মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বীরগঞ্জের নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-৭, থানায় একাধিক অভিযোগ আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আলম রাজিবকে অভিনন্দন নড়াইলে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার যুবক গ্রেপ্তার রাজারহাটে আনসার ভিডিপি’র উপজেলা সমাবেশ-২০২২ অনুষ্ঠিত ভারশোঁ ইউপির উথরাইল বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত নড়াইলে মাছের ঘেরে গাঁজা চাষ, আটক ২ নাচোলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে মতবিনিময় কেশবপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনালে চাম্পিয়ান সুফলাকাটি ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ চাটখিলে ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে ধর্ষন করে ভিডিও ধারনের অভিযোগে যুবক আটক
ব্যাঙের ছাতার মতো ফার্মেসী-ভেজাল ওষুধ সেবন করে মানুষের রোগ ভালো হচ্ছে না

ব্যাঙের ছাতার মতো ফার্মেসী-ভেজাল ওষুধ সেবন করে মানুষের রোগ ভালো হচ্ছে না

হেলাল শেখঃ সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে-সেখানে ফার্মেসী দোকান ও ক্লিনিক, ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা, ভেজাল ও নকল ওষুধ সেবন করে মানুষের রোগ ভালো হচ্ছে না বলে অনেক ভুক্তভোগী জানান। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিনে ভোক্তা ঠকছেন বলে বেশিরভাগ মানুষের অভিযোগ। ভেজাল ওষুধের বাজারে আসল ও নকল চেনা কঠিন, ওষুধের দামও নিয়ন্ত্রণহীন।
ভেজাল ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে, অন্যদিকে ওষুধের দোকানে দোকানদারই রোগী দেখছেন। সচেতন মহল বলছেন যে, ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসা বিপদজনক, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কিছু ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে জেল জরিমানা করলেও আদালত থেকে জামিনে এসে আবার সেই যা তাই করছেন তারা। সারাদেশেই রোগীদের সাথে ভয়ংকর প্রতারণা করছে ভুয়া ডাক্তার ও কিছু ওষুধ বিক্রেতারা।
বিশেষ করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ভেজাল করা হচ্ছে কেন? আর সেই ভেজাল ওষুধ সেবন করলে রোগমুক্ত না হয়ে আরও কঠিন ও ভয়ংকরভাবে রোগ বৃদ্ধি হচ্ছে বলে অনেকেই জানান।দেখা যায়, নানারকম ওষুধের নাম নিজেরাই বলেন ক্রেতারা। কিছু বললেই বিক্রেতাগণ আইনের বাণী শোনায়। বেশিরভাগ রোগী ও ওষুধ ক্রেতা ওষুধের দোকানে বা ফার্মেসীতে গিয়ে ওষুধ বিক্রেতাকে ওষুধের নাম বলেন যে, এই ওষুধ দেন, বা ওই ওষুধ দেন, মনে হয় ক্রেতাই বড় ডাক্তার। ওষুধ প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার কারণে বেশিরভাগ ওষুধ ব্যবসায়ী তাদের মন মতো ওষুধের দাম নিয়ে থাকেন। সাধারণ ক্রেতা দাম জানেন না, বা বুঝতে পারেন না কোন ওষুধের কত দাম বা মূল্য। ওষুধের পাতার গায়ে মূল্য বা দাম লেখা নেই, শুধু বক্সে মূল্য লেখা থাকে বলে অনেকেই জানান।
মানুষ অসুস্থ্য হলে যে, ওষুধ কিনে খাবেন তারও উপায় নেই, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণহীন, চিকিৎসাবিহীন অনেক মানুষের মৃত্যু হয় অনেক গরীব অসহায় মানুষের। রোগে শোকে মানুষ ওষুধ খায় সুস্থ হওয়ার আশায়, কিন্তু তারও উপায় নেই, ভেজাল সংমিশ্রণের ফলে প্রতিনিয়তই সেই ওষুধই মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভেজাল বিরোধী অভিযান চলছে সারা দেশে, তবুও কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না ভেজাল ওষুধের কারবার। নতুন নতুন কৌশলে তৈরি করছে ভেজাল ওষুধগুলো, সেই সাথে বেশিরভাগ ফার্মেসী বা ওষুধের দোকানদার বিভিন্ন ওষুধের দাম বেশি নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।বিশেষ করে ভালোমানের ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। সুত্রমতে, বর্তমান বিশ্বের ১২২টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। দুঃখের বিষয়ঃ বিদেশে ভালোমানের ওষুধ রফতানি হলেও নিজ দেশেই চলছে ভেজাল ওষুধের রমরমা ব্যবসা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে তা বিক্রি করছে, এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থেকে পুরো ওষুধ শিল্পটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে কিছু দুষ্টু প্রকৃতির অসাধু ব্যবসায়ীরা। অল্প পরিশ্রমেই অধিক মুনাফা অর্জন হয় বলে এই অসাধু চক্রের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ওষুধ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিটি এলাকার বাজারেও ঢুকে পড়ছে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নকল ওষুধ। এই প্রাণঘাতী ভেজাল ও নকল ওষুধের ফলে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগী,অন্যদিকে ভোক্তারা, অপরদিকে খুব অল্পতেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যথাযত পদক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে এই অসাধু চক্রগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। মনগড়া ডিজাইন ও দৃষ্টিনন্দন মোড়কে এসব ওষুধ দেখে খুব সহজেই প্রতারিত হয় ভোক্তারা। এভাবে নকল-ভেজাল ও নি¤œমানের ওষুধ বাজারে বিক্রি হতে থাকলে নকলের ভিড়ে আসলটাই হয়ত হারিয়ে যেতে বসবে। ‘জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ অনুযায়ী ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ (এনআরএ) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্ত্রীসভায়, যার দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তত্বাবধান ও অসাধু চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনার পরই হয়তো আমরা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ওষুধ শিল্পের আশা করতে পারি। পরিশেষে সারাদেশে ভেজাল ও নকল ওষুধ সেবনে আর যেন কোনো জীবন না ঝরে অকালে মৃত্যু না হয় আর যেন কোনো ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সে তাগিদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
একদিকে ওষুধের দোকানে গিয়ে কোন ওষুধের কত মূল্য ক্রেতা তা জানে না, সেই সাথে কোনটি আসল আর কোনটি ভেজাল তা দেখে চেনা দায়। সারাদেশে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া মহল্লায় যেখানে-সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো ওষুধের দোকান, কোন ওষুধ কোন রোগের কাজ হবে তা অনেকেই জানেন না। ওষুধ নিয়ে এই জটিলতা থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে, সবাইকে সচেতন হতে হবে। আসন্ন শীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে, এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। জানা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক নেই। সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে চিকিৎসা সেবা করা হচ্ছে, এখন ঘরে ঘরে কথিত ডাক্তার, এই কারণে আরও জটিলতা বাড়ছে।
উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানান-অভিযান অব্যাহত আছে, মাঝে মধ্যে কিছু অসাধু লোকদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হলেও আদালত থেকে দ্রুত জামিনে এসে আবারও যা তাই করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানান, অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD