শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড: তালুকদার মো: ইউনুস করোনায় আক্রান্ত বানারীপাড়া- উজিরপুরে সাংসদ রুবিনা মীরার কম্বল বিতরন লস্করপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সারাদেশে এমএলএম প্রতারণার নতুন ফাঁদ-হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন পরিদর্শন করলেও আশুলিয়ায় নয়নজুলি খাল উদ্ধার হয়নি কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন ওসি পুত্র নিহান বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলে পরিমলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেফতার শাজাহানপুরে করণা আক্রান্তদের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত
সংরক্ষনের অভাবে বিলুপ্তির পথে রাজা গণেশের ঐতিহ্য ও নিদর্শনসমূহ

সংরক্ষনের অভাবে বিলুপ্তির পথে রাজা গণেশের ঐতিহ্য ও নিদর্শনসমূহ

আনোয়ার হোসেন হরিপুর (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৬নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনা জেলার ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুটি নদসহ সকল নিদর্শনসমূহ সংরক্ষনের অভাবে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে ৬০ কি.মি দূরুত্বে অবস্থিত হরিপুর উপজেলা। হরিপুর উপজেলা থেকে প্রায় ৭ কি.মি দূরত্বে ভাতুরিয়ায় রাজা গণেশের ঐতিহ্য ও নিদর্শনসমূহ। এখান থেকে মাত্র ১-২ কি.মি দূরত্বে ভারত সীমান্তে কাটাতারের বেড়া। তার শাসনকাল ছিল ১৪১৪ খ্রিঃ থেকে ১৪১৫ খ্রিঃ পর্যন্ত। পরবর্তীতে রাজা গণেশের পত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিন এর হস্তক্ষেপে ২৪ পরগনায় ইসলাম ধর্ম প্রচার ও সম্প্রাসারণ ঘটে। তার শাসন আমল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শত বছর অতিবাহিত হতে চলেছে । অথচ এ সময়ের মধ্যে সরকারি ভাবে কখনই রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও নদের সংস্কার বা রক্ষানাবেক্ষনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু ইতিহাসের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্তবর্তীর এলাকায় এর অবস্থান হওয়ার কারণে এটি সরকারের দৃষ্টিতে পড়ছে না । প্রায় ৫০ একর জমিতে রয়েছে রাজা গণেশের বাড়ি, নদ ও পুকুর। কালের বিবর্তনে এখন তার বাড়ির ভিটারও অস্থিত্ব খুজে পাওয়া দূস্কর হয়ে পড়েছে । এখানে একটি বিশাল গড় রয়েছে। এতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতি বনজ ফলজ ও ওষুধি গাছসহ অনেক নিদর্শন।

রাজা গণেশের বাড়ির দুপাশে দুটি নদ ছিল। এ নদের উৎপত্তি ছিল কুলিক নদী থেকে। সেগুলোও ভরাট হয়ে গেছে। এ নদ দুটি সংস্কার করে পূনরুজ্জীবিত করলে কৃষিখাতে ব্যাপক সাফল্য ঘটবে। গড়ের পাশে ত্বন্নীদিঘী নামারে ১০ একরে বিশাল পুকুর,পুকুরটির চতুর পার্শ্বে ৭৫ ফিট প্রস্ত বিশিষ্ট মাটির প্রাচির দ্বারা ঘেড়া ছিল। সংস্কারের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে পুকুরের পানি থাকে না। এই পুকুরে চতুর পাশ্ব দিয়ে রাজার ঘোড়া দৌড়ের প্রশিক্ষন দিত বলে জানা গেছে। পুকুরের মধ্যে এক অংশে অলৌকিক একটি বিশাল শাল কাঠের খুটিঁ এখনও বিদ্যমান রয়েছে এর পিছনে রয়েছে অনেক অলৌকিক ঘটনার কল্প কাহিনী। পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার। মাজারের সংলগ্ন বর্তমানে রয়েছে বিশাল এক কবরস্থান,এলাকার বৃদ্ধ লোকেরা বলছে, স্বাধীনের আগে থেকে আমাদের বাপদাদারা মৃত স্বজনদের এখানে কবর দিত । এখানে এবং আমরা তাদের ওয়ারিশ সুত্রে আমাদেরও মৃত আত্বীয়-স্বজনদের বর্তমান কবর দিচ্ছি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার কয়েকটি গ্রাম মিলে প্রায় ৩০ হাজার লোকের মৃত আত্বীয়-স্বজনদের কবর দিয়েছেন। সেই কবরস্থানের বর্তমান নামকরণ করা হয়েছে তন্নিদিঘী পারিবারিক কবরস্থান। কবরস্থানের পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৩শত গজ দূরে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার। কবরস্থানের পূর্বে রয়েছে প্রাচীনতম অজ্ঞাত নামা একটি কবর, কবরস্থানের দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে আরো একটি প্রাচীনতম কবর যা আজও বিরাজ মান। ১৯৯০ সালে ঐ পুকুর পাড়ে ৩৮টি পরিবারে নিয়ে একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে সরকার। এসময় থেকে উক্ত পুকুরটি তাদের দখলেই রয়েছে।

৬নং ভাতুরিয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান সরকার বলেন, রাজা গণেশের ইতিহাস আমরা পাঠ্য বইতে পড়েছি। পড়ে জানতে পারি আমাদের এই গ্রামে তার বাড়ি এটা আমাদের সবার গর্ব। রাজা গণেশের প্রাচীনতম ইতিহাস তার বাড়ি ও গড়সহ সব কিছুই রক্ষানাবেক্ষনের দায়িত্ব আমাদের এবং সরকারের। এখানে অনেক মহামূল্যবান সম্পদ থাকার কথা। কিন্তুক সঠিক সংরক্ষনের অভাবে যে সম্পদ আছে তা ও বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। আগামী নতুন প্রজন্ম শুধু মুখেই শুনবে কিন্তু বাস্তবে তার চিহ্ন খুজে পাবে না। রাজা গণেশের কারণে আমরা ইতিহাসে পরিচিত হয়েছি। তাই তার নিদর্শনগুলোর সংরক্ষন করা দরকার।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD