শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড: তালুকদার মো: ইউনুস করোনায় আক্রান্ত বানারীপাড়া- উজিরপুরে সাংসদ রুবিনা মীরার কম্বল বিতরন লস্করপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সারাদেশে এমএলএম প্রতারণার নতুন ফাঁদ-হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন পরিদর্শন করলেও আশুলিয়ায় নয়নজুলি খাল উদ্ধার হয়নি কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন ওসি পুত্র নিহান বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলে পরিমলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেফতার শাজাহানপুরে করণা আক্রান্তদের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত
তানোরের মুন্ডুমালা সোনালী ব্যাংক দূর্নীতির আখড়া

তানোরের মুন্ডুমালা সোনালী ব্যাংক দূর্নীতির আখড়া

আলিফ হোসেন,তানোর ।।।
রাজশাহীর তানোরে সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালা শাখা অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়ায় গ্রাহকরা এখান খেকে মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এই শাখায় লেনদেন করতে গ্রাহকরা অনেকটা অনিহা দেখাচ্ছেন। গত এক বছরে এই শাখার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক একাউন্ট ক্লোজ না করলেও একেবারে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। গ্রাহকদের অনেকেই সোনালী ব্যাংক ছেড়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকে প্রতিদিনের লেনদেন শুরু করেছেন। এক সময় এই শাখাটি গ্রাহকদের পদচারণাই মুখরিত থাকলেও নানা কারণে গ্রাহকেরা ব্যাংকে লেনদেন করতে আসছেন না। এক সময় বিদেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো টাকার দিক দিয়ে রাজশাহী জেলায় মুন্ডুমালা শাখা প্রথম স্থানে থাকলেও এখন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। ব্যাংকে লেনদেন করতে আসা গ্রাহকদের সেবার মান তলানীতে গিয়ে ঠেকার কারণেই ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লেনদেন করছেন না বেসরকারি ব্যাংক মূখী হচ্ছে প্রতিনিয়ত।গ্রাহকদের অভিযোগ, আমনতের অর্থ উত্তোলন করতে কোন কারণ ছাড়াই ব্যাংকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে রাখা হয়। আবার বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ বা বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন করতে কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয় নইলে নগদ টাকার সঙ্কট দেখিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়। এমনকি নগদ অর্থ রাখতে নতুন করে সেভিংস একাউন্ট খুলতে ব্যাংকে গ্রাহক আসলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে তবে অবৈধ সুবিধা পেলে ঠিক কাজ করে দেয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে গ্রাহকের অর্থ আসলে সেই দিন দেয়া হয় না। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা ৫০ হাজার বা এক লাখ টাকা উত্তোলন করতে গেলে একদিন আগে কেন জানানো হয়নি এই অজুহাতে তাদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালা শাখার ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) বিরুদ্ধে। সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালা হাট শাখায় কারেন্ট একাউন্ট নম্বর ৪২৯ নিয়মিত লেনদেন করেন সামসুজোহা নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি জানান, টাকা জমা দিতে ঝামেলা হয় না, কিন্তু উত্তোলন করতেই গিয়ে নানা হয়রানী হতে হয়। হঠাৎ করে ব্যাংকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা তুলতে গেলেই ব্যাংক ম্যানেজার অসদাচারণ করেন। অপেক্ষায় রাখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
তিনি আরো জানান, ব্যবসার কাজে কখন হঠাৎ করে টাকা দরকার হয় বলা যায় না। তাই আগে থেকে টাকা তোলার কথা বলা সম্ভব হয় না। ব্যাংকের ক্যাশে টাকা থাকলেও আগে না জানানোর কারণে ম্যানেজার গ্রাহকদের টাকা দিতে চায় না।
মুন্ডুমালা গ্রামের ইদ্দ্রিস আলী নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তার একাউন্ট সোনালী ব্যাংক তানোর শাখায়। গত মাসে মুন্ডুমালা হাট শাখায় অনলাইনে টাকা উত্তোলন করতে এসে ব্যাংকের অন্য কর্মচারীরা ব্যস্ত থাকায় ম্যানেজারের কাছে যান চেক নিয়ে। প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর ম্যানেজার বাম হাতে চেক গ্রহন করে পাশাপাশি তার সঙ্গে খারাপ আচরণও করেন। সাহাবুর রহমান একজন মাদ্রাসার শিক্ষক। তার এ শাখায় একাউন্ট নম্বর ১১৭৪। তিনি জানান, এ ব্যাংকে এলাকার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষক তাদের বেতন উত্তোলন করে থাকেন। শিক্ষকদের সঙ্গে ভাল আচরণ করেন না ম্যানেজার এমন কি অনেক সময় আগে টাকা নিতে হলে কিছু টাকা কেটে নেয়া হয়। অধিককাংশ শিক্ষক বেতন তুলে অন্য ব্যাংকে নিয়মিত লেনদেন করেন। সম্প্রতি এই শাখায় নতুন সেভিংস একাউন্ট খুলতে এসে ঘুরে গেছেন আব্দুল মান্নান নামের এক গ্রাহক। তার বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান,বাড়িতে থাকা একটি গরু বিক্রি করা ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে রাখার জন্য এসেছিলেন। নতুন একাউন্ট করা যাবতীয় কাগজ পত্র সঙ্গে এনেছিলেন। কিন্ত ম্যানেজার নিজের ব্যস্ততা দেখিয়ে একাউন্ট হবে না বলে ফিরিয়ে দেন। পরে বেসরকারী একটি ব্যাংকে তার আমনতের টাকাগুলো রেখে বাড়িতে যান বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে ব্যাংকের একজন স্টাফ জানান, ম্যানেজার এ ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে গ্রাহকদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেন না। নিজেকে অনেক বড় কর্মকর্তা মনে করে গ্রাহকদের সঙ্গে ঠিকমত কথা বলতে চান না। গ্রাহকেরা তার কাছে কোন কাজ নিয়ে গেলে তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন। এতে অনেক গ্রাহকই তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাংকে লেনদেন আর করছে না। এসব বিষয়ে সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালা হাট শাখার ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, এটি সরকারি ব্যাংক কোন গ্রাহক থাকলো বা না থাকলো দেখার বিষয় আমার নয়। তারা এখানে লেনদেন না করলে আমরা তাদের তো আর ধরে রাখতে পারবো না। তবে আমি গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচারণ করি এটা সত্য নয়।।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD