শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড: তালুকদার মো: ইউনুস করোনায় আক্রান্ত বানারীপাড়া- উজিরপুরে সাংসদ রুবিনা মীরার কম্বল বিতরন লস্করপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সারাদেশে এমএলএম প্রতারণার নতুন ফাঁদ-হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন পরিদর্শন করলেও আশুলিয়ায় নয়নজুলি খাল উদ্ধার হয়নি কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন ওসি পুত্র নিহান বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলে পরিমলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেফতার শাজাহানপুরে করণা আক্রান্তদের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত
তালতলীতে আশ্রায়ন প্রকল্পের ব্যারাক গুলোর বেহাল দশা ভাঙ্গা চালের নিচে বসবাস

তালতলীতে আশ্রায়ন প্রকল্পের ব্যারাক গুলোর বেহাল দশা ভাঙ্গা চালের নিচে বসবাস

মংচিন থান তালতলী(বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলী উপজেলার আশ্রায়ন প্রকল্পের ব্যারাক হাউজগুলোর করুন অবস্থা বিরাজ করছে। দীর্ঘ দিন মেরামতের অভাবে ব্যারাক হাউজের ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ছাউনির টিন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে জানা গেছে, নদীভাঙনে গৃহহারা ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর আবাসনের জন্য ’৯১ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আবাসন প্রকল্পের অধীনে গৃহ নির্মাণ কাজ শুরু হয় । ’৯৬ সালে এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয় আশ্রয়ন প্রকল্প। তালতলী উপজেলায় ৯ টি আশ্রয়ন প্রকল্প রয়েছে। পরবর্তিতে অসহায় ছিন্নমূল পরিবারেরে মাঝে বরাদ্ধ দিয়ে ঘরগুলো হস্তান্তর করার পর থেকেই তারা বসবাস করে আসছে । ৯ টি ব্যারাক’র অধিকাংশ আশ্রয়নের ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। এরপরও পরিত্যক্ত ঘরে বসবাস করছে অনেকে।
কোন কোনটির ব্যারাকের টিনের চালা বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্র হয়ে গেছে। চালের টিন চাপা দেওয়ার ফ্লাটবারের নিচ থেকে বেশির ভাগ ব্যারক হাউজের টিনগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে। যার ফলে একটু খানী বৃষ্টি হলেই সব পানি ঘরের ভেতরে পড়ে। এছাড়া অনেকগুলো ঘর নষ্ট হয়ে গেছে। এমনি চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ছোট বগী ও নিশানবাড়িয়া এবং নলবুনিয়া এলাকায়। অনেকে ঘরের মধ্যে পানি পড়া ঠেকাতে পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাছাড়া লেট্রিন ও নলকুপ গুলো অকেজো। শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ শিশুরাই জড়িয়ে পড়ছে শিশু শ্রমে। যুবক শ্রেনীর অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মাদকসহ নানা অপরাধের সঙ্গে। ৯টি আশ্রায়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ব্যারাক গুলোতে একই অবস্থা বিরাজ করছে। বাসিন্দারা জানে না ব্যারাকগুলো মেরামত কোন কর্তৃপক্ষ করবে বা কেউ করবেন কি না। তাদের দুরাবস্থার কথা কেউ শোনে না।
নিশানবাড়িয়া’র আশ্রায়নের বাসিন্দা লাইজু বেগম ঘরের মধ্যে নিয়ে দেখান বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ঘরের মধ্যে পলিথিন টানিয়ে নিয়েছেন। রোদ বৃষ্টিতে দারুন কষ্টে তারা জীবন যাপন করে আসছে। এরই মধ্যে একটি ছেলে ও দুইটি মেয়ের লোখাপড়া করাচ্ছেন। ওই প্রকল্পের বাসিন্দা জয়নাল হোসেন জানান, সিডরের সময় বিধ্বস্ত হওয়া ঘরগুলো মেরামত করা হয়নি। ফলে ওই ঘরের বাসিন্দারা অন্যত্র চলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্ধা জামাল, মালেক, জব্বার, ও আনোয়ারসহ অনেকে জানান, নানা দুর্যোসহ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ওই আবাসনের ঘরগুলো মেরামত বা সংস্কার না করায় ৮০ ভাগ ছাউনীর টিন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্রসহ অনেক স্থানে ছাউনী সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। আশ্রায়নের অধিকাংশ হত দরিদ্র মানুষ মাছ ধরে, শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। নলকুপগুলো অকেজো আজ প্রায় ৫ বছর। লেট্রিনগুলো ব্যবহারের অনোপযোগী হয়ে গেছে। নাম মাত্র রিংস্লাব দিয়ে তৈরি করা লেট্রিন ব্যবহার করছে তারা। ফলে অশ্রায়নে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যরাক হাউজে নিশানবাড়িয়া এলাকায় ৫০টি পরিবারের ১-২ শত অধিবাসী বাস করতো এখন মাত্র ২৫টি পরিবার বসবাস করে। ছোটবগী এলাকার ফেরদাউস জানান, ১০০টি পরিবারের মধ্যে হাতে গোনা ২-৩টি পরিবার ছাড়া বাকি পরিবারগুলো অন্যত্র চলে গেছে। টিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পলিথিন কিংবা খড় কুটো দিয়ে ছেয়ে জীবন যাপন করছে। সামান্য বৃষ্টি হলেও সব পানি ঘরে পড়ে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোকলেছুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বরাবর একটি প্রস্তাব করে পাঠাবেন। বরাদ্ধ এলে দ্রুত ব্যারাক গুলো মেরামতের উদ্যেগ নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD