি যাচাই বাছাইয়ের জন্য উপজেলায় পাঠিয়েছি। সেখান থেকে মতামত আসার পরই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মসলেম উদ্দীন, ভুয়া ও জালিয়াতি তথ্য দিয়ে স্কোর বাড়ানোর কথা আমি শুনেছি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার অনুমোদন গ্রহনের আগেই অনেক শিক্ষক বদলির ম্যাসেজ পেয়ে যান কি ভাবে তাই আমি বুঝতে পারিনা। তিনি বলেন ঝিনাইদহের বদলি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ আমি পেয়েছি। বিষয়গুলো সুক্ষ ভাবে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তার বদলির আদেশ বাতিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ

  • ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা নদী এখন  বিলে পরিনত হয়েছে

    ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা নদী এখন বিলে পরিনত হয়েছে

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলী : নদীর দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে নদীর বেহালদশা। পদ্মা নদীসহ শ শ নদী মরে যাচ্ছে, অস্তিত্ব বিলীন হয়ে য দেশে জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে । এখন শুধু ইতিহাসের পাতায় লেখা একটি নদীর নাম পদ্মা । এটা কি নদী ? বিশ্বাস করা যায় না । পদ্মার সেই খরস্রোত নেই কেন ? এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে একালের শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রীসহ কোন আগন্তুককে । বিশাল-বিস্তৃত ধুধু বালুচর আর পানির ক্ষীণ বিল কিংবা লেকের মতো পদ্মার ঐতিহ্য অস্তিত্বকে এতটা বিপন্ন করেছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মিত হয়েছে আবহমানকাল ধরে প্রবাহিত গঙ্গা-পদ্মা নদীর ভারতের অংশ ফারাক্কায় । ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ফরাক্কা ব্যরেজটি একতরফাভাবে নির্মাণ করে ভারত। কিন্তু ভারত কৌশলগতভাবে ব্যারেজটি তখনই চালু করেনি । তখন পাকিস্থানে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথানের ১৯৭০ সালের জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি এবং সবশেষে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বধীনতা অর্জনের কাল। তারপরেও ভারত অপেক্ষা করে এবং অবশেষে ১৯৭৫ ইং সালের ২১ এপ্রিল ভারত ফারাক্কা চালু করার পর থেকে অব্যাহতভাবে মরণদশা শুরু হয়েছে ।

    নদী আছে পানি নেই, বালু আছে কিন্তু কোথায় যেন কোন মাটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পদ্মার কোলে জেগে উঠা চরে সবুজ ফসল ফলানো সম্ভাব হচ্ছেনা । প্রতি বছর বালু জমতে জমতে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে । পদ্মার ভয়াবহ রুপ দিনে দিনে হারিয়ে ফেলেছে । বিগত বছরগুলোতে এ নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা থাকলেও এ বার তাও নেই । একটা বিলে পরিণত হয়েছে । এখন রেলবাজার ঘাটের সামনে মানুষ সাঁতার দিয়ে নদী পার হতে পারছেন। কয়েক বছর পর নৌকার পরিবর্তে গরুর গাড়ী, বাইক কিংবা সাইকেলে নদী পার হওয়া যাবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
    ফারাক্কা ব্যরেজের সব কয়টি গেট বন্ধ করে নদী শাসন করে মেরে ফেলা হয়েছে অসংখ্য নদ নদীকে, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে পরিবেশ জীবন জীবিকায় নেমে এসেছে প্রচন্ড ধ্বস। দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে । গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে যাওযায় উত্তাঞ্চলের বেশীর ভাগ নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায় । দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট । উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে এনেছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ; এসব এলাকার মানুষ যাকে মরণ ফাঁদ বলে জানে ।

    এ ব্যারেজ চালু হওয়ার সময় বলা হয়েছিল এটি উভয় রাষ্টের কল্যাণের প্রতীক। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভরতের বিমাতাসুলভ আচারণের কারণে আজ এ ব্যারেজ দেশের মানুষের জন্য অকল্যাণ। একতরফা পানি প্রত্যাহার করে ভারত তাদের বন্দর, কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখলেও এদেশের কৃষি, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকাকে ঠেলে দিয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে । বিভিন্ন সময়ে পদ্মার পানি বন্টন নিয়ে অনেক আলোচনা মাপজোঁক আর পর্যবেক্ষণ হয়েছে । চুক্তি হয়েছে, চুক্তি নিয়ে সংসদে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়ছে। কিন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যে কখনই চুক্তি মোতাবেক পানি জুটেনি । তবে পানি এসেছে সংসদে, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া, অন লাইন পত্রিকায়, টেলিফোনে। এর ফলে শুধু পদ্মা নয় অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর পানি ভারত একতরফা প্রত্যাহার করে চলেছে । ফলে এপারের নদ-নদীগুলো মরে যাচ্ছে ।
    পদ্মা নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে শাখা নদী বড়াল, মরাবড়াল, নারোদ, মুছাখান, ইছামতি, চিকনাই, নাগর, ধলাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসলা, কাজলা, চিত্রা, সাগোরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ মরে যাচ্ছে। কালিগঙ্গা, বেলাবত এসব নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে । বর্ষা মৌসুমে কিছু দিনের জন্য এসব নদীতে পানি থাকলেও প্রায় সারা বছর থাকে পানিশূন্য । তাছাড়া এসব নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে দু পার্শ্ব অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে । সরকারী দলের তথা কথিত যারা বালিখোর, টিআর গোর, টেন্ডার বাজ, সরকারী খাদ্য গুদামে গমখোর, খাস পুকুরখোর, তারা ড্রেজার, টলি, ট্রাক, লরি প্রকাশ্যে নামিয়ে নদী থেকে দেদারসে বালি মাটি নিয়ে গিয়ে ইটভাটা, ভরাটসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ করায় পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর পাড়, কোটি কোটি টাকার নির্মিত বাঁধ নষ্ট করে দিচ্ছে । দেশের নদী এতটা বিপন্ন হয়েছে যেন এখন এসব নদীর নাম বইয়ের পাতায় কিংবা মানচিত্রে স্থান পেয়েছে ।

    জলবায়ুর উপর দেখা দেয় বিরুপ প্রভাব। এর অন্যতম প্রধান কারণ মরণ বাঁধ ফারাক্কা । মৃত. মৌলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী ফারক্কা ব্যারেজের বিরুদ্ধে ব্যারেজমূখি ফারাক্কা লং মার্চ করেছিলেন, ব্যরেজটির মারাত্বক পরিণতির কথা বিবেচনা করে । বাংলাদেশ ভাটির দেশ হয়ে এবং তুলনামূলকভাবে ভারতের চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র দেশ হওয়ার কারণে কখনোই তাদের অভিযোগ স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। ফারাক্কা ব্যারেজ উজানে পানি প্রত্যাহারের প্রকল্প নয়। এটি একটি শত-সহস্র বছর ধরে প্রবাহমান আন্তজাতিক নদীর গতিপথের সম্পূর্ণ পরিবর্তন যা আন্তজাতিক আইন কানুনের পরিপন্থী।
    প্রতিবছরের মত এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় একাধিক দফায় হয়েছে। বন্যায় অনিবার্য ছিল নদীভাঙন। বন্যা ও নদীভাঙনে অসংখ্য বাড়ি-ঘর, স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলাদি বিনষ্ট হয়েছে। বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়ে লাখ লাখ মানুষ দুঃখ-দুর্ভোগ, বিপদ-বিপন্নতার শিকার হয়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি, জমিজিরাত হারিয়ে পথের ভিখারিতে পরিণত হয়েছে এবং কিছুটা ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। যখন বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে, তখন কোনো কোনো এলাকায় অনাবৃষ্টি ও খরার প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈপরীত্যের কারণ, জলবায়ুর পরিবর্তন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রতিক্রিয়া বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। একই দেশে একই সময়ে বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজাত ফল। এটা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বৃষ্টি হয়েছে সেখানে খুব বেশি হয়েছে। যেখানে হয়নি সেখানে একেবারেই হয়নি। অতীতে এরকমটি কখনো দেখা যায়নি।

    অতীতে আমরা দেখছি, পদ্মার পানির ওপর নির্ভরশীল গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প তিস্তার পানির ওপর নির্ভরশীল তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ অন্যান্য সেচ প্রকল্প তাদের কমান্ড এরিয়ার সামান্য অংশেই কেবল সেচসুবিধা দিতে পারে। বেশিরভাগ জমি সেচ সুবিধার বাইরে থেকে যায়। জমির মালিকরা তাদের মতো করে আবাদ করতে পারলে করে, না পারলে জমি পতিত থাকে। এভাবে সেচ প্রকল্পাধীন এলাকায় চাষাবাদ প্রতি বছরই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন সম্ভবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। নদীতীরবর্তী এলাকায় নদীর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করার কোনো সুযোগ থাকে না, নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায়। এর বাইরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভও করে যে সেচব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়। মাত্রাতিরিক্তি পানি তোলার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আর আগের অবস্থানে নেই, বহু নিচে নেমে গেছে। দিনে দিনে পনির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তাও আর্সেনিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত থাকে, ফসলের জন্য যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। বলা যায়, শুকনো মওসুমে ফসলের আবাদ-উৎপাদন ক্রমেই সংকটাপন্ন ও অসম্ভবপর হয়ে উঠছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারনে , ভূগর্ভস্থ পানিতে যখন টান পড়ে তখন খালবিল, জলাশয়, পুকুর ডোবায়ও কোনো পানি থাকে না। পানির জন্য দেশজুড়েই হাহাকার পড়ে যায়। এতে আবাদ-উৎপাদনই শুধু ব্যাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এমনকি পান ও ব্যবহারযোগ্য পানিরও প্রকট অভাব দেখা দেয়। পানির দেশে পানির এই আকাল একইসঙ্গে অকল্পনীয় এবং উদ্বেগজনক।

    কেন এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দেশ ও দেশের মানুষ পতিত হয়েছে, তা কারো অজানা নেই। প্রথমত, নদীনালা, খালবিল, জলাশয়, পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিন্ন ৫৪টি
    নদীর উজানে ভারত অসংখ্য বাঁধ, প্রতিবন্ধক নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নেয়ায় দেশের শত শত নদী এখন শুকনো মওসুমে পানি শূন্যতার শিকারে পরিণত হয়েছে। পানি না দিয়ে বাংলাদেশকে শুকিয়ে মারার ভারতীয় অভিসন্ধির কারণে নদী স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ছোট নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। বড় নদীগুলোর অস্তিত্বের সংকটও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রথমেই বলেছি ভাটির দেশ বাংলাদেশ, ভাটির দেশের ক্ষতি হয়, এমন কিছু উজানের দেশের না করার নীতি-বিধানের তোয়াক্কা না করেই ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নিচ্ছে।

    গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এ যাবৎ দুটি চুক্তি হলেও বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি। চলমান ৩০ সালা চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। ফলে পানিবঞ্চনা আরো বেড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খোলাখুলি বক্তব্য, “শুকনো মওসুমে তিস্তার পানি প্রবাাহ এত কমে আসে, যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কিভাবে?”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং সব নদীকে পানি সংরক্ষণাগারে পরিণত করা অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করা দরকার। গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কথা এদেশের মানুষ দশকের পর দশক ধরে শুনে আসছে। ব্যারাজটি এখনও নির্মাণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের তরফে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কথা বার বার বলা হলেও এখন শোনা যাচ্ছে, ভারতের বিরোধিতার কারণে সরকার দ্বিধায় পড়ে গেছে। সরকার ভারতের সহযোগিতা নিয়ে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ চায় বলে জানানো হয়েছে। তাতেও কোনো ফলোদয় হয়নি।

    গঙ্গা-পদ্মা অভিন্ন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, এ কথাটি আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারিনা কেন ? আমাদের বলা উচিৎ নয় কি ?

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানাধীন চন্দনগাঁতী এলাকা হতে মামলা রুজুর ০৬ ঘন্টার মধ্যে অপহরণকৃত ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। ভিকটিম মোঃ তামিম হোসেন (০৭), এর পিতা মোঃ সুন্নত আলীর (৩৫) সাথে অনুমান ০২ মাস পূর্বে আসামি মোঃ আল-আমিনের সক্ষতা (বন্ধুত্ব) গড়ে ওঠে। এই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে সুকৌশলে আসামি মোঃ আল-আমিন ইং ১৭/০৪/২০২৪ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা থানাধীণ হানুরবাড়াদি গ্রামস্থ বাদীর বাড়ির পিছনে পাঁকা রাস্তার উপর থেকে ভিকটিম মোঃ তামিম হোসেন (০৭) কে ফুসলিয়ে অপহরণ করে। উক্ত ঘটনাটি ঘটার পরে ভিকটিমের পিতা সুন্নত আলী বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। যাহার প্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-১৮/০৪/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা- ৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/২০২০) রুজু হয়।

    ২। এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত ঘটনার বিষয়টি জনাব মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ মহোদয় অবগত হওয়ার পর তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় র‌্যাব-১২ এর একটি অভিযানিক দল জনাব মোঃ উসমান গণি, সহকারী পুলিশ সুপার এর নেতৃত্বে অদ্য ইং ১৮/০৪/২০২৪ তারিখে মামলা রুজু হওয়ার ০৬ ঘন্টার মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানাধীণ চন্দনগাঁতী দক্ষিনপাড়া গ্রাম হতে অপহৃত ভিকটিম মোঃ তামিম হোসেন (০৭) কে উদ্ধার পূর্বক উক্ত ঘটনার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ আল-আমিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

    ৩। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ আল-আমিন (২৯), পিতা- মোঃ আব্দুল কাদের, সাং- মেষতলী বাজার, থানা- চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লা।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হস্তান্তর করার আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ।

    র‌্যাবের এ ধরণের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার ও পলাতক আসামি গ্রেফতার অভিযান কার্যক্রম চলমান থাকবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরণের তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি অপরাধ মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • নড়াইলে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুইজন গ্রেফতার

    নড়াইলে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুইজন গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মোঃ রুহুল শেখ ওরফে জীবন (৩০) ও মোঃ সোহাগ শেখ (৩০) নামের দুইজন চোরকে গ্রেফতার করেছে জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (সিসিআইসি) ও নড়াইল সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রুহুল শেখ ওরফে জীবন (৩০) ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার মোঃ দুলাল শেখের ছেলে এবং মোঃ সোহাগ শেখ (৩০) একই থানার পূর্ব গাঁড়াখোলা গ্রামের মোঃ আক্কাস শেখের ছেলে। নড়াইল সদর থানাধীন আলাদাতপুর সাকিনস্থ দুখুর দোকানের সামনে মোঃ কিবরিয়ার বাসার গেটের সামনে হতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান এর ব্যবহৃত পালসার লাল কালো রংয়ের ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, যার রেজি নং-যশোর ল-১৫-৭৫৬২, ইঞ্জিন নং-DHYWHE-47964, চ্যাসিস নং MD2A1ICYRHWE99919 অজ্ঞাতনামা চোরেরা চুরি করে চম্পট দেয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি চুরির মামলা রুজু করা হয়। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান’র নির্দেশে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর গ্রেফতারে মাঠে নামে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা সিসিআইসি টিম। এরই ধারাবাহিকতায়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল’) সকালে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সাইফুল ইসলাম ও জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (সিসিআইসি) এর এসআই (নিঃ) মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে রাজবাড়ীর জেলা কারাগারের প্রধান গেইটের সামনে হতে আসামিদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট হতে চোরাই মোটরসাইকেল (যার রেজি নং-যশোর-ল-১৫-৭৫৬২) উদ্ধার পূর্বক বিধি মোতাবেক জব্দতালিকা মূলে জব্দ করে হেফাজতে গ্রহণ করেন। আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রুহুল শেখ ওরফে জীবন (৩০) এর নামে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ১৬ টি মামলা রয়েছে।

  • জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগে জনতার ঢল

    জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগে জনতার ঢল

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, আদর্শিক নেতৃত্ব, কর্মী-জনবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি
    ইমেজ সম্পন্ন, তরুণ, মেধাবী, জননন্দিত নেতা জাহাঙ্গীর আলমের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিচ্ছে। তিনি বিপুল সংথ্যক নেতাকর্মী নিয়ে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে পথসভা, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন।
    জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল বুধবার এবং ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভা, পাকড়ি ও গোদাগাড়ী ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। এ সময় উপজেলা এবং পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল
    ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্যর শুরুতেই উপস্থিত নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অজান্তেই তার বা তার সংগঠনের কারো আচরণে যদি কোনো মানুষ কষ্ট পেয়ে থাকেন
    তাহলে তাদের পক্ষ থেকে তিনি তাদের
    কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, আমি
    অপনাদেরই এলাকার সন্তান আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন এবং আমাকে আবারো নির্বাচিত করে জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ
    হাসিনা ও তার প্রতিনিধি এমপি ফারুক
    চৌধূরীর হাতকে শক্তিশালী করে এলাকার উন্নয়ন বুঝে নিবেন। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে তিনি কিছু নিতে আসেননি রাজনীতির মাধ্যমে উপজেলার মানুষকে কিছু
    দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করে
    নৌকাবিরোধীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে প্রমাণ করতে হবে অতীতে আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করে কেউ সফল হতে পারেনি, বর্তমানেও হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না।
    এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর
    আলমের গণসংযোগে দলমত
    নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বঃঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আসলে এক জন রাজনৈতিক নেতা কি পরিমাণ কর্মী-জনবান্ধব ও জনপ্রিয় হলে গণসংযোগে সাধারণ মানুষের এমন ঢল নামে সেটা
    জাহাঙ্গীরের গণসংযোগ না দেখলে যে কারো পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন।
    আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা এবং কর্মী-সমর্থকেরা জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে এসব প্রচার-
    প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন।