সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
রশিদ কাজীকে ইয়ারপুরের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে এলাকাবাসী দেখতে চায় পানছড়িতে ৩ বিজিবির উদ্যোগে আর্থিক সাহায্য ও অনুদান প্রদান নৌকার প্রার্থী মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত জাতির পিতার মাজার জিয়ারত করেছেন পূবাইল থানা আওয়ামীলীগ নেতারা মহেশপুর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন -বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অভিযানে ১২ কেজি রূপার গহনা জব্দ পঞ্চগড়ে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ সংক্রান্তে পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং বানারীপাড়ায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা বখাটে আটক পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপি নির্বাচন ৫ জানুয়ারি-সাভারে রয়েছে জটিলতা তৃতীয় ধাপে নওগাঁয় দুুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে
পঞ্চগড় রাজারপাঠডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প তিন দিক নদী বেষ্টিত

পঞ্চগড় রাজারপাঠডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প তিন দিক নদী বেষ্টিত

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: তিন দিকে নদীবেষ্টিত পঞ্চগড়ের রাজারপাঠডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাসিন্দাদের জীবন কাটছে অনেকটা নির্বাসনের মতো। একদিকে সমতলভূমি থাকলেও তা দিয়ে বের হওয়ার রাস্তা পাচ্ছে না তারা। নেই বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক। যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে রোগীদেরও। আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানায়, ২০০১ সালে ভূমিহীন ৩০ মুক্তিযোদ্ধা এবং ১২০ হতদরিদ্রকে ৫.৫০ শতাংশ করে খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে গড়ে ওঠে রাজারপাঠডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প। একেকটি পরিবারের জন্য আড়াই শতাংশ জমির ওপর সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বেশির ভাগ ঘর ফুটো হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে। কমিউনিটি সেন্টার দুটি পরিত্যক্ত। পয়োনিষ্কাশনের অভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানাগুলো অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই কষ্ট করে জীবন যাপন করছে আট শতাধিক মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে রাজারপাঠডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প। এটি সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে অবস্থিত। দেখতে অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। আশ্রয়ণের পশ্চিম ও দক্ষিণে করতোয়া এবং পূর্বে চাওয়াই নদী। উত্তর প্রান্তে একটি সরু আলের মতো ব্যক্তিমালিকানা জমি থাকলেও গত বর্ষায় তা ভেঙে গেছে। তিন দিকে বয়ে যাওয়া নদীতে কোনো সেতু না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে হাঁটুপানি ভেঙে লোকালয়ে পৌঁছানো যায়। বর্ষায় নদী পার হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। ফলে এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা যেমন কষ্টকর হয়ে পড়ে, তেমনি চিকিৎসাসেবা পাওয়াও দুষ্কর হয়। বেশির ভাগ সময় শিশুরা তাদের মা-বাবার কোলে চেপে নদী পার হয়। তুলনামূলক যারা একটু বড় তারা নদী পার হয়ে ভেজা কাপড় পাল্টে স্কুল-কলেজে যায়। আশ্রয়ণের পুরুষরা সবাই শ্রমজীবী। যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় সময়মতো কাজেও যেতে পারে না তারা। সম্প্রতি এক সকালে আশ্রয়ণের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চাওয়াই নদীর পারে গিয়ে দেখা যায়, কেউ বইয়ের ব্যাগ কাঁধে করে নদী পার হচ্ছে, আবার কেউ সন্তানকে কোলে করে নদী পার করে দিচ্ছেন। এভাবে দল বেঁধে নদী পার হয়ে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। কেউ কেউ কোমর পানি ভেঙে ওপারে গিয়ে কাপড় পাল্টে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। এভাবে অনেক সময় বিদ্যালয়ে যেতেও দেরি হয়ে যায়। দুপুর ও বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি হলে অভিভাবকরা আগের মতো সন্তানদের নদী পার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। বাসিন্দারা জানায়, চাওয়াই নদীর ওপর সেতুর অভাবে এই আশ্রয়ণের মানুষেরা সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়ছে। সরকারি অনেক সেবা তাদের কাছে পৌঁছে না। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ছুটতে হয় জেলা সদরে। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীকে জেলা সদরে নিয়ে যেতে সময় লাগে দু-তিন ঘণ্টা। এভাবে সময়মতো চিকিৎসার অভাবে প্রসূতিসহ বিনা চিকিৎসায় ১০ রোগী মারা গেছে। ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা বশির উদ্দিন বলেন, ‘১৮ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এর মধ্যে সরকার বদল হয়েছে। সবাই আশ্বাস দিয়েছে, কেউ কথা রাখেনি। সড়ক ও সেতু না থাকায় আমরা নির্বাসনের মতো দিন কাটাচ্ছি। চিকিৎসার অভাবে এখানে মানুষ মারা যাচ্ছে। আর কত মানুষ মারা গেলে সরকারের এখানে দৃষ্টি পড়বে?’ কেন্দ্রের শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্বাস আলী বলেন, ‘প্রতিদিন নদীর পানি ডিঙিয়ে স্কুল, কলেজ ও হাট-বাজারে যেতে হয়। বর্ষাকালে নদীর দুই কূল ভরে যায়। তখন শিশুরা নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে পারে না।’ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পারভীন আক্তার বলে, ‘প্রতিদিন হাঁটুপানি, কোমরপানি দিয়ে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হয়। কাপড় ভিজে যায়। ওপারে গিয়ে আবার কাপড় বদলে তারপর স্কুলে যাই। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়। স্যারেরা বকাঝকা করেন। ছোট থেকে এভাবেই স্কুলে যাচ্ছি।’ গৃহিণী খোদেজা খাতুন বলেন, ‘আমরা এখানে বন্দির মতো আছি। সেই যে দেড় যুগ আগে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করে দিয়েছে, তারপর উন্নয়ন হয়নি।’ এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল আলীম খান ওয়ারেশী বলেন, ‘এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষেরা যাতে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে জন্য আমরা সব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিজ নিজ দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। আশা করি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD