মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বীরগঞ্জের নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-৭, থানায় একাধিক অভিযোগ আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আলম রাজিবকে অভিনন্দন নড়াইলে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার যুবক গ্রেপ্তার রাজারহাটে আনসার ভিডিপি’র উপজেলা সমাবেশ-২০২২ অনুষ্ঠিত ভারশোঁ ইউপির উথরাইল বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত নড়াইলে মাছের ঘেরে গাঁজা চাষ, আটক ২ নাচোলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে মতবিনিময় কেশবপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনালে চাম্পিয়ান সুফলাকাটি ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ চাটখিলে ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে ধর্ষন করে ভিডিও ধারনের অভিযোগে যুবক আটক
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গৃহহীনের আশংঙ্কায় ৭০টি পরিবার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গৃহহীনের আশংঙ্কায় ৭০টি পরিবার

কেএম শহীদুল,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা প্রাচীন লাউড় রাজ্যের হলহলিয়া গ্রামে দুর্গ খননে মিলছে ৫ যুগের সভ্যতার সন্ধ্যান। দেশের ইতিহাসে আবিস্কৃত এ সকল সভ্যতা যুক্ত হতে যাচ্ছে এমন খবরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে উচ্ছাস। অপরদিকে খননের কবলে পড়তে পারে গ্রামের ভুমিহীন ৭০টি পরিবারে আতংক বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার ভুমিহীন ৭০টি পরিবার পুনর্বাসনের দাবী জানিয়ে গ্রামের সামনে মানববন্ধন করেছে হলহলিয়া গ্রামের শঙ্কিত ভুমিহীন ৭০টি পরিবার। মানববন্ধনে গ্রামের প্রায় চার শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয় । মানববন্ধন শেষে প্রতিবেদককে জড়িয়ে গ্রামের নারী পুরুষদের এক আজলা জল চোখে কাঁদতে থাকেন। তাদের চোখে মুখে গৃহহারা হওয়ার আতংকের চাপ। তারা চান খননের কবলে পড়ে বসতভিটা হারালে পুনবার্সনের গ্যারান্টি। পুরো গ্রাম ঘুরে তাদের আতংকের অনেটা সত্যতা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, হলহলিয়া নামে এ গ্রামে প্রাচীন আমলের রাজবাড়ি ছিল। বাড়ির কোন চিহ্ন না থাকলেও চারদিকে দেয়ালের চিহ্ন রয়েছে। গ্রামের ভিতরে আছে ইট পাথরের সংমিশ্রন, আছে প্রাচীন বিল্ডিং এর ধ্বংসাবশেষ। অনেক বিল্ডিং মাটির নীচে চাপা পড়ে গেছে কবে কে জানে ? পুরো রাজবাড়িটি হলহলিয়া গ্রাম নামে গড়ে উঠেছে। এখানে বাস করে সত্তরটি ভুমিহীন পরিবার। সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে তারা এখানে বসতি স্থাপন করে আসছে। সভ্যতা আবিস্কারের নেশায় গ্রামের এসব প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও মাটির নীচে চাপা পড়া বিল্ডিং খনন হলে ভুমিহীনদের বসতভিটা হারানোর শংঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। খননের প্রস্ততির লক্ষ্যে তারা গাছপালা, বাশঝাড়, টয়লেট,বারান্দা,রান্নাঘর ভেঙ্গে ফেলেছে। ভূক্তভোগিরা রান্নাবান্নার কাজ সারতে মারাতœক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক কাজ সারতে হচ্ছে খোলা মাঠে। এসব তথ্য জানালেন গ্রামের লোকজন। তবে, এটিও তারা জানিয়েছেন যে, আমরা চাই সভ্যতা আবিস্কার হোক। বিশ^ আমাদের জানুক। এখানে গড়ে উঠুক, প্রতœতত্ত্ব পর্যটন কেন্দ্র। তবে যেন খননের আগে পুনর্বাাসনের গ্যারান্টি দেয় সরকার। এখন পর্যন্ত সরকারে কাছ থেকে পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত না হওয়ায় তাদের আতংকের মাত্রা বহুগুন বেড়ে গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে পুনর্বাসনের প্রশ্নই উঠে না। যেহেতু, করো বাড়ি উচ্ছেদ হচেছ না, যে যেভাবে আছে সেভাবেই থাকা যাবে। তাদের অক্ষত রেখে সভ্যতার নিদর্শন খোঁজা হচ্ছে। একই কথা বলছেন প্রতœতত্ত্ববিধ ও খননকাজে অংশ নেওয়া লোকজন। গ্রামে কথা হয় ৭০ বছরের বৃদ্ধা হালিমা খাতুনের সাথে তিনি বলেন, টয়লেট গেছে, গাছগাছালি কাটছে, রান্নাঘরে যেতে দেয় না। বাড়িঘরও ভাঙ্গবে। আমরা তখন কই যামু ? সাংবাদিক সাব,সরকারকে বইলিয়া আমাদের যেন একটু মাথা গোজার ঠাঁই রাখে। এভাবে মিনারা বেগম, জাহের বানু বলেন, আমাদের কোন জমি নাই একখানি ঘর আছে। এই খানি গেলে পানিতে ভাইসা মরমু। গ্রামের মুরব্বি জুনাব আলী ,আতাবুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ বলেন, ছোট বেলায় পুকুর ও পাটলাই নদীতে কলসী,খাসার জিনিস, পয়সা পাওয়া যেত আমরা এসব নিয়ে খেলতাম। এখন এসব নেই। হলহলিয়া গ্রামে আরো আগে খনন হলে তেমন ক্ষতি হতো না। তখন তেমন, দালান কোটা ছিল না। এখন অনেক বাড়ি ঘর নির্মান হয়েছে। এসব খনন হলে তো গৃহহীন হওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। অভাবী ঐ লোকগুলোর ঠিকানা তখন কোথায় হবে ? আমরা চাই সরকার যেন জনগুরুত্বপূর্ণ মনে করে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন। একই বক্তব্য দিলেন রহমত আলী, সৈয়দ আহমদও। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব বলেন, হলহলিয়ায় খননকাজ চলছে। আমি গত মঙ্গলবার গিয়েছিলাম। গ্রামবাসীকে হতাশ না হওয়ার জন্য বলেছি। পুনর্বাসনের কোন প্রয়োজন নেই কারন আমরা তো তাদের উচ্ছেদ করবনা। প্রতœতত্ব অধিদপ্তর চট্রগ্রামও সিলেট বিভাগ আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, প্রাচীন লাউর রাজ্যের হলহলিয়া গ্রামে ৪ যুগের সভ্যতার সন্ধান মিলেছে। এক সভ্যতার সাথে আরেক সভ্যতার সংযোগ মিলেছে। এটি হবে প্রতœত্ত্ব পর্যটন কেন্দ্র। খননকাজ চলমান রয়েছে। আমরা কারো বসতভিটা উচ্ছেদ করবনা। বসত- ভিটা ঠিক রেখেই খনন চলবে। এবং কোন কারনে বাড়ী-ঘর ক্ষতির সম্মুখিন হলে তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবো।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD