রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনকারী জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিমে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার করোনায় মানুষকে বাঁচাতে শেখ হাসিনা যখন যা দরকার সবই করছেন-অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ।। জনসেবার ইচ্ছা থেকেই ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি- ত্রিশালের কাঁঠালে প্রার্থী ফাতেমা খাতুন।। অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি হলেন সাংবাদিক তরিকুল ইসলামে ছোট ভাই ‘আবু সাহিদ’ বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তার উপদ‌েষ্টা কে ফু‌লের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তা প‌রিবার তারাকান্দায় প্রয়াত চেয়ারম্যানপুত্র শিশিরকে নৌকার মাঝি হিসাবে চান ভোটাররা। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন চেয়ারম্যান উজ্জল। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুর্যোগে জনগণের পাশে ছিল শেখ হাসিনা সরকার-পলক
বিলুপ্তির পথে পঞ্চগড়ের মৃৎশিল্প

বিলুপ্তির পথে পঞ্চগড়ের মৃৎশিল্প

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: বাঙালি জীবনের হাজার বছরের ঐতিহ্য বহনকারী মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্পটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিক জিনিসপত্রের ভিড়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা এবং মাটির দাম বৃদ্ধিসহ নানা সংকট এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে বলে জানান কুমারেরা। মৃৎশিল্প বাঙালির শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এই শিল্পের প্রসার। অনেকে এ পেশায় থাকলেও মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা না থাকায় অভাব-অনটনে সংসার চালাতে পারছেন না তারা। একবেলা আধবেলা খেয়ে দিনানিপাত করছেন অনেক মৃৎশিল্পী। এক সময়ের কর্মব্যস্ত কুমারপাড়ায় এখন শুনসান নিরবতা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজিপাড়া ও মিরগর এলাকার মালিপাড়া গ্রামের অসংখ্য পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও কিছু দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০টি পরিবারেরও বেশি পরিবার এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার মাটি বেলে ও দো’আঁশ হওয়ায় বোদা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও থেকে মাটি সংগ্রহ করে এসব সামগ্রী তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন মৃৎশিল্পীরা।শুকানো হচ্ছে মাটির তৈরি সামগ্রী। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা মাটির জিনিস তৈরি করে আসছি। এ পেশার সঙ্গে আমরা জড়িত থাকলেও আমাদের উন্নয়নে বা আর্থিক সহায়তায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও বা সমিতি থেকে সহযোগিতা পেলে হয়তো বাপ-দাদার আমলের স্মৃতিকে ধরে রাখা সম্ভব হতো। মৃৎশিল্পী গণহারি পাল বলেন, এ শিল্পের জন্য আড়াই শতক (১ কাঠা) মাটি কিনতে লাগে ৫০ হাজার টাকা। তার পরেও এই মাটি অনেকেই দিতে চায় না। সংশ্লিষ্টরা জানান, নানামুখী সংকটের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প। ফলে এর ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। স্টিল, চিনামাটি, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাজারে আসার পর মানুষ আর মাটির তৈরি হাঁড়ি, থালা, গ্লাস, মসলা বাটার পাত্র, মাটির ব্যাংক ও খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি ব্যবহার করছেন না। এখন শুধু গবাদিপশুর খাবারের জন্য গামলা, কলস, মাটির ব্যাংক, মাটির পাতিল ও সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণের জন্য নির্মিত কিছু সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ অবশ্য এখনও দৈনন্দিন প্রয়োজনে কিছু মাটির তৈরি পাত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্রের বাজার চাহিদা তেমন একটা নেই বললেই চলে। এক সময় কম দামে মাটি সংগ্রহ করা গেলেও এখন মাটি কিনতে হয় অনেক বেশি দামে। এছাড়া মাটি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ফলে কুমার সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।মাটির তৈরি সামগ্রীতে শেষ আঁচড় দিচ্ছেন কুমারেরা। গিতা বালা নামে এক নারী মৃৎশিল্পী জানান, প্রথমে মাটি তৈরি করে তার পর বিভিন্ন আসবাপত্র তৈরি করতে হয়। মাটির তৈরি এসব সামগ্রী শুকানো, রং করাসহ পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করতে সাত দিন সময় লাগে। পরে এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায়। ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) আওরঙ্গজেব জানান, মাটির জিনিসের চাহিদা কমতে থাকায় এবং দূরের এলাকা থেকে বেশি দামে মাটি কিনতে হয় বলে মৃৎশিল্পীরা দিন দিন এ ঐতিহ্য থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু সংখ্যক পরিবার বংশ পরম্পরার কারণে এ শিল্প ধরে রেখেছে। এ শিল্পের জন্য সরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতা করা হয় তবে বাঙালির ঐতিহ্যময় এ শিল্প ধরে রাখতে পারবে মৃৎশিল্পীরা।

মোঃ বাবুল হোসেন
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD