মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বীরগঞ্জের নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-৭, থানায় একাধিক অভিযোগ আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আলম রাজিবকে অভিনন্দন নড়াইলে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার যুবক গ্রেপ্তার রাজারহাটে আনসার ভিডিপি’র উপজেলা সমাবেশ-২০২২ অনুষ্ঠিত ভারশোঁ ইউপির উথরাইল বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত নড়াইলে মাছের ঘেরে গাঁজা চাষ, আটক ২ নাচোলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে মতবিনিময় কেশবপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনালে চাম্পিয়ান সুফলাকাটি ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ চাটখিলে ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে ধর্ষন করে ভিডিও ধারনের অভিযোগে যুবক আটক
মাদারগঞ্জ-মেলান্দহের ২ ইউনিয়নের মানুষের বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা

মাদারগঞ্জ-মেলান্দহের ২ ইউনিয়নের মানুষের বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা

সৈকত আহমেদ বেলাল, জামালপুর:
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাড়াকাটা নদীতে বাশেঁর ভাসমান সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে দুই উপজেলার ২ ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। রেলিং বিহীন ঝুঁকিপুর্ণ এই সাঁকো দিয়েই তাদের চলাচল করতে হয়। পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও কৃষিপন্ন নিয়ে বাজারে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে দুভোর্গ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের হলেও কবে নাগাদ হবে তা বলতে পারেনা কেউ। জনপ্রতিনিধিরাও শুধু আশ^াসই দিয়ে গেছেন বরাবর।
জেলার প্রত্যন্ত দুর্গম অবহেলিত চর বীর সগুনা। এ গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝাড়কাটা নদী। নদীর এপারে মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ওপারে মাদারগঞ্জের গুনারীতলা ইউনিয়ন। সাঁকোর চারপাশের গ্রামীণ মেঠোপথগুলোর অবস্থাও করুণ। এ পথে যানবাহন চলে নৌকার মতো হেলেদুলে। মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ উপজেলার নোমান্স ল্যান্ড হওয়ায় এ অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি মোটেও। যদি উপজেলা দু‘টির নির্বাচনী আসন একটিই।
এই ২ ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাড়কাটা নদীর বাঁশের ভাসমান সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে। যমুনার শাখা নদীটি বর্ষা মৌসুমে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দু’পাড়ের মানুষদের।
বীর সগুনা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, ২০০৩ সালে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি বীর সগুনা প্রাইমারি স্কুল মাঠে জনসভায় ঘোষনা দিয়েছিলেন, যদি আ‘লীগ ক্ষমতায় আসে এবং আমি এমপি নির্বাচিত হই, আমার প্রথম কাজ হবে ঝাঁড়কাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা। সেই প্রতিশ্রুতির ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতু নির্মান হয়নি। একই গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, নদীর দক্ষিণ পাশে বীর সগুনার সিংহভাগ মানুষ বসবাস করে। উত্তর পাশে প্রাইমারি স্কুল। এই নড়বড়ে সাঁকোর উপর দিয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। সাঁকো থেকে পড়ে বইখাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। সবচেয়ে বেশী ভুগান্তিতে পড়ে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মহিলারা।
নদীর উভয় পাশের মানুষ তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্যসহ নানা কাঁচামাল স্থানীয় বাজার, মাদারগঞ্জের গুনারীতলা, মেলান্দহের বেলতৈল ও হাজরাবাড়ী হাটে পরিবহনে ভোগান্তি পোহাচ্ছে র্দীঘদিন ধরে। অনেকেই যেতে না পেরে কাছের বাজারে স্বল্পমুল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করে লোকসান গুনছে। কৃষক সবুর মিয়া বলেন, আমাদের আবাদ করা ধান,পাট শাকসবজি হাট বাজারে নিয়ে যেতে কষ্ট হয়। বেশী মাল থাকলে সাঁকো পার হওয়া যায়না। আমাদের দূর্ভোগ নিয়ে চেয়ারম্যানরে বললে সে বলে ব্রীজ হবে, ইঞ্জিনিয়ার আইতাছে ইঞ্জিনিয়ার আইতাছে, ইঞ্জিনিয়ারও আসেনা ব্রীজও হয়না।
কলেজ ছাত্র মোখলেছুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে আমি এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিলাম। কেন্দ্র দুরে হওয়ায় সকাল ৮টায় তড়িঘড়ি করে হাজবাড়ী কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় সাঁকো পারাপারকালে পাঁ পিছলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র পানিতে পড়ে যায়। ভেজা প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় সমস্যায় পড়েছিলাম। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী নড়বড়ে সাঁকোর কারণে সময় মত স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে পারে না। তাই এই নদীর উপর সেতু নির্মাণ খুবই প্রয়োজন।
চাড়ালকান্দী গ্রামের সাদ্দাম হোসেন, বীরসগুনা গ্রামের ইদ্রিস আলী ও কাহেতপাড়া গ্রামের মিন্টু মিয়াসহ অনেকে জানান, দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ড্রামের উপর বাঁশ বসিয়ে ভাসমান সাঁকোটি নির্মান করেছি। সেটিও এখন দুরবস্থা। যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মেলান্দহের ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলাল বলেন, সাঁকো দিয়ে মানুষের যাতায়াত কষ্ট হচ্ছে। ঝাড়কাটা নদীর উপর ব্রীজ হলে এখানকার মানুষের আর্র্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এখনতো সরকারের সময় শেষ, মন্ত্রী মহোদয় সামনের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তাঁর নজরে এনে এখানে সেতু নির্মানের চেষ্টা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD