শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
দালালরা নিয়েছে লাখ লাখ টাকা: অভিযানে গ্যাসের ৫ শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন! কেউ কারো বিরুদ্ধে বদনাম না করাই মঙ্গল-প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটিতে আতংকে থাকেন রোগীরা ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের লিফট চালায় সিকিউরিটি গার্ড সুজানগর পৌরসভার উদ্যোগে পারিবারিক সাইলো বিতরণ সুজানগরে স্কুল ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত ফাহাদ গ্রেফতার সুজানগরে স্কুল ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম, অভিযুক্ত বখাটের গ্রেফতার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন সুজানগর পৌরসভা ঝিনাইদহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১ মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ নড়াইলের ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা সিলেটে থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ
আজ ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দিবস

আজ ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দিবস

আজ ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দিবস। পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির দুই যুগ। পাহাড়ি জনগণের দাবি মেনে নিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে যে সংঘাতের সৃষ্টি হয় তার পরবর্তীতে পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে পাহাড়ি ও সরকারের সাথে যে সমঝোতা চুক্তি হয় সেটাই শান্তি চুক্তি।

শান্তি চুক্তির আদ্যোপান্ত :-

ইতিহাসটি বেশ পুরোনো শান্তি চুক্তির পিছনে রয়েছে অনেক ঘটনা যার সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরা বেশ কঠিন। তবে আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরেছি। চলুন ঘেটে দেখি কি ঘটেছিল পার্বত্য অঞ্চলে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সৃষ্ট একটি রাজনৈতিক সংঘাতরূপে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও তার সশস্ত্র অঙ্গ-সংগঠন শান্তি বাহিনীর মধ্যে এ সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতির স্বায়ত্তশাসনের অধিকার আদায়ের প্রেক্ষিতে এ সংঘাত ঘটে। ১৯৭৭ সালে সামরিক শাসনামলে সামরিক বাহিনীর সাথে শান্তি বাহিনী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২০ বছর এ সংঘাত চলমান ছিল।

পাকিস্তান শাসনামলে তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তানে এ সংঘাতের সূচনালগ্ন হিসেবে ধরে নেয়া হয়। ১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধ অবকাঠামো নির্মাণের ফলে লক্ষাধিক লোক স্থানচ্যুত হন। তাদের স্থানচ্যুতিতে তৎকালীন সরকার কোন গুরুত্ব দেয়নি ও হাজারো পরিবার ভারতে চলে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা স্বায়ত্তশাসন ও ঐ অঞ্চলের জনগণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবার জন্য দাবী উত্থাপন করেন।

লারমা ও অন্যান্য পার্বত্য আদিবাসীর প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মতে ঐ সংবিধানে নৃজাতিগোষ্ঠীকে স্বীকৃতিসহ অ-মুসলিম ও অ-বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। সরকারের নীতি কেবলমাত্র বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষাকে ঘিরে। এছাড়াও বাংলাদেশের সকল নাগরিককে বাঙ্গালী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি জনগণের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচিতির স্বীকৃতি সম্পর্কিত কতিপয় দাবি পেশ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা’র আলোচনান্তে জানানো হয় যে, পার্বত্য নৃজাতিগোষ্ঠী বাঙ্গালী হিসেবে পরিচিতি লাভে একমত পোষণ করেছেন।

পাহাড়ি জনগণের দাবি মেনে নিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। সোজা কথায় ১৯৭৩ সালে লারমা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় শান্তি বাহিনী নামে একটি সামরিক শাখা। একই সাথে তিনি গড়ে তুলেছিলেন মহিলা সমিতি, জুমিয়া সমিতি, যুব সমিতি ও গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠী।

এ সমিতিতে স্থানীয় আদিবাসী ও উপজাতীয় লোকগণ সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনী সরকারী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ভারত সরকার সীমান্তে ঘাঁটি গড়তে শান্তি বাহিনীকে সহায়তা করে।

১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড জনসংহতি সমিতির ইতিহাসে এক সঙ্কটময় অবস্থার সূচনা করে ও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরে তাদের আলোচনা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শান্তি বাহিনী সামরিক দিক থেকে অধিকতর সংগঠিত হয়।

শান্তি বাহিনী তাদের আক্রমণ পরিচালনার সুবিধার্থে এ অঞ্চলকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে। স্থানীয় অধিবাসীদের জোরপূর্বক সংগঠনে যোগ দিতে বাধ্য করে ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যানবাহনে প্রথমবারের মতো আক্রমণ করে শান্তি বাহিনী। তবে এই সংঘাতে উইকিপিডিয়া থেকে ৪৪ জন (১৯৭৯-১৯৯৭) (সরকারী তথ্য মোতাবেক) নিহত ও ৫০০ জন (শান্তিবাহিনীর তথ্যমতে) নিহত হয় সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। এছাড়া শান্তি বাহিনীর ৯৮০০ জন (১৯৭৯-৩০ নভেম্বর, ১৯৯১) সম্মুখ যুদ্ধে নিহত-৫৭০০ জন নিহত হয়। আহত-১৫,৪৩২ জন ও গ্রেফতার হন-১১,৮৯২ জন। তবে এই সংঘাতে মানবধিকার লঙ্ঘন ও ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে।

পরবর্তীতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার দলেও সৃষ্টি হয় অন্তর্দন্ধ এবং দলটি ২টি ধারা এম এন রায় গ্রুপ ও প্রীতি গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে এবং ১৯৮২ সালেও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জনসংহতি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বর তিনি বিপক্ষ দলের আক্রমণে ৮ জনসহ মারা যান খেদারা ছড়ার থুম, পানছড়ি, খাগড়াছড়িতে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৪৪ বছর।

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মৃত্যুর পর তার আপন ভাই সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনী স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার হাল ধরেন।

সন্তু লারমা দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন। অন্য দলটি পিছু হটতে থাকে, ১৯৮৫ সালের মে মাসে তারা আত্মসমর্পণ করে। সে বছর অনুষ্ঠিত সংগঠনের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়, যার সভাপতি নির্বাচিত হন সন্তু লারমা। সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সংগ্রামের পাশাপাশি সরকারের সাথে সংলাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। সরকারের সাথে বিভিন্ন সময় মোট ২৬টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অবশেষে উভয় পক্ষ কিছুটা নমনীয় হলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র নেতৃত্বে চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমার নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল যা ইতিহাসে শান্তি চুক্তি দিবস হিসেবে পরিচিত।

এই ​চুক্তি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী উপজাতিদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্পাদিত হয় শান্তি চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে উপজাতিরা ফিরে পায় তাদের ন্যায্য অধিকার। এরপর ধীরে ধীরে উপজাতি-বাঙ্গালী সংঘর্ষ হ্রাস পায়। এই চুক্তির মাধ্যমে ​মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়,যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী আদিবাসী নেতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি পাহাড়ি জনতার প্রাণের দাবিতে তিনি সারা জীবন আন্দোলন করে গেছেন। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তার আন্দোলনের সফলতা অর্জিত হয় শান্তিচুক্তির মাধ্যমে।

তবে এই চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর পার্বত্য জেলায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের বিধিবিধান ও আইন যথাযথ অনুসরণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে কয়েক দফা সংলাপের পর পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মুলত দক্ষিন বাংলার সিংহ পুরুষ বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নেতৃত্বেই পাহাড়ি জনপদে ফিরে এসেছিল শান্তি। তার উদ্যোগেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে সম্পাদিত হয়েছিল ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। এজন্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’কে শান্তি চুক্তির প্রনেতা বলা হয়। এছাড়াও তাকে শান্তি চুক্তির রূপকার বলা হয়। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীর পদমর্যাদার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির আহবায়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঐতিহাসিক এই শান্তি চুক্তি ৭২ টি ধারা বা শর্তের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। তবে এই চুক্তির অধিকাংশ শর্ত সরকার বাস্তবায়ন করেছেন। যদিও জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) অভিযোগ করেছেন, “সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়, তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।“

এই শান্তি চুক্তির সময় প্রায় সকলে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করলেও অনেক শান্তি বাহিনীর সদস্য আত্মসমর্পণ না করে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে গঠিত ইউপিডিএফ সংগঠনে নাম লেখায়।
বর্তমানে পাহাড়ি জনপদে শান্তি থাকলেও চার গ্রুপের অস্তিত্ব পাওয়া যায় :-
১)জেএসএস (সন্তুলারমা)।
২)ইউপিডিএফ প্রসীত খীসা গ্রুপ।
৩)ইউপিডিএফ ২(গণতন্ত্র) মাঠে সক্রিয় আছে।
৪)জেএসএস(সংস্কার)মাঠে সক্রিয় আছে।

তবে এত ঘটনাবলীর মাঝে ঐতিহাসিক এই চুক্তি আজ ২রা ডিসেম্বর সম্পাদিত হয়েছিল এবং এই চুক্তির মাধ্যমেই পাহাড়ে থেমে ছিল সংঘাত তৈরি হয়েছিল ঐতিহাসিক শান্তি ও সম্প্রীতি ও উপজাতিরা পায় তাদের ন্যায্য অধিকার।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD