বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
পাইকগাছায় এমপি’র সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ চেক পেলেন ২৯ অসহায় নারী-পুরুষ নড়াইলে স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষে সু বিশাল র‌্যালী নওগাঁর আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ আমন ধান ও চাল সংগ্রহ এর শুভ উদ্বোধন মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা নিহত পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায় সংসার খরচবন্ধ অসহায় স্ত্রী সন্তানের মানবেতর জীবন কুড়িগ্রামে আনসার ও ভিডিপি কর্তৃক জাতীয় পতাকা প্রদক্ষিণ র‌্যালী উদযাপন নড়াইলে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত আজ ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দিবস ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে- ইউএনও মিজাবে রহমত। ভালুকার মেদুয়ারী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান যুবলীগ নেতা অধ্যাপক রবিন।।
ঢাকাসহ সাভার আশুলিয়ায় বাসা বাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট-বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ!

ঢাকাসহ সাভার আশুলিয়ায় বাসা বাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট-বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ!

হেলাল শেখ।।

রাজধানী ঢাকাসহ সাভার আশুলিয়ায় বাসা বাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। দিন দিন আরও বেশি প্রকট হচ্ছে গ্যাসের এ সংকট।

জানা গেছে, কিছুদিন আগেও দিনের বেলায় গ্যাস পাওয়া না গেলেও রাতে পাওয়া যেত কিন্তু এখন গভীর রাতেও গ্যাস থাকছে না বাসা-বাড়িতে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সাভার ও আশুলিয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দাদেরই তিন বেলা খাবারের জন্য হোটেলের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে (লিকুইড পেট্রোলিয়াম) এলপি গ্যাস ব্যবহার করছে। ফলে নির্দিষ্ট নিম্ন আয়ের মানুষদের ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

এদিকে, রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীর বাসাবাড়িতে এই সংকট তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু কিছু এলাকার বিতরণ লাইনগুলো অনেক সরু হওয়ার কারণেও এই সমস্যা হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতিই সমস্যার মূল কারণ। রাজধনীতে গ্রাহকের চাহিদা দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে আমরা পাচ্ছি ১৭০০ ঘনফুট গ্যাস। প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সংকট রয়েছে। ফলে গ্যাসের সংকট বেড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বিতরণ লাইনগুলো অনেক সরু। ফলে লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা গ্রাহকরা গ্যাস পেতে সমস্যা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গ্রিন রোড, পশ্চিম ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বসিলা, যাত্রাবাড়ি, আদাবর, পশ্চিম আগারগাঁও, বাড্ডা, শ্যাওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল, লালবাগ, সোবহানবাগ, ইন্দিরা রোড, তাঁতি বাজার, শাঁখারি বাজার, কামরাঙ্গীর চর, উত্তরা, দক্ষিণ খান, বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় গ্যাস সংকট সবচেয়ে বেশি।

উক্ত এলাকার লোকজন রান্নার জন্য বিকল্প উপায় খুঁজে নিয়েছেন বা হোটেল থেকে তৈরি খাবার কিনে খাচ্ছেন।

উত্তরখানের আটিপাড়ার বাসিন্দা গৃহিণী ইয়াসমিন মাহমুদা বললেন, গ্যাস নিয়ে বলার কিছু নেই। গসকাল ৬টায় গ্যাস যায়, রাত ১২টায় আসে। এই এলাকায় গ্যাসের অবস্থা শোচনীয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে একটি সিলিন্ডার কিনেছেন তিনি। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে, পরিবারের মাসিক বাজেট কাট-ছাঁট করতে হচ্ছে। অভিযোগ করেন নিয়মিত গ্যাস না পেয়েও গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে তাদেরকে।
গ্রিন রোডের আল আমিন রোডের বাসিন্দা আরিফুল হক মুন্সী। তিনি ৫ তলা একটি বাড়ির তিন তলায় ভাড়া থাকেন। তিনি জানান, গত বুধবার রাত থেকে গ্যাস একেবারেই নেই। ৬ সদস্যের পরিবারের তিন বেলার খাবারই পাশ্ববর্তী হোটেল থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। আরিফুল বলেন, আমি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। নির্দিষ্ট আয় দিয়েই পরিবার নিয়ে চলতে হয়। কিন্তু এখন তিনবেলা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়ার কারণে আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে প্রচণ্ড বিপদে পড়তে হবে।

পশ্চিম আগারগাও এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, তাদের এলাকায় ব্যাপক গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সকালবেলায় গ্যাস চলে যায়। গভীর রাতে গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ কম থাকে।

উত্তর শ্যামলী ও পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় সকাল ৭টার আগেই গ্যাসে চলে যায়। আবার রাত ১১টার পরে আসে। এর ফলে তাদের রান্নায় ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিমাসে গ্যাসের বিলও দেওয়া হচ্ছে। কিন্দু আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। তিতাসের পাইপলাইন গ্যাস সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর বহু এলাকায় এখন সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন গৃহিণীরা। কারণ তিতাসের গ্যাস সারাদিনই থাকে না। অনেকেই বলছেন, তারা বড় বিপাকে আছেন। কারণ তিতাসের লাইনের গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসে তাদের বিল গুণ হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিমাসেই গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকলেও ঢাকার আশপাশের এলাকায় কিছু কিছু’ জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকার কারণে রাজধানীর ভেতর গ্যাস সংকট প্রকট হচ্ছে। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এইরকম সাভার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষগুলো বিপাকে পড়েছেন বলে অনেকেই জানান।

এ বিষয়ে সাভার তিতাসগ্যাস কোম্পানির একজন অফিসার জনাব হাবিব বলেন, এর আগে কয়েক মাসে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন জব্দ করা হয়েছে, সেই সাথে অবৈধ ভাবে যারা গ্যাস ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় ১০টি মামলা করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD