রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
পুনরায় নৌকা মার্কা পেয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সৈয়দ আহমেদ মাষ্টার কেশবপুরে চমক দেখিয়ে ১১টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ঘোষনা নড়াইলে পুলিশ সুপার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ও পুরস্কার বিতরণ করেন।এসপি প্রবীর কুমার রায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোঁপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ১১ মাসে ঝিনাইদহ বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা আদায় আড়াই কোটি টাকা নাচোলে কাগজ সত্যায়িত করতে ৩ কর্মদিবস! নড়াইলে কবিয়াল বিজয়সরকারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন তানোরে সুজনের শীতবস্ত্র বিতরণ বানারীপাড়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন বানারীপাড়ায় চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক
রাজশাহী-১ অনেকের টার্গেট আলোচনায় ফারুক

রাজশাহী-১ অনেকের টার্গেট আলোচনায় ফারুক

তানোর )রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী ) ভিআইপি এই সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরী এবারো এই আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। ভিআইপি এই আসন অনেকের টার্গেট হলেও ঘুরে ফিরে আলোচনায় রয়েছে এমপি ফারুকের নাম। এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমপি ফারুক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নাই। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলটিতে তেমন কোনো দলীয়কোন্দল না থাকায় এমপি ফারুক অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। নব থেকে বড় কথা এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমপি ফারক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নেতৃত্ব এখানো গড়ে উঠেনি তার সম্ববনাও নাই। ইতমধ্যে এমপি ফারুক চৌধূরী নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করে তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এমপি ফারুক ব্যতিত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠে নেমেছেন (সাবেক) ডিআইজি মতিউর রহমান, গোদাগাড়ীর (সাবেক) উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপদি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানীসহ মোট ৭ জন নেতা। রাজনীতির মাঠে এরা সেভেন স্টার নামে পরিচিত লাভ করেছে ইতমধ্যে তারা পোস্টার ও ব্যানার ফেস্টুনের মধ্যে দিয়ে নেতাকর্মীদের জানান দিচ্ছেন, তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে সাড়া জাগাতে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে সেভেন স্টার সভা-সমাবেশে প্রবাশ্যে এমপি ফারুকের মনোনয়ন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে, এতে তৃণমূলে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত,রাজনৈতিক দলের দলীয় মনোনয়ন যে কেউ চাইতেই পারে তবে দেয়া না দেয়া এটা সম্পূর্ণ দলের নীতিনির্ধারকদের হাতে। কিšত্ত যখন কারো মনোনয়ন ঠেকানোর ঘোষণা দেয়া হয় তখন বুঝতে হবে নেপথ্যে অন্য কিছু রয়েছে। এছাড়াও যারা এমপি ফারুকের বিরোধীতা করে মাঠে নেমেছেন তাদের কেউ এমপি ফারুকের শূণ্য স্থান পূরুণের মতো তেমন কোনো যোগ্যতাই রাখে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তৃণমূলের ভাষ্য, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে দু’বার উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করে দু’বারই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রার্থী (শারীরিক প্রতিবন্ধী) এমরান আলীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। অথচ তানোরের দ্বিগুন ভোটর রয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলায়। অন্যদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার (সাবেক) চেঢারম্যান আতাউর রহমান তিনিও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রাথীর কাছে পরাজিত হয়েছেন এছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে ও বয়সের ভারে তিনি অনেকটা আনফিট। আবার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মতিউর রহমান তানোর-গোদাগাড়ীর রাজনীতিতে তার তেমন কোনো অবস্থানই নাই, এছাড়াও পুলিশের লোক বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটা নেতিবাচক ইমেজ তো রয়েছেই। অপরদিকে অন্য যারা রয়েছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের নিয়ে আলোচনা করার মতো তেমন কোনো অবস্থানই তারা তৈরী করতে পারেনি বলে প্রচার রয়েছে। এসব বিবেচনায় এখানে আবারো চতুর্থ বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন এমপি ফারুক চৌধূরী এটা প্রায় নিশ্চিত।
অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত জোটে কোন্দল স্পস্ট হয়ে উঠেছে, জোটগত ভাবে নির্বাচন হলে এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী হবে সাবেক এমপি ও জামায়াতের (ভারপ্রাপ্ত) আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমন দাবি জামায়াতের। সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক এমপি ও জামায়াতের (ভারপ্রাপ্ত) আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। এমনকি তিনি এখন রীতিমতো বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও (সাবেক) ডাকমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের গলার কাটায় পরিণত হয়ে উঠেছেন। একদিকে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি অন্যদিকে নানা অভিযোগে ব্যারিস্টার আমিনুলের চরম ইমেজ সংকট থাকায় এই আসনে মজিবুর রহমানকে প্রাধান্য দিচ্ছে জোটের শরিকরা। ফলে এই আসনে এবার মজিবুর রহমানের প্রার্থী হবার দাবির প্রতি জোটের সমর্থন বাড়ছে। এসব বিবেচনায় এবার এখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার আমিনুলের পরিবর্তে মজিবুর রহমান আসছে এটা প্রায় নিশ্চিত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে ব্যারিস্টার আমিনুল অনেকটা বেকায়দায় রয়েছেন। জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসন জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত এবং এখানে জামায়াতের বড় াঙ্কের একটি নিদ্রিষ্ট ভোট ব্যাংক রয়েছে। যে কারণে জামায়াত এবার এই আসন ছাড়তে নারাজ তাঁরা যে কোন মুল্যের বিনিময়ে এই আসনে মুজিবুর রহমানকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। এমন কি সাংগঠনিক ভাবে এই আসনে নির্বাচন করার জন্যে ইতমধ্যে মাঠে নেমেছে জামায়াত। বিএনপি জোটে থাকলেও জামায়াত এই আসন দাবি করে প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনের সকল প্র¯ত্ততি সম্পন্ন করেছে দলটির তৃণমূল। অপরদিকে বিএনপি থেকে (সাবেক) ডাকমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, (সাবেক) সচিব ড, জহুরুল ইসলাম, সাজেদুর রহমান মার্কনী ও (সাবেক) যুগ্ম-সচিব গোলাম মোর্তুজা ও প্রবাসি বিএনপি নেতা অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহীন প্রমূখ। ফলে একাধিক প্রার্থীর বিষয়টিও জোটের ভাবনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। আর বিএনপির এই একাধিক প্রার্থীর বিরোধের অবসান ঘটাতেও মজিবুর রহমানের বিকল্প নাই। কারণ বিএনপির একাধিক প্রার্থীই ব্যারিস্টার আমিনুলের বিষয়ে ছাড় দিতে নারাজ এ বিষয়টিও মজিবুরের পক্ষে সহায়ক হয়ে উঠেছে। কেননা ব্যারিস্টার আমিনুলের িিবষয়ে ছাড় দিতে নারাজ থাকলেও মজিবুর রহমানের বিষয়ে বিএনপির একাধিক প্রার্থীরই কোনো আপত্তি নাই বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সুত্রে জানা গেছে বিগত ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে তানোর গোদাগাড়ী বাসী ভোট দিতে পারলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন নি । এ জন্যে আগামি একাদশ নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত যাতে না হতে হয় সেই ভাবনায় চা আড্ডায় সাধারণের মধ্যে জাতীয় ভোটের আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৮ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা কারণে একাধিক বার কারাভোগ করতে হয়েছে অধ্যাপক মজিবুর রহমান কে। অথচ তিনি মাঠে ছেড়ে যাননি থেকেছেন তৃণমূলের মাঝে। কিšত্ত ব্যারিস্টার আমিনুল হক ঠান্ডা ঘরে থেকে দলে নিজের বশংবদ সৃষ্টি করতে গিয়ে চরম দলীয়কোন্দল জন্ম দিয়েছেন। তার ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে হচ্ছে তৃনমুল নেতাকর্মীদের। তাঁর ভূল রাজনীতির ফলে স্থানীয় নির্বাচনে ৪টি পৌরসভার মধ্যে তিনটি ও ইউপি নির্বাচনে রাজনীতির ইতিহাসে তানোরে ৭ ইউপি জয় পান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অথচ জামায়াতের একটি নিদ্রিষ্ট ভোট ব্যাংক থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতকে কোন ধরনের ছাড় দেয়নি বিএনপি তথা ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ফলে জামায়াত বাধ্য হয়ে দলের অস্থিত্ব ও নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী দিয়ে এককভাবে ভোট করেন। আর এতে কপাল পুড়ে বিএনপির বড় পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে খেসারত দিতে হয়। সারাদেশ ব্যাপী জামায়াত স্থানীয় নির্বাচন জোট গতভাবে করার সিদ্ধান্ত নিলেও তানোর-গোদাগাড়ী এলাকায় ব্যারিস্টার আমিনুল বিষয়টি আমলে নেননি। যে কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত থেকে প্রার্থী দেয়া না হলে তারা একক ভাবে প্রার্থী দিয়ে এই আসনে ভোট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ব্যারিস্টার আমিনুলের ঢাকামুখী রাজনীতির কারনে বিএনপির ঘরে ঘরে লবিং-গ্রুপিং তৃণমূল নেতাদের মাঝেও রয়েছে প্রকট দন্দ। কয়েক ভাগে বিভক্ত এই আসনের বিএনপি। জামায়াতের একাধিক সূত্র জানান, তারা ইতমধ্যে আগামী জাতীয় ভোটের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন এমনকি এই আসনে ১২৭টি কেন্দ্রে দলীয় পুলিং এজেন্ট থেকে শুরু করে নির্বাচনী কমিটি পর্যন্ত গঠন করা হয়েছে । কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি মোটামোটি এক প্রকার সম্পন্ন করা হয়েছে । শুধু জাতীয় নির্বাচন আগামীতে এই দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়নে ৪ টি পৌরসভায় ও দুটি উপজেলায় একক প্রার্থী দিয়ে ভোটের মাঠে থাকতে চায় জামায়াত এমন দাবি নেতাদের। তাঁরা আরো জানান ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক মজিবুর রহমান নির্বাচিত হয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলন। তারা আরো জানান দুই উপজেলায় জামায়াত নেতারা প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন । সুতরাং জামায়াতের ভোট দিন দিন বাড়তেই আছে কমছে না। তানোর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান এই আসনের প্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন কেন্দ্রীয় ভাবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে আছে এবং তিনিই আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকবেন এলক্ষে জামায়াত সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান এই নেতা। এব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের আমীর সিরাজুল ইসলাম বলেন কেন্দ্রীয় ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে কোন মূল্যে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করবেন । এব্যাপারে তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জামায়াত এখনো জোটে আছে তাঁরা প্রার্থী দিতেই পারেন । তবে আমার বিশ্বাস জোট যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটা তাঁরা মানবেন।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD