মোঃমনসুর আলী,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও: সনাতন ধর্মীয় রীতি আর গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যের মেলাবন্ধনে ঠাকুরগাঁওয়ে সম্পন্ন হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। পাত্র ‘পাখুরী’আর পাত্রী ‘বট’। দুই গাছের এই বিয়েকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে সাজ সাজ রব পড়ে যায় সদর উপজেলার ৭নং চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড় ভাঙ্গা এলাকায়। সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের বিয়ের মতোই আয়োজনের কোনো কমতি ছিল না। প্যান্ডেল সাজানো, উলুধ্বনি আর মন্ত্রপাঠে মুখরিত ছিল কালী মন্দির সংলগ্ন পুকুরপাড়। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী বট গাছকে কনে এবং পাখুরী গাছকে বর হিসেবে গণ্য করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী। তিনি জানান, মানুষের বিয়ের মতোই সব মন্ত্র পড়ে এই বিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত দুটি গাছ পাশাপাশি ১.৫ থেকে ২ ফিটের মধ্যে থাকলে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই আয়োজন করা হয়, যা এলাকা ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য মঙ্গলজনক। এই বিয়েতে কনেপক্ষের (বটগাছ) পিতার দায়িত্ব পালন করেন ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫)। তিনি জানান, চার বছর আগে বট এবং তিন বছর আগে পাখুরী গাছটি লাগানো হয়েছিল। প্রবীণদের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় তিনি এই আয়োজন করেছেন। অন্যদিকে, বরপক্ষের (পাখুরীগাছ) হয়ে সব দায়িত্ব ৩নং ওয়ার্ডের বলরাম সরকার। তিনি বলেন, পরিবারের বড় ভাই ও দাদুদের নিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে এই বিয়ে দিচ্ছি। উৎসবে কোনো কমতি রাখা হয়নি। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সহ প্রায় ৪০০ পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং সবার জন্য ভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও ছুটে আসেন কৌতূহলী মানুষ। ৭নং চিলারং ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, জীবনে প্রথম গাছের বিয়ে দেখলাম। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর আপ্যায়নের ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বট-পাকুড়ের বিয়ে দিলে গ্রাম থেকে অশুভ শক্তি দূরে থাকে। আধুনিক যুগে যখন বন উজাড় হচ্ছে, তখন প্রকৃতির প্রতি এমন মমত্ববোধ আর পুরনো সংস্কৃতিকে ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রুহিয়া এলাকার এই ঘটনাটি এখন জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোরণ সৃষ্টি করেছে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সংবাদকর্মী এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় জমান।

Leave a Reply